কোরান এর আলোকে আকাশ মণ্ডলী, পৃথিবী ও মহাবিশ্ব এবং আধুনিক বিজ্ঞান

—

3–4 minutes

আমার এই লেখাটা পোস্ট করার পর কিছু মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে আমি জানি। একদল মুমিন বিশ্বাস করবে না যে এগুল কোরানে আছে। তারা চ্যালেঞ্জ করবে এবং রেফারেন্স চাইবে।

তবে আমি বার বার বলি যে আমি মূর্খ মানুষদের সাথে তর্ক করিনা। আপনারা আগে কোরান হাদিস পড়ুন। নিজেরা অনুবাদ সংগ্রহ করে পড়ুন, কারু ব্যাখ্যা শুনে বিশ্বাস করবেন না। কারণ অসাধু হুজুরেরা কোরানের অর্থ পরিবর্তন করে অনুবাদ করে বা তরজমা করে এবং নিজেদের মত করে ব্যাখ্যা করে।

সাত আসমান নিয়ে সেদিন কথা হচ্ছিল। আল্লাহ নাকি সাত আসমানের উপরে আরসে আসীন আছেন।

বিজ্ঞান যদিও এখনো সাত আসমানের খোজ পায়নি কিন্তু মুমিনরা বিভিন্নভাবে ৭ আসমানের ব্যাখ্যা দেয়। কেউ কেউ বলছেন এটা আমাদের বায়ুমণ্ডলের স্তর, আবার কেউ বলছেন আমাদের মহা বিশ্বের মত আরও সাতটি আকাশ আল্লাহ সাজিয়ে রেখেছে।

আমার এই সব মুমিনরা, যারা কোরানে বিজ্ঞান আছে এটা প্রমাণ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে, এবং প্রতিনিয়ত মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে অথবা মনগড়া ব্যাখ্যা দিচ্ছে, তাদের কথা শুনলে হাসি পায়।

আপনারা কি আসলেই মূর্খ? কোরান পড়েন নি? নাকি জেনেশুনে সত্য গোপন করছেন ইসলাম রক্ষার্থে? কারণ আপনি যখন সুরা হামিমের ১২ নম্বর আয়াতটি পড়বেন, তখনই দেখবেন বলা আছে যে আমাদের সব থেকে নিকটবর্তী স্তর টিকে তারকা দ্বারা সুসজ্জিত করা হয়েছে। তো এটা বায়ু মন্ডলের স্তর হয় কিভাবে?

কোরানে কিছু আয়াত পড়লে আরও বুঝবেন যে এটা পাগলের প্রলাপ। যেমন আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করলেন ৬ দিনে। তার পর আকাশের দিকে নজর দিলেন।

তো দেখছেন, কোরান আসলে মূর্খ বেদুইন দের লেখা, যাদের জ্ঞান ছিল প্রাচীন গ্রিক দর্শন পর্যন্ত ।

ইদানীং দুই একজন মুমিন জাকির নাইকের লেকচার শুনে মুগ্ধ হয়ে দাবি করে যে কোরান বিজ্ঞান ময় কিতাব। যদিও তারা কোনদিন কোরান পড়েনি বা আরবি জানেনা, তার পরেও তারা তর্ক করতে চলে আসে।

এইসব মূর্খ মুমিনরা না জানে কোরান হাদিস না জানে বিজ্ঞান। কারণ কেউ যদি অর্থ বুঝে কোরান পড়ে আর সামান্যতম বিজ্ঞানের জ্ঞান রাখে, তাহলে তার বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এই কিতাবে বিজ্ঞানের ব ও নেই।

আপনারা অরিজিনাল অনুবাদ গুলি আর তফসির গুলি যদি পড়েন আর জাকির নাইক মার্কা ভণ্ড ধর্ম ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যা যদি পড়েন বা শুনেন, তবে দেখবেন যে তারা কোরান কে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মিলানোর জন্য কিভাবে অর্থ পরিবর্তন করছে, অপ ব্যাখ্যা দিচ্ছে, এবং তার পরেও ধরা খেয়ে যাচ্ছে।

এর আগে একটা লেখায় দেখিয়েছিলাম যে কোরানের ভ্রূণতত্ব কতটা হাস্যকর এবং ভণ্ড জাকির নাইক একজন ডাক্তার হয়েও কিভাবে কোরানের এই ভুল ও হাস্যকর ভ্রূণতত্ব কে কোরানের তেলেসমাতি বলে ব্যাখ্যা দেওয়ার অপচেষ্টা করেছিলেন। সেই লেখাটার লিংক ও নিচে দিয়ে দিচ্ছি।

কোরানের অলৌকিক ভ্রূণতত্ব (Embryology Miracle in Quran)

আজকে যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা হচ্ছে কোরানের আলকে আকাশ মণ্ডলী, পৃথিবী ও মহাবিশ্ব নিয়ে কি বলেছে এবং কোরানের তথ্য গুলো কতখানি বিজ্ঞান সম্মত।

জাকির নাইকের লেকচারে শোনা যায় যে এই মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে সেটা আমারা কিছুদিন আগে জানতে পেরেছি কিন্তু কোরানে সেটা ১৪০০ বছর আগেই উল্লেখ করা ছিল। যে আয়াতটা উনি বিগ ব্যাং বলে দাবি করেন সেটা হল

– অবিশ্বাসীরা কি ভেবে দেখেননা যে পৃথিবী আর আকাশমণ্ডলি একসাথে মিশে ছিল, আমি এদের আলাদা করেছি। সুরা আম্বিয়া, আয়াত ৩০ [21:30]।

এটাকে বিগ ব্যাং বলে চালানোর অপচেষ্টা এটাই প্রমাণ করে যে অসাধু ধর্ম ব্যবসায়ীরা যে কোন অসাধু উপায় কোরানে বিজ্ঞান আছে এটা প্রমাণ করতে চাইবে। এবং মূর্খ মুমিনরা, যারা কোনদিন কোরান পড়েনি, বা বিজ্ঞান জানেনা, তারা কোরানে বিজ্ঞান আছে বলে মনে করবে এবং তর্ক করতে আসবে গোঁয়ারের মত।

আকাশ নিয়ে কোরানে আরও কিছু আয়াত আছে। এই সব আয়াত কে গোঁজামিল দিয়ে বিজ্ঞানের সাথে কোনরকমে মিলাতে পারলেও কিছু আয়াত পড়ে আপনি একে বারেই নিশ্চিন্ত হবেন যে এগুল কোন মূর্খ ব্যক্তির লেখা, যার পৃথিবী এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে কোন জ্ঞান নাই, তো সে সৃষ্টিকর্তা হয় কিভাবে?

যেমন নিচের আয়াত গুল পড়লে বুঝা যায় আকাশ একটি কঠিন পদার্থ দিয়ে তৈরি, এতে কোন ছিদ্র নেই এবং আল্লাহ এটিকে খুঁটি ছাড়াই আমাদের মাথার উপর টাঙ্গিয়ে রেখেছেন তার কুদরতি ক্ষমতা বলে।

আয়াত গুলো নিচে দিয়ে দিলাম।

– “যিনি তোমাদের জন্যে জমিনকে শয্যা ও আকাশকে ছাদ সরূপ করেছেন (সূরা বাকারাহ, ২ঃ২২)

– “আল্লাহর (আকাশ) সৃষ্টিতে তুমি কোন খুঁত দেখতে পাবে না; আবার তাকিয়ে দেখো, কোন ফাটল দেখতে পাও কি ?” (সূরা মুলক, ৬৭ঃ ৩)

– “এরা কি কখনও তাদের ওপরের আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না কিভাবে আমি তা তৈরি করেছি ও তাকে সুশোভিত করেছি ? আর তাতে কোন (সূক্ষ্মতম) ফাটলও নেই ।” (সূরা ক্বাফ, ৫০ঃ৬)

– “আল্লাহই ঊর্ধ্বদেশে আকাশ মন্ডলী স্থাপন করেছেন স্তম্ভ ব্যতীত, তোমরা এটা দেখেছো; অতঃপর তিনি আরশে সমন্বিত হলেন ….” (সূরা রাদ, অধ্যায় ১৩ঃ২)

– “তিনি খুঁটি ব্যতীত আকাশমন্ডলী সৃষ্টি করেছেন…..” (সূরা লোকমান, অধ্যায় ৩১ঃ১০)

download (14)

2 responses to “কোরান এর আলোকে আকাশ মণ্ডলী, পৃথিবী ও মহাবিশ্ব এবং আধুনিক বিজ্ঞান”

  1. […] এটা নাকি বিগ ব্যাং। কিন্তু মুমিনরা কি ভেবে দেখেনা যে বিগ ব্যাং এর সময় পৃথিবী ছিল না? পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে বিগ ব্যাং এর প্রায় ৯ বিলিয়ন বছর পর। আর আকাশ মণ্ডলী আর পৃথিবী কি পৃথক হয়েছে নাকি এক সঙ্গেই আছে? তাহলে এটা বিগ ব্যাং কিভারে হল? […]

  2. […] এটা নাকি বিগ ব্যাং। কিন্তু মুমিনরা কি ভেবে দেখেনা যে বিগ ব্যাং এর সময় পৃথিবী ছিল না? পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছে বিগ ব্যাং এর প্রায় ৯ বিলিয়ন বছর পর। আর আকাশ মণ্ডলী আর পৃথিবী কি পৃথক হয়েছে নাকি এক সঙ্গেই আছে? তাহলে এটা বিগ ব্যাং কিভারে হল? […]

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading