Category Archives: Blog
হঠাৎ রাস্তায় একদিন।
বিবেকানন্দ রাস্তায় বেরিয়েছে চা আর সিগারেট খাবে বলে। এমন সময় পাড়ার দুই হুজুর এসে পাকড়াও করলো।
প্রথম হুজুর বলল: তোকে না বলেছিলাম ইচলাম ধর্ম নিয়ে কোন স্ট্যাটাচ দিবিনা, তা তুই দিলি কেন?
এবার দ্বিতীয় হুজুর বলল: তুই হিন্দু, হিন্দু ধর্ম নিয়ে লেখা লেখি কর, আমাদের কোন আপত্তি নাই, কিন্তু যে বিষয় তোর জ্ঞান নেই সে বিষয় লিখতে যাস কেন?
বিবেকানন্দ বেশ ভয়ে ভয়ে বলল – আজ্ঞে, আমি হিন্দু নই, আমি নাস্তিক।
প্রথম হুজুর: তুই তো এখন নাস্তেক কিন্তু তোর জন্ম তো হিন্দু ঘরে।
বিবেকানন্দ বলল : না, আমার বাবা মা ও নাস্তিক ছিল ।
হুজুর যেন বেশ মজা পেয়ে গেছে, এভাবে বলল তা বেশ ভালো, সমৎকার। তা তোর নাম টা হিন্দু হিন্দু কেন?
বিবেকানন্দ বলল – আমার জন্ম যখন হয় তখন বাবা মারা যায় দাঙ্গায়। আমার মা আমাকে প্রথমে মুসলমানদের ভয়ে নাম দিয়েছিল আব্দুল্লাহ।
আমি স্কুলে ও এই নামে ভর্তি হই । তার পর বড় হয়ে যখন লেখা লেখি শুরু করি তখন সবাই বলতো তুই হিন্দু হয়ে মুসলমান নাম রাখলি কেন? তুই একটা ছুপা । তার পর আমি নিজেই আমার নাম পাল্টে বিবেকানন্দ রাখি।
তখন সবাই বলে তুই হিন্দু হয়ে মুসলমান ধর্ম কে বাঁশ দিস কেন? এখন আপনারা বলুন আমি কয়বার নাম চেঞ্জ করবো?
আমি কিন্তু সব ধর্মের বিরুদ্ধেই লিখতাম কারন আমার বাবা মারা যাওয়ার পর আমারা কাউকে পরিচয় দেইনি আমারা হিন্দু। আমাদের কিন্তু কোন ধর্মেই বিশ্বাস ছিল না।
হুজুর বলল: তুই তো নাস্তেক, তো তুই একটা নাস্তেক নাম রাখবি যেমন চার্লস ডারউইন, অথবা হিটলার।
বিবেকানন্দ বলল – দেখুন চার্লস ডারউইন, বা হিটলার কেউই নাস্তিক ছিল না তারা ছিল মুসলমান।
হুজুর ক্ষেপে গিয়ে বলল: তারা মুসলমান হয় কিভাবে?
বিবেকানন্দ বলল – তারা ঈসা নবীর অনুসারী ছিল অর্থাৎ মুসলমান। আর আপনাদের মতে আদম (আঃ) থেকে শুরু করে সবাই মুসলমান, তো চার্লস ডারউইন, আর হিটলার কে বাদ দিবেন কেন?
হুজুর এবার আরও ক্ষেপে গিয়ে বলল: তোকে তো আগেই বলেছি, কোরান হাদিস না পড়ে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু লিখবি না, তোর এত সিমিত জ্ঞান নিয়ে লিখিস কেন?
বিবেকানন্দ বলল – আমি তো ইসলাম ধর্ম নিয়ে কিছু লিখিনি, শুধু স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম যে একটা শান্তির ধর্ম আছে, নাম বলব না, যেটার বিরুদ্ধে কিছু লিখলে কল্লা থাকবে না।
হুজুর বলল: চালাকি পেয়েছিস না? কোন ধর্মের বিরুদ্ধে লিখলে তোর কল্লা থাকবে না সেটা কি আমি বুঝি না?
পবিত্র রমজানের প্রথম দিন
রাস্তায় বেরিয়েছি একটু হাওয়া খাব বলে, আর অমনি আবার দুই হুজুর আমাকে পাকড়াও করলো। বলল আসেন আমরা একসাথে ইফতারি করি। আরেকজন বলল বেস ভাল ইফতারির আয়োজন করা হয়েছে আমাদের মসজিদে। গরুর হালিম, জিলাপি… বলতে বলতে হুজুরের জিভে পানি এসে গেল।
আমিও লোভ সামলাতে না পেরে বললাম চলেন। অজু টজু করে বসলাম মসজিদে। গিয়ে দেখলাম হুজুর মিথ্যা বলেনি। বিপুল ইফতারির আয়োজন। আজান দিতেই ভালো মত পেট পুরে খেলাম।
এবার হুজুর বললেন – ইফতারি যখন করেছেন, মাগরিবের নামাযটা ও পড়ে যান। আমি দেখলাম বেস ভালো মত খেয়েছি, তো নামাজ না পড়লে হুজুর নারাজ হবেন, তাই নামায টা ও পড়ে নিলাম।
এবার হুজুর বয়ান শুরু করলেন – রমজানের কতো ফজিলত, রোজা অত্যন্ত বিজ্ঞান সম্মত একটা ব্যবস্থা। এখানে একমাস সিয়াম সাধনা করা হয়, মানে আমারা সকল পাপ থেকে দূরে থাকি আর আমাদের শরীর টাও সুস্থ থাকে।
সবাই বলল, হু, আল্লাহ মালিক সব ব্যবস্থা সুন্দর করে রেখেছেন আমাদের জন্য।
আমি বললাম আচ্ছা আল্লাহ কি জানতো না যে পৃথিবীর কোথাও কোথাও ২২-২৩ ঘণ্টা রোজা রাখা লাগবে? তারা তো মারা যাবে। আর উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরুতে তো ৬ মাস দিন আর ৬ মাস রাত, ওখানে কিভাবে রোজা রাখবে?
হুজুর বিরক্ত হয়ে বলল, আরে পাগল, ওইসব দেশে কি মুসলমান আছে?
আমি বললাম, না নেই, যারা ছিল তারা হয় মারা গেছে, না হয় নাস্তিক হয়ে গেছে, বলে দ্রুত রাস্তায় নেমে পড়লাম।

নবী সাহেবের একদিন
[এই গল্পের প্রতিটি চরিত্র কাল্পনিক। জীবিত, মৃত বা বাস্তব কোন ব্যক্তির সাথে মিল থাকা নিতান্ত ঘটনা চক্রের সংঘটন !!! ]
মোহাম্মাদ নবী আলম সাহেব একজন শিল্পপতি। তিনি বিশাল এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক, যা তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী খাদিজার কাছ থেকে পেয়ছেছেন । তার প্রথম স্ত্রীর সাথে তার বিয়ে হয় যখন তার বয়স মাত্র ২৫ বছর। খাদিজার বয়স তখন ৪০। খাদিজা তার স্বামীকে হারিয়ে একজন শক্ত, সামথ জোয়ান ছেলে খুছছিলেন বিয়ে করার জন্য, যে তার সব ব্যবসা সহ, সব ধরনের খেয়াল রাখতে পারে।
Continue reading
শূন্যস্থান পূরণের ঈশ্বর কুযুক্তি (God of the Gap Fallacy)
এবার আরেকটা লজিকাল ভ্রম নিয়ে আলোচনা করছি, এটা হল শূন্যস্থান পূরণের ঈশ্বর কুযুক্তি (God of the Gap Fallacy)
এই লজিকাল ফালাসিটা অনেকটা Argument from Ignorance Fallacy এর মতই। এটারও উৎপত্তি অজ্ঞতা থেকে।
প্রাচীন গ্রীক দেব দেবীগুলি যদি খেয়াল করেন অথবা হিন্দুদের দেব দেবী গুলো যদি খেয়াল করেন তবে দেখবেন যে তাদের প্রত্যেকের ই একটা কাজ আছে। যেমন কেউ আপনাকে বিদ্যা দিবে, কেউ টাকা দিবে, আর কেউ স্বাস্থ্য। এদের পিছনে সুন্দর সুন্দর কাহিনী ও প্রচলিত আছে। কিন্তু আমরা কেউ ই সেগুলি বিশ্বাস করিনা, কারণ এসব দেব দেবীর উৎপত্তি প্রচলিত কাহিনী থেকে।
মানুষ যখন থেকে চিন্তা করতে শুরু করেছে, তখন থেকেই তার জানার আগ্রহ প্রবল। এটাও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য একটি মানসিক প্রক্রিয়া যেটা বহুদিনের বিবর্তনের ফল। এটা শুধু মানুষের নয়, সব পশু পাখির জন্য প্রযোজ্য। মানুষ আর সব জীব জন্তু প্রকৃতির কাছে অসহায়, আর তাই তাদের মধ্যে ভীতি কাজ করে। মানুষ বাঁচবার জন্য যে কোন বিপদ সঙ্কেত কে বিশ্বাস করে এবং ভয় করে কারণ ভুল জিনিষে ভয় করে পালিয়ে গেলে কোন ক্ষতি নেই কিন্তু যে জিনিষে ভয় পাওয়া উচিৎ সেটা তে ভয় না পেলে বিপদ।
প্রকৃতির বশবর্তী হয়ে থাকা মানুষের মোটেও পছন্দ নয়, তাই মানুষ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। একজন অসীম ক্ষমতাবান কিছু একটা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে, এই ধরনের ধারনা মানুষের বহু পুরনো। আর এই ধারনা থেকেই এই সব কাহিনী আর গড গুলার সৃষ্টি।
অর্থাৎ গড কে বসানো হয় কোন একটি ঘটনার ব্যাখ্যা হিসাবে। যেমন আগে ধারনা করা হত যে থর বজ্র-বিদ্যুৎ, ঝড় ঘটান। কিন্তু বিজ্ঞানীরা যখন বজ্র-বিদ্যুৎ, ঝড় এর প্রকৃত কারণ বের করলো, তখন থর কে বিদায় নিতে হল।
তো দেখা গেল একটি প্রাকৃতিক ব্যাখ্যার কাছে অতি-প্রাকৃতিক ব্যাখ্যার পরাজয় হোল আর ওখান থেকে শূন্যস্থান পূরণের ঈশ্বর থর বিদায় নিলেন।
এভাবে যত গড অফ দি গ্যাপ গড ছিল, নতুন আবিষ্কারের সাথে সাথে তারা বিদায় নিতে থাকেন। যেমন রোগ বালাই কেন হয়? ভগবান দেন। germ theory আবিষ্কার হওয়ার পর ভগবান সেখান থেকে বিদায় নিলেন।
এগুলো তো গেল জানা প্রশ্ন, এবার আসুন অজানা প্রশ্নে। যদি জিজ্ঞাসা করেন এই মহা বিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হল? বিজ্ঞানীরা বলবে আমারা জানিনা আর ধার্মিক রা বলবে আমি জানি আমি জানি, সৃষ্টিকর্তা বানিয়েছেন। মানুষের সৃষ্টি কিভাবে হল? বিজ্ঞানীরা বলবে জানিনা আর ধার্মিকরা বলবে আমরা আগের থেকেই জানি।
এটাই হল বিজ্ঞান আর ধর্মের মধ্যে পার্থক্য। বিজ্ঞান তথ্যের উপর নির্ভরশীল, যেগুলো বাস্তব। বিজ্ঞানের নতুন তথ্য আসার সাথে সাথে তাদের মতবাদ ও পরির্তন হয়। ধার্মিক রা আগের থেকেই জানে কেউ একজন সৃষ্টিকর্তা আছে। তারা আপনাকে কোন প্রমাণ দিতে পারবেনা। তার পরেও জানে একজন, দুইজন না। একবার একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনি কিভাবে জানলেন একজন। সে বলল দুইজন হলে মারা মারি লাগত।
যথার্থ বলেছেন একজন মুমিন। বিজ্ঞানীরা যেখানে ব্যর্থ আল্লাহর কাজ (চাপাবাজি) সেখান থেকে শুরু।

২১ এ ফেব্রুয়ারিতে শহিদ মিনারে ফুল দেওয়া ও ইসলাম
হুজুরের সাথে শহিদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। হুজুর বলল: সাবধান, ফুল দিয়ে পূজা করে ঈমান হারা হইয়েন না !! এটা শিরক ও নাজায়েজী কাজ।
আমি বললাম আমি তো ফুল দিয়ে পূজা করছি না, ফুল দিয়ে যারা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
শুনে হুজুর আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন: কিসের প্রতি শ্রদ্ধা??? ইটের ঢিবির প্রতি….??
আমি বললাম না, যারা শহিদ হয়েছেন তাদের প্রতি।
Continue reading
ভ্যালেন্টাইনস ডে পালন এবং বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ
পশ্চিমা বিশ্বে ১৪ ই ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ তাৎপর্য পূর্ণ দিন। এই দিনে প্রেমিক প্রেমিকারা তাদের ভালোবাসা সেলিব্রেট করে।
বাংলাদেশেও ভ্যালেন্টাইন ডে উদযাপিত হয়ে আসছে বেশ কিছু দিন ধরে। আমাদের দেশে তো অনেক আগে থেকেই পশ্চিমা কালচারের ছোঁয়া অনুভূত হয়ে আসছে । যেমন আমরা পাঞ্জাবি পায়জামা না পরে কোট টাই এবং জিনস আর টি শার্টে বেশি স্বাছন্দ বোধ করি।
বাংলাদেশে আরেকটি কালচার আছে যেটা হোল ধর্মীয় কালচার। এরা আরব দেশের কালচার কে নিজেদের কালচার মনে করে। পারলে বাংলা বাদ দিয়ে এরা আরবিতে কথা বলবে, যদিও এরা তেমন একটা আরবি বোঝে না।
তো ভালোবাসা একটি অত্যন্ত পবিত্র জিনিষ। স্বামী স্ত্রী অথবা প্রেমিক প্রেমিকা একে অপরকে ভালো বাসবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভালোবাসা দিবস নিয়ে বাংলাদেশে যত গণ্ডগোল। এক দল লোক এটাকে বিশ্ব বেহায়া দিবস বলে গালি দিচ্ছে।
Continue reading
জাকির নাইকের মিথ্যাচার ৪: – যীশু একজন মুসলিম

আবার মুসলিমদের সেই পুরানো ঘাউড়ামি, তারা যেটা সত্য মনে করে সেটাই সত্য আর বাকি সবাই মিথ্যা। মুসলিমরা দাবি করে ইসা বা জিসাস তাদের মেসেঞ্জার বা নবী, তাই ইসা বা জিসাস মুসলিম। কিন্তু যদি জিজ্ঞাসা করেন হিটলার তো যীশু কে ইশ্বর মেনে ৬ মিলিয়ন ইহুদি হত্যা করেছিল, তো হিটলার কি তাহলে মুসলিম ছিল না? কিন্তু না, তারা পৃথিবীর প্রথম থেকে সবাই কে মুসলিম দাবি করলেও, এবং যীশু কে মুসলিম দাবি করলেও যীশুর অনুসারি হিটলার একজন মুসলিম ছিল এটা মানতে রাজি না। তখন তারা নিয়ে আসে মুসলিম শব্দের অর্থ নিয়ে।
Continue reading
জাকির নাইকের তিনটি মিথ্যাচার



