উল্কাপাত হচ্ছে শয়তানদের তাড়াবার জন্য আল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র। হ্যা, আপনি ঠিকই পড়েছেন। এটা লেখা আছে কোরানের ৩৭ নং সূরা – সূরা আস-সাফফাত এর ৬-১০ নম্বর আয়াতে।

“নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি । এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে।
ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়।
ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি।
তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।”

উল্কাপিন্ড শয়তান তাড়াবার ক্ষেপনাস্ত্র কিভাবে হয় ? এটা তো আমার বোঝার বাইরে, আর আপনি যদি মনগড়া, জাকির নাইক মার্কা ব্যাখ্যা দেন, তাহলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে কেন? তাহলে আমরা দেখি এই আয়াত গুলোর তফসির থেকে কি পাওয়া যায়?

এই আয়াত সম্পর্কে তাফসীর ইবনে কাসিরে বলা হয়েছে ,

* ইবনে কাসিরঃ এরপর ঐ নক্ষত্রগুলোর আরো একটি উপকারিতা বর্ণনা করছেন যে, ওগুলোর দ্বারা শয়তানদেরকে মারা হয় । ওগুলো হতে অগ্নি শিখা বের হয়ে ঐ শয়তানদের উপর নিক্ষিপ্ত হয়।”

তো মডারেট মুসলমান রা কোরানের সহিহ ব্যাখ্যা না জেনে, জাকির নাইক মার্কা ব্যাখ্যা দিলে হবেনা। ইবনে কাসির থেকে আরও পাওয়া যায় যে স্বর্গের বা বেহেস্তের সব স্থলে শয়তানের যাওয়ার অনুমতি ছিল না। তাই এই উল্কা পিণ্ড দিয়ে স্বর্গ থেকে শয়তানের গতি রোধ করা হয়।

ইবনে কাসিরের অনুবাদের কিছু অংশ নিচে দিলাম।

এই বিষয়টি বোঝার জন্য এটা মনে রাখতে হবে যে রাসূলুল্লাহ (সঃ) – এর সময় আরব দেশেে কিছু ভবিষ্যদ্বাণীকারীরা ছিল যারা অনেক ক্ষমতাবান ছিল। মানুষ তাদের কাছে অদৃশ্যের খবর নিতে, তাদের ভবিষ্যৎ জানতে এবং হারানো সম্পদের খবর নিতো্ তাদের সাথে দেখা করতো । তাদের দাবি ছিল যে তাদের নিয়ন্ত্রণে কিছু জিন ও শয়তান ছিল, যারা তাদের কাছে সব ধরনের খবর নিয়ে আসতো ।

নবী (সঃ) নবুয়ত প্রাপ্ত হওয়ার পর তিনি কুরআনের আয়াতগুলি পড়তে শুরু করেছিলেন, যা অতীতের ইতিহাস বর্ণনা করেছিল এবং ভবিষ্যতের খবরও দিয়েছিল এবং এও বলেছিল যে একজন ফেরেশতা তাকে এই আয়াতসমূহ তার কাছে নিয়ে এসেছে ।

তার বিরোধীদেরা তাকে একজন ভবিষ্যদ্বাণীকারী ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত করে বলেছিলেন যে, অন্যান্য সুস্পষ্ট ব্যক্তিদের মতো তিনিও একটি শয়তানের সাথে যুক্ত ছিলেন, যিনি তাকে আকাশ থেকে খবর পাঠিয়েছিলেন, যা তিনি আল্লাহর কাছ থেকে প্রকাশিত আয়াত হিসাবে পেশ করেছিলেন। এই অভিযোগটি অস্বীকার করার জন্য আল্লাহ বলছেন, “শয়তানদের কাছে স্বর্গে প্রবেশ অধিকার নেই। তাদের কাছে ফেরেশতাগণের কথোপকথন শোনার ক্ষমতা নেই এবং তাদের খবর অন্যের কাছে আনতে পারে না, যদি এর সামান্যই একটি শয়তানের কানে প্রবেশ করে এবং তিনি এটি নিচে আনতে চেষ্টা করে, তাহলে তাকে একটি আগুনের ঝলকানি শিখা অনুসরণ করবে । “

অন্য কথায়, এর অর্থ হচ্ছে: “মহাবিশ্বের গ্র্যান্ড সিস্টেম” ফেরেশতাগণের অধীনে কাজ করছে, এবং শয়তানের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত এবং নিরাপদ একটি ব্যাবস্থা। “(আরও ব্যাখ্যা করার জন্য দেখুন AI-Hijr: 17-18)।

আরও দেখুন : তিমি মাছের উপরে পৃথিবী? কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল ৪

download (28)

One response to “কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল ৫ : উল্কাপিন্ড কি শয়তান তাড়ানোর ক্ষেপণাস্ত্র?”

  1. […] হাদিস তো জ্ঞানের উৎস কিছু পাই না । যদি কোরান বিজ্ঞানময় কিতাব হত, তাহলে মুমিনরাই সব থেকে জ্ঞানী হত। […]

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading