ইদানীং মুমিনরা একটা কথা প্রায়ই ছুড়ে দেয়। আপনার বাবা যে আপনার বাবাসেটা কি আপনি বিশ্বাস করেন? অর্থাৎ তারা বুঝাতে চায় যে আমি যেহেতু আমার বাবা কে প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করি তাই আমি মুমিনের মতোই মূর্খ।
“ইহারা ছহিহ মুমিন নয়” কথাটা যে শুধু মুসলমানরাই বলে সেটা নয়। এটা প্রতিটি ধর্মের একটা কমন এক্সকিউজ বলতে পারেন। বিদেশেও Abortion Clinic এ বোমা হামলা অথবা মসজিদে গুলি করে মানুষ হত্যার মতো ঘটনা ঘটে।
ভারতের মুসলমান হত্যা নিয়ে বাংলাদেশে যে সেন্টিমেন্ট তৈরি হচ্ছে, তার একাংশ সেন্টিমেন্ট ও আমাদের নিজেদের দেশের ব্লগার হত্যার বিরুদ্ধে বা হিন্দুদের এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে তৈরি হয় না, কেন? বাংলাদেশের মানুষরা কোথাকার কোন ইয়েমেন, বার্মা, ভারত, তুরস্ক, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, এসব নিয়ে ব্যাস্ত। তার কারণ কি? কারণ একটাই, তারা মুসলমান।
ইসলাম সকল মানুষকে সমান মনে করে না এবং সবার সমঅধিকার বিশ্বাস ও করে না । মুমিনরা বিধর্মীদের মানুষ মনে করে না। মাদ্রাসায় শেখানো হয় কাফের রা জাহান্নামী। এমন কি শিক্ষিত অনেক মানুষকে বলতে শুনেছি হিন্দুদের গায়ে গন্ধ থাকে।
শহিদমিনারে ফুল দেয়াকে মূর্তিপূজার সাথে তুলনা করতে, শেরেক সাব্যস্ত করতে এবং প্রোপাগান্ডা চালিয়ে উঠতি প্রজন্মকে শহিদমিনার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে সারা বছর তৎপর থাকে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র। অথচ শহিদমিনার একটি ধর্মনিরপেক্ষ ভাস্কর্য। এতে বাঙালিরা ফুল দেন ভাষাশহিদদের প্রতি নিছক শ্রদ্ধা দেখাতে। আজ পর্যন্ত কোথাও শোনা যায়নি— শহিদমিনারের শিক ধরে কেঁদেকেটে কোনো হিন্দু নারী হাত জোড় করে উত্তম স্বামী চেয়েছেন কিংবা কোনো মুসলিম ছাত্রী পরীক্ষায় ভালো ফল পেতে শহিদমিনারে গিয়ে তসবি জঁপেছেন। আজ পর্যন্ত শোনা যায়নি— রোগমুক্তির জন্য কোনো বৃদ্ধ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পাঁঠা বলি দিয়েছেন কিংবা কোনো ধ্বজভঙ্গ পুরুষ দাম্পত্য জীবনে সুখী হবার জন্য অপরাজেয় বাংলায় খাসি মানত করেছেন। শেরেক যদি হয়েই থাকে, তা অহরহ হয়ে চলছে বিবিধ পিরের দরগায়। শহিদমিনারে-ভাস্কর্যে হয় নিছকই সংস্কৃতির চর্চা, অপসংস্কৃতির ধারকদের তাই শহিদমিনারকে এত ভয়।
ইদানীং একটা খবর আসছে মিডিয়াতে যে গাজীপুরে এক গার্মেন্টস কারখানায় নামাজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই খবর শুনে হাজার হাজার মুমিন মুসলমানরা “আলহামদুল্লিলাহ, সুভান আল্লাহ্,আমিন” ইত্যাদি কমেন্ট করে ফেসবুক ভাসিয়ে দিচ্ছেন। জি, এটাই সঠিক ইসলাম।
আমরা বাঙ্গালী নিজের দোষ না ধরে অন্যের দোষ ধরতে ব্যাস্ত হই এই জন্য আমরা আজও একটা অসভ্য জাতি। আমি বিদেশীদের কাছে শিখেছি যে আগে নিজেদের সমালোচনা করতে হয়। আগে নিজের দোষ দেখতে হয়। আপনার নিজের ছেলে যদি পাশের বাসার ছেলের সাথে মিলে অপরাধ করে তবে আগে আপনার ছেলেকে ঠিক করুন।
রিতা দেওয়ান যখন গান করছিল, তখন সামনে পিছে হাজার হাজার দর্শক শ্রোতা ছিল,যাদের ৯৮% ই মুসলমান।
অথচ তারা কেউই রিতা দেওয়ানের কথার বিরুদ্ধে টু-শব্দটুকুও উচ্চারণ করেনি। কারন তারা আগাগোড়া পুরো অনুষ্টান তথা পালাগানটা দেখে তাদের কুরান হাদীসের রেফারেন্সে পক্ষে বিপক্ষে প্রশ্নগুলো শুনেছে এবং সেগুলোর প্রত্যেকটাই যৌক্তিক মনে হয়েছে। তাই তারা চুপচাপ উপভোগ করছিল।