ohv2c1knj9521

মুমিনদের দাবী আধুনিক বিজ্ঞানে যা আবিষ্কার করছে, কোরানে তা ১৪০০ বছর আগেই তা লেখা আছে। এটা যদি আল্লাহ্‌র বানী না হয় তো কে লিখল এমন বিজ্ঞান ময় কোরান?

উদাহরণ সরূপ তারা এমন কিছু আয়াত দেয়, যেমন নিচের আয়াত টি দেখুনঃ

কাফেররা কি (ভেবে) দেখে না যে, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে; অত:পর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম” (সূরা আম্বিয়া ২১:৩০)

এটি সুরা আল আম্বিয়ার ২১ নম্বর আয়াত। এখানে নাকি বিগ ব্যাং বর্ণনা করা আছে।

এখন এটা কিভাবে বিগ ব্যাং হয় সেটা আমি বুঝলাম না কারণ আল্লাহ্‌ এখানে বলছেন নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল মিশে ছিল । বিগ ব্যাং এর সময়ে ভূমণ্ডল ছিল কি? কারণ বিগ ব্যাং সংঘটিত হয় প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে, আর পৃথিবীর বয়স হচ্ছে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর। তাই দেখা যাচ্ছে যে বিগ ব্যাং ঘটার প্রায় ৯ বিলিয়ন বছর পর পৃথিবীর সৃষ্টি হয় তাই সেই সময় ভূমণ্ডল থাকার কোন প্রশ্নই আসেনা।

যদি ধরে নেই যে এটা বিগ ব্যাং এর কথাই লেখা আছে।

কোরানে যে বিগ ব্যাং আছে সেটা মানুষ কবে জানতে পারলো? এটা কি মানুষ ১৪০০ বছর আগে বুঝতে পেরেছিল? নাকি বিজ্ঞানীরা বিগ ব্যাং আবিষ্কার করার পরে এটা বুঝতে পেরেছে? যদি আল্লাহ্‌র নবী এবং সাহাবীরা এটা বুঝতে না পারে তবে এই মেসেজটা কি কাজে লাগলো? তবে তো আল্লাহ্‌র ম্যাসেঞ্জার সঠিক তথ্য টা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

কোরান কে সব থেকে ভালো বুঝবে? আল্লাহ্‌র রসুল, এবং তার সাহাবীরা। এবং যারা কোরানের তফসির করেছে তারা। এখন তারাই যদি এটা বুঝতে না পারে তাহলে জাকির নাইকের মতো আধুনিক তফসির কারিরা কিভাবে বুঝল? আর আধুনিক তফসির কারিরা যদি সঠিক হয় মানে আল্লাহ্‌ যে ম্যাসেজ টা নবীকে দিয়ে পাঠিয়েছে সেটা এত দিন কেউ বুঝেনি?

আয়াতটা লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে এখানে বলা হচ্ছে যে “কাফেররা কি (ভেবে) দেখে না যে, নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল মিশে ছিল” – তার মানে কি? কাফের রা এই তথ্য টা আগে থেকেই জানে? না জানলে ভেবে দেখবে কিভাবে?

এখন আমরা যদি তফসির দেখি তবে আমরা পাই যে আকাশ এবং পৃথিবী একসাথে মিশে ছিল। আল্লাহ্‌ উভয় কে পৃথক করে দেন। এর পর সাত আসমান এবং সাতটি পৃথিবী সৃষ্টি হয়। আকাশ (স্বর্গ) থেকে বৃষ্টি শুরু হয় এবং মাটি ফুটে উদ্ভিত বের হয়ে আসে। তাই বলা হচ্ছে যে প্রানবন্ত সব কিছু পানি থেকে সৃষ্টি হয়েছে। হাদিস থেকেও এটাই পাওয়া যায় যে পৃথক করা কে আসলে আকাশ কে খুলে দেওয়া বুঝাচ্ছে যা থেকে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টি তো সবাই দেখতে পায় । আর এটা অনেক পুরানো প্রচলিত ধারণা ছিল যে আল্লাহ্‌ আকাশ কে পৃথক করে বৃষ্টি বর্ষণ করেন।

যদি আমরা ধরে নেই হুবহু বিগ ব্যাং ই কোরান আছে, তবে কি এটা প্রমাণ হয় যে এটা আল্লাহ্‌র বানী? আমরা এই লেখা থেকে এটার লেখক কে সে সম্বন্ধে কিছুই বলতে পারি না। এটা কি আল্লাহ্‌ লিখে ছে না কি অন্য কেউ লিখেছে, সেটা আমরা কিভাবে বলব? যদি এটা বিগ ব্যাং হয়, তবে আমরা শুধু এতটুকুই বলতে পারি যে কোরানে এটা কিভাবে আসলো সেটা একটা রহস্য মাত্র।

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading