এবার আরেকটা লজিকাল ভ্রম নিয়ে আলোচনা করছি, এটা হল শূন্যস্থান পূরণের ঈশ্বর কুযুক্তি (God of the Gap Fallacy)
এই লজিকাল ফালাসিটা অনেকটা Argument from Ignorance Fallacy এর মতই। এটারও উৎপত্তি অজ্ঞতা থেকে।
প্রাচীন গ্রীক দেব দেবীগুলি যদি খেয়াল করেন অথবা হিন্দুদের দেব দেবী গুলো যদি খেয়াল করেন তবে দেখবেন যে তাদের প্রত্যেকের ই একটা কাজ আছে। যেমন কেউ আপনাকে বিদ্যা দিবে, কেউ টাকা দিবে, আর কেউ স্বাস্থ্য। এদের পিছনে সুন্দর সুন্দর কাহিনী ও প্রচলিত আছে। কিন্তু আমরা কেউ ই সেগুলি বিশ্বাস করিনা, কারণ এসব দেব দেবীর উৎপত্তি প্রচলিত কাহিনী থেকে।
মানুষ যখন থেকে চিন্তা করতে শুরু করেছে, তখন থেকেই তার জানার আগ্রহ প্রবল। এটাও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য একটি মানসিক প্রক্রিয়া যেটা বহুদিনের বিবর্তনের ফল। এটা শুধু মানুষের নয়, সব পশু পাখির জন্য প্রযোজ্য। মানুষ আর সব জীব জন্তু প্রকৃতির কাছে অসহায়, আর তাই তাদের মধ্যে ভীতি কাজ করে। মানুষ বাঁচবার জন্য যে কোন বিপদ সঙ্কেত কে বিশ্বাস করে এবং ভয় করে কারণ ভুল জিনিষে ভয় করে পালিয়ে গেলে কোন ক্ষতি নেই কিন্তু যে জিনিষে ভয় পাওয়া উচিৎ সেটা তে ভয় না পেলে বিপদ।
প্রকৃতির বশবর্তী হয়ে থাকা মানুষের মোটেও পছন্দ নয়, তাই মানুষ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। একজন অসীম ক্ষমতাবান কিছু একটা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে, এই ধরনের ধারনা মানুষের বহু পুরনো। আর এই ধারনা থেকেই এই সব কাহিনী আর গড গুলার সৃষ্টি।
অর্থাৎ গড কে বসানো হয় কোন একটি ঘটনার ব্যাখ্যা হিসাবে। যেমন আগে ধারনা করা হত যে থর বজ্র-বিদ্যুৎ, ঝড় ঘটান। কিন্তু বিজ্ঞানীরা যখন বজ্র-বিদ্যুৎ, ঝড় এর প্রকৃত কারণ বের করলো, তখন থর কে বিদায় নিতে হল।
তো দেখা গেল একটি প্রাকৃতিক ব্যাখ্যার কাছে অতি-প্রাকৃতিক ব্যাখ্যার পরাজয় হোল আর ওখান থেকে শূন্যস্থান পূরণের ঈশ্বর থর বিদায় নিলেন।
এভাবে যত গড অফ দি গ্যাপ গড ছিল, নতুন আবিষ্কারের সাথে সাথে তারা বিদায় নিতে থাকেন। যেমন রোগ বালাই কেন হয়? ভগবান দেন। germ theory আবিষ্কার হওয়ার পর ভগবান সেখান থেকে বিদায় নিলেন।
এগুলো তো গেল জানা প্রশ্ন, এবার আসুন অজানা প্রশ্নে। যদি জিজ্ঞাসা করেন এই মহা বিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হল? বিজ্ঞানীরা বলবে আমারা জানিনা আর ধার্মিক রা বলবে আমি জানি আমি জানি, সৃষ্টিকর্তা বানিয়েছেন। মানুষের সৃষ্টি কিভাবে হল? বিজ্ঞানীরা বলবে জানিনা আর ধার্মিকরা বলবে আমরা আগের থেকেই জানি।
এটাই হল বিজ্ঞান আর ধর্মের মধ্যে পার্থক্য। বিজ্ঞান তথ্যের উপর নির্ভরশীল, যেগুলো বাস্তব। বিজ্ঞানের নতুন তথ্য আসার সাথে সাথে তাদের মতবাদ ও পরির্তন হয়। ধার্মিক রা আগের থেকেই জানে কেউ একজন সৃষ্টিকর্তা আছে। তারা আপনাকে কোন প্রমাণ দিতে পারবেনা। তার পরেও জানে একজন, দুইজন না। একবার একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আপনি কিভাবে জানলেন একজন। সে বলল দুইজন হলে মারা মারি লাগত।
যথার্থ বলেছেন একজন মুমিন। বিজ্ঞানীরা যেখানে ব্যর্থ আল্লাহর কাজ (চাপাবাজি) সেখান থেকে শুরু।

