হুজুরের সাথে শহিদ মিনারে ফুল দেওয়া নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। হুজুর বলল: সাবধান, ফুল দিয়ে পূজা করে ঈমান হারা হইয়েন না !! এটা শিরক ও নাজায়েজী কাজ।

আমি বললাম আমি তো ফুল দিয়ে পূজা করছি না, ফুল দিয়ে যারা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

শুনে হুজুর আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন: কিসের প্রতি শ্রদ্ধা??? ইটের ঢিবির প্রতি….??

আমি বললাম না, যারা শহিদ হয়েছেন তাদের প্রতি।

shohod_miner_m2_149888995এবার হুজুর একটু বিরক্ত হয়ে বল্লেনঃ ইটের একটা ঢিবির উপর ফুল দিলে শহীদদের কি লাভ? সাবধান, ফুল দিয়ে পূজা করে ঈমান হারা হইয়েন না !! এটা শিরক ও নাজায়েজী কাজ। তার চেয়ে যদি পারেন খোঁজ নিয়ে একটা কাজ করলে ভালো হয়, শহীদের কবর কোথায় আছে খোজ নিয়ে কবর জিয়ারত করেন, না হলে নামাজ পড়ে তাদের আত্মার মাগফেরাতের জন্য খাস দিলে দোয়া করেন। এতে তাদের আত্মার শান্তি হবে।

আমি বললাম আমি দোয়া টোয়ায় বিশ্বাস করি না। তাদের আত্মা আছে তা ও বিশ্বাস করিনা। আর শহিদ মিনারে ফুল দিলে এটা পূজা হয় কিভাবে?

হুজুর যেন এবার আকাশ থেকে পড়ল। উনি অবাক হয়ে বলেনঃ আপনি আত্মায় বিশ্বাস করেন না? আপনার শরীর টা তাহলে কিভাবে চলছে? আর তাহলে ফুল কেন দিচ্ছেন? এটা কি লোক দেখানো শ্রদ্ধা নয়? আর শহিদ মিনারে খাম্বায় ফুল দিয়ে মাথা নত করে দাঁড়ানো, এক মিনিট নিরবতা পালন আর মূর্তি পুজা করা একই কথা, সবই বেদাত, হারাম, ইসলামে নিষেধ আছে। আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দেন, কিন্তু শিরক কোন দিন মাফ হবে না।

আরেক পাতি হুজুর পাশের থেকে ফোঁড়ন কেটে বল্লঃ আপনি আত্মায় বিশ্বাস করেন না, তাহলে তো আপনি নাস্তিক। নাস্তিক রা বাস্তব বাদি হয় শুনেছি, তো একটা জিনিষ আমার মাথায় আসেনা, আপনি …শহীদ মিনারে গিয়ে স্যলুট কাকে করেন? সেখানে কি কেউ বসে থাকে স্যলুট নেবার জন্য? আবার আত্মার শান্তির জন্য মোমবাতির ব্যবস্থা। হা হা হা …!! মোমবাতি তো খ্রীস্ট্র ধরমের উপাসনার সামগ্রী, আর ফুল হিন্দুদের।

এবার বড় হুজুর বল্লেনঃ শহিদ জিনিসটা এত ছেলেখেলা নয়। বাংলা ভাষা এমন কোন গুরুত্বপূর্ন বিষয় নয় যে তার জন্যে কেউ মারা গেলে তাকে শহিদ বলতে হবে। অথচ আমরা তাদেরকে শহিদ বলে রাস্তায় রস্তায় মূর্তি তৈরি করে তাতে ফুল দিয়ে পুজা করছি, এটা কি ঠিক ?

সালাম বরকত রফিক – এরা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল , ইসলামের জন্যে না। তাই তাদেরকে কোনভাবেই শহিদ বলা যাবে না। শহিদ হলো তারাই যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দেয়। বাংলা ভাষা ইসলামের কাছে কোন গুরুত্বই বহন করে না। ইসলামের ভাষা একটাই সেটা হলো আরবী। আল্লাহর ভাষা আরবী, তাই আরবী ভাষায় কোরান নাজিল করেছে।

আমি উঠে পড়লাম। এদের জন্য আমার মনে কষ্ট হচ্ছিলো। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য যুদ্ধ করে যারা পুলিশের গুলি খেয়ে জীবন দিয়েছিলো, যাদের আত্ম ত্যগের জন্য আজ আমরা বাংলায় কথা বলতে পারছি, তাদের কথা চিন্তা করতে করতে রাস্তা পার হয়ে বাড়ির দিকে চললাম।

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading