মুমিনরা প্রায়ই দাবি করে যে কোরআনের ভ্রূণতত্ব নিখুঁত ভাবে বর্ণনা করা আছে, যা ১৪০০ বছর আগে লেখা সম্ভব না, তাই এটা কোরানের একটি অলৌকিক তেলেসমাতি, যা আল্লাহ ছাড়া কেউ লিখতে পারেনা।

যদিও, আমাদের দেশের বেশির ভাগ মুসলিম ই কোরান পড়েনি, তারা আরবি বুঝেনা, বা ডাক্তারি জানেনা, তবুও ও তারা বিশ্বাস করে যে কোরানে তেলেসমাতি আছে। তারা হয় কোন ইসলামী ওয়েবসাইট থেকে শুনে বিশ্বাস করে, অথবা জাকির নাইকের লেকচার শুনে বিশ্বাস করে। কিন্তু এটা নিজেরা একটু ঘেঁটে দেখলেই বুঝাতে পারবে যে জাঁকির নাইক কত বড় ভণ্ড। সে হয় ডাক্তার নয়, আর সে ডাক্তার হলে, জেনে শুনে মিথ্যা প্রচার করছে। এটা ডক্টর কিথ মুর ও চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে শেষ পর্যন্ত গোঁজামিল দিতে পারেনি।

তারা সূরা আল-মু’মিনূন এর ১৪ নং আয়াতটির কথা বলেন। আয়াত টি নিম্নরূপ:

এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি,
অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছি,
এরপর সেই মাংসপিণ্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি,
অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি,
অবশেষে তাকে নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি।
নিপুণতম সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়।

(সূত্র ঃ সূরা আল-মু’মিনূন )

এখন কোন বিজ্ঞানী বা কোন মেডিক্যাল ডাক্তার এটাকে সঠিক ভ্রূণতত্ব বলবে না। এটা কোন অশিক্ষিত মানুষের পক্ষেই লেখা সম্ভব, যার মেডিক্যাল সাইন্স বা ভ্রূণতত্ব সম্বন্ধে কোন আইডিয়া নাই। এখানে সমস্যা টা পরিষ্কার এবং শব্দের মার প্যাচ দিয়ে বা এটাকে সহি করা যায় না এবং এটা বুঝতে আপনার ডাক্তার হতে হবেনা। আপনি আয়াত গুলো পড়লেই বুঝতে পারবেন।

এখানে অনেকেই শব্দ গুলি নিয়ে তর্ক করে, যেমন “জমাট রক্ত রূপে” বা “মাংসপিণ্ড” কিন্তু এই গুলোর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ  সমস্যা হচ্ছে  এই দুটো লাইন:

“এরপর সেই মাংসপিণ্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি”

এখানে বুঝা যাচ্ছে যে কোরানে বলা হচ্ছে আল্লাহ আগে মাংসপিণ্ড থেকে অস্থি তৈরি করেন এবং অতঃপর অস্থিকে মাংস দ্বারা আবৃত করেন, যেটা মানুষ স্বাভাবিক ভাবে মনে করতে পারে বা গ্রিক চিকিৎসক এরিস্টটল বা গ্যালেনের বই তেও এমন পাওয়া যায়।

PZ

এখন মেডিক্যাল সাইস্ন থেকে আমরা জানি যে একটি ভ্রূণের  ক্রমবিকাশের সময় অস্থি এবং মাংস একই সাথে তৈরি হয় । অস্থি কোন মতেই আগে আসেনা এবং মাংস দ্বারা আবৃত হয় না। বরং অস্থি  পুরপুরি গঠিত হওয়ার আগেই মাংস সৃষ্টি হয়।

এখন আমাদের সর্বজ্ঞ সৃষ্টিকর্তা এমন ভুল কিভাবে করলেন? এবং আমাদের ইসলামের শেষ নবী ডঃ জাঁকির নাইক  এই ভুলটা ধরতে পারেন নি কেন? তার প্রতিটা লেকচারে শুনা যায় কোরানে ভ্রূণতত্ব নিখুঁত ভাবে বর্ণনা করা আছে।  কি ভণ্ডামি নয়? নাকি জাঁকির নাইক মূর্খ? মনে হয় দুটাই।

3 responses to “কোরআনের অলৌকিক ভ্রূণতত্ব (Embryology Miracle in Quran)”

  1. […] জাকির নাইক মহাশয় দাবি করেন যে কোরানে ভ্রূণতত্ব নিখুঁত ভাবে বর্ণনা করা আছে। উনি সুরা […]

  2. […] জাকির নাইক মহাশয় দাবি করেন যে কোরানে ভ্রূণতত্ব নিখুঁত ভাবে বর্ণনা করা আছে। উনি সুরা […]

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading