মুসলমানদের দাবি যে কোরান আল্লাহ্র বানী, এতে একটা ভুল ও নেই, থাকতে পারেনা। যদি এতে একটাও ভুল পাওয়া যায় তবে এই কুরআন মিথ্যা বলে প্রমাণিত হবে । দুঃখের বিষয় হল কোরানে অনেক ভুল থাকা সত্ত্বেও মুমিনরা এই ভুল গুলো মেনে নেয় না । তারা একের পর এক আর্গুমেন্ট এনে খাড়া করে এবং এক ধরনের মেন্টাল জিমনাস্টিক করে এই ভুল গুলোকে সহিহ করে নেয়।
এটার একটা কারণ হল তাদের অন্ধ বিশ্বাস, জ্ঞানের অভাব এবং ছোটবেলা থেকে তাদের এটাই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভুল দেখালে তারা – আপনি বিজ্ঞান জানেন না, আরবি জানেন না, আপনাকে প্রেক্ষাপট জানতে হবে, শব্দের অনেক অর্থ হয়, ইত্যাদি অনেক অজুহাত খাড়া করে।
এর আগের তিন পর্বে কোরানের বৈজ্ঞানিক ভুল গুলো দিয়েছি। এবার আরও কিছু কোরানের বৈজ্ঞানিক ভুল থাকছে।

১. তিমি মাছের উপরে পৃথিবী?
কুরানের ৬৮ নাম্বার সূরার ১ নাম্বার আয়াতের শুরুতে আছে “নুন”। আল্লাহ ” নুন” ও কলমের শপথ করছেন। এই “নুন” কি জিনিস? এই “নুন” হল একটি তিমি মাছ, যার পিঠের উপরে রয়েছে ৭ জমিন। তাফসির ইবনে আব্বাস থেকে এই আয়াতের যে তফসির পাওয়া যায় তাতে এরকমই লেখা আছে। কিন্তু আধুনিক বাংলা ও ইংলিশ অনুবাদক রা এটা এড়িয়ে যায়। কিন্তু আপনি www.tafsir.com এ গিয়ে সুরা ৬৮ঃ১ এর তাফসির ইবনে আব্বাস খুজলেই পেয়ে যাবেন যে এটা স্পষ্ট ভাষায় লিখা আছে – আল্লাহ “নুন” এর শপথ করছেন, যা একটি “তিমি মাছ”, এবং এটির পিঠে রয়েছে আমাদের এই পৃথিবী।
এখানে বলে রাখছি যে ইবনে আব্বাস হল আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (عَبْد ٱللَّٰه ٱبْن عَبَّاس) ইবন আব্বাস নামেও পরিচিত । তিনি ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর চাচা আব্বাস ইবন আবদ আল-মুত্তালিবের পুত্র। সহি হাদিসে মুহাম্মাদ বলেছেন যদি কুরান হাদিস সম্পর্কে জানতে/শিখতে চাও তাহলে ইবনে আব্বাসের কাছ থেকে শেখ। (Courtesy: Sayed Masud Kabir)
২. গায়েবের চাবি-কাঠি মহান আল্লাহর কাছে।
গায়েবের বিষয় হচ্ছে পাচটি। যথাঃ
-
কিয়ামতের সময়ের কথা মহান আল্লাহ ছাড়া আর কারও জানা নাই।
-
বৃষ্টি বর্ষণ করা।
-
গর্ভবতীর গর্ভে পুত্র সন্তান আছে না কি কন্যা সন্তান আছে।
-
কোন লোক আগামীকল্য কি উপার্জন করবে এবং
-
কোন লোকই জানে না যে, কোন ভূমিতে সে মৃত্যূবরন করবে। (সূরা লোকমানঃ আয়াতঃ ৩১:৩৪ এবং সুরা আনআমঃ আয়াতঃ ৬:৫৯)
তো আল্লাহ্র কোন ধারনা ছিলনা যে ভবিষ্যতে মানুষ আলট্রাসনো আবিষ্কার করে গর্ভবতীর গর্ভে পুত্র সন্তান আছে না কি কন্যা সন্তান আছে সেটা আগেই টের পেয়ে যাবে ? এবং আভাওয়া অফিসের যন্ত্রপাতির সাহায্যে কবে কখন বৃষ্টি হবে সেটাও মানুষ আগে ভাগেই টের পেয়ে যাবে ?
৩. বীর্য স্খলিত হয় মেরুদণ্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে?
সূরা আত-তারিক আয়াত ৫ঃ অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে। এটা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে।
উপরের আয়াত সমূহ পড়লে আমরা জানতে পারি যে, কুরআনে বলা হয়েছে, মানুষকে সৃষ্টি করা হয় দ্রুতবেগে নির্গত তরল থেকে যা আসে মেরুদণ্ড ও বুকের পাঁজরের মধ্যে থেকে। এখানে সবেগে স্খলিত পানি বা দ্রুতবেগে নির্গত তরল বলতে নিঃসন্দেহেই বীর্যকে বুঝানো হয়েছে। (Courtesy: কোরআন এবং বীর্যের উৎস)
৪. প্রতিটি প্রাণীর মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করিতে হইবে
আল্লাহ তায়ালা কোরানের অনেক গুলি আয়াতে, বলেন যে প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। (সুরা আল ইমরান: ১৮৫)। কিন্তু ভূমধ্যসাগরে এক ধরনের জেলিফিশ পাওয়া গিয়েছে যারা মরেনা। তো আল্লহ তো এসব জেলিফিশের কথা জানতোই না।






Leave a Reply