জাকির নাইকের মিথ্যাচার ৪: – যীশু একজন মুসলিম

—

2–3 minutes

Copy Paste

আবার মুসলিমদের সেই পুরানো ঘাউড়ামি, তারা যেটা সত্য মনে করে সেটাই সত্য আর বাকি সবাই মিথ্যা। মুসলিমরা দাবি করে ইসা বা জিসাস তাদের মেসেঞ্জার বা নবী, তাই ইসা বা জিসাস মুসলিম। কিন্তু যদি জিজ্ঞাসা করেন হিটলার তো যীশু কে ইশ্বর মেনে ৬ মিলিয়ন ইহুদি হত্যা করেছিল, তো হিটলার কি তাহলে মুসলিম ছিল না? কিন্তু না, তারা পৃথিবীর প্রথম থেকে সবাই কে মুসলিম দাবি করলেও, এবং যীশু কে মুসলিম দাবি করলেও যীশুর অনুসারি হিটলার একজন মুসলিম ছিল এটা মানতে রাজি না। তখন তারা নিয়ে আসে মুসলিম শব্দের অর্থ নিয়ে।

শব্দের অর্থ নিয়ে একটু বলি, একটা শব্দ কি অর্থে ব্যবহৃত হয় সেটা ব্যবহার কারিই জানেন। কারন শব্দের কোন নির্দিষ্ট অর্থ থাকেনা, তার বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয় । যেমন আমি যদি বলি যে হিন্দু মানে যারা সিন্ধু নদীর তিরে থাকে, তাই ভারতে সবাই হিন্ধু, তাহলে কি এটা সত্যি হবে? অথবা আমি যদি বলি পৃথিবীতে যারা হাগু করে তারা হাগু ধর্মের বিশ্বাসি এবং পৃথিবীতে যারা জন্মেছে তারা সবাই হাগু ধর্মের অনুসারী, তাহলে কি আপনি মানবেন? একই ভাবে ইসলাম ধর্মের যে সংজ্ঞা জাকির সাহেব দিয়েছেন, তা অন্য ধর্মের লোকেরা মানেনা। কিন্তু জাকির সাহেব আর তার অনুসারিদের সে দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নাই, তারা নিজেদের মনগড়া অর্থ কেই চূড়ান্ত মনে করে সবাইকে মুসলিম দাবি করে তা অন্য ধর্মের লোকরা মানুক বা না মানুক। তারা ভেবে দেখেনা যে ইসলাম ধর্মের যে ঈশ্বর, তাকে সব ধর্মের লোকেরা মানে না। ইসলাম শুধু একটা বিশ্বাস না, এটা সম্পূর্ণ একটা জীবন ব্যবস্থা।

শব্দের অর্থ দিয়ে কি ইতিহাস বদল করা যায়? আমরা তো মুহম্মদের আগমনের আগে কাউকে ইসলাম ধর্ম পালন করতে দেখিনি, তাহলে তারা মুসলিম হল কিভাবে? মুসলমানদের পুরানো হাইজাকিং স্বভাব এটা, যেটা ওনারা পেয়েছেন নবিজীর কাছ থেকে, কারন উনি তো গণিমতের মাল হাইজ্যাক করে অভ্যস্থ, তাই জাকির সাহেব ও অন্য ধর্মের মানুষদের কে হাইজ্যাক করে নিজের ধর্মের লোক বলে দাবি করতে কার্পণ্য করেন না।

এখন দেখুন খ্রিস্টান দের যীশু আর মুসলমানদের ইসা নবী কি একই ব্যক্তি? তাদের ধর্ম কি এক ছিল? তারা কি একই ঈশ্বরের উপাসনা করে? আমরা দেখতে পাই কোরানের ইসা আর মুসলমানদের যীশু সম্পূর্ণ ভিন্ন। খ্রিস্টান রা যীশুকে ঈশ্বরের অবতার মনে করে। তাদের মেসেজ ও ভিন্ন। মোহাম্মাদ যেটা করেছে, সে আগের সব ধর্ম গ্রন্থ থেকে কপি করে, আগের সব নবিকে নিজেদের ধর্ম বলে দাবি করেন আর জাকির সাহেব ও পূর্ববর্তী সব ধর্ম কে এবং প্রেরিত রসুলদের নিজের ধর্মের বলে দাবি করে গর্বে বুক ফুলিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে থাকেন।

এখানে বলে রাখা ভালো যে – সত্যি কি যীশুর অস্তিত্ব ছিল? এ নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে। ইতিহাস বিদদের মতে বাইবেলে যে যীশুর কথা আছে, সেই জিশুর কোন অস্তিত্ব নাই। যীশু একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক চরিত্র এবং এমন কোন ব্যক্তির প্রমান পাওয়া যায়নি যে ব্যক্তি মাতা ছাড়া জন্ম নেয়, এবং সে ওই সকল অলৌকিক কাজ করেছিল যা বাইবেলে বর্ণিত আছে।

index (5)

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading