ডঃ জাকির নাইকের ডিম

ডঃ জাকির আব্দুল করিম নায়েক হলেন ইসলামের একজন অতিজনপ্রিয় চিন্তাবিদ, ধর্মপ্রচারক, এবং বক্তা । এক কালে আমি উনার একজন ভক্ত ছিলাম। মুগ্ধ হয় পিছ টিভিতে আর ইউ টিউবে উনার লেকচার শুনতাম, আর দেখতাম উনি কিভাবে উইলিয়াম ক্যাম্বল আর শ্রী শ্রী রবি সংকরের ন্যায় বিশাল বিশাল বক্তাদের নাকানি চুবানি খাইয়েছেন ।

কিন্তু তার যেমন অতিজনপ্রিয়তা আছে, তেমনি সমালোচকেরও অভাব নাই। আমার পরিচিত কিছু সংখক হুজুরেরা মন্তব্য করেছে

“ডা. জাকির নায়েকের বয়ানসমূহে বিশুদ্ধ আকীদা থেকে বিচ্যুতি, কুরআনে কারীমের তাফসির বিকৃতি ও মনগড়া ব্যাখ্যা এবং সাইন্সের গবেষণা দ্বারা প্রভাবিত হওয়া ইসলামবিরোধী পাশ্চাত্যের চিন্তা-চেতনার সাথে সম্পর্ক এবং ফিকহী মাসায়েলে সালফে সালেহীন ও জুমহুরের পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার মতো বিভ্রান্তকারী বিষয়াদি পাওয়া যায়।”

Image

The Egg-Shaped Earth - A Quranic MiracleOstrich & Hummingbird Eggs, Size Compa ...

অর্থাৎ জাকির নাইক আল্লাহ তায়ালার কালামের সত্যতা পরখ করার জন্য বিজ্ঞান ও টেকনোলোজির আশ্রয় নিচ্ছেন, যা ইসলামের পরিপন্থী। তার কোরান ও হাদিস সম্পর্কে বিশেষ কোন জ্ঞান নাই, বিশেষ করে হাদিস সম্পর্কে, তাই তিনি নিজের মন গড়া কোরানের ব্যাখ্যা দিয়ে সস্তা বাহবা কুড়াচ্ছেন ।

একটা উদাহরণ দেই,

তিনি কোরানের সূরা আন-নযিআ’ত – আয়াত ৩০ – ‘ওয়াল আরদ্বা বা’দা যালিকা দাহা-হা’ [ কোরান ৭৯ঃ৩০] এর ব্যখা দিতে গিয়ে বলেছেন –

“-‘এখানে دَحَاهَا দাহা-হা শব্দটি ডিম অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, আর সেটা যে সে ডিম না, এটি আস্ত একটি উট পাখির ডিম। আরবি শব্দ দাহাহা যার মূল শব্দ দুহিয়া। যার অর্থ উট পাখির ডিম। আর আমরা জানি পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয় এটি উত্তর দক্ষিণে সামান্য চ্যাপ্টা, যা উট পাখির ডিম আকৃতির সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে। অথচ যখন কুরআন নাযিল হয় তখন ধারণা করা হতো পৃথিবী চেপ্টা। চিন্তা করুন যেটা কিছু দিন আগে বিজ্ঞান আবিস্কার করেছে সেটা ১৪০০ বছর আগেই কোরানে উল্লেখ ছিল। আল্লাহ ছাড়া ১৪০০ বছর আগে কোরানে এই কথা কে লিখতে পারে?”

8055147_f248

তাই না? তার এই মনগড়া ব্যখা শুনে যারা প্রকৃত কোরান হাদিস এবং আরবি ভাষা জানেন তারা অনেকেই তেলে বেহুনে জ্বলে উঠলেন। তাদের প্রশ্ন ডঃ জাকির নাইক ডিম কোথায় পেলেন?

আমারো তাই প্রশ্ন, ডিম কোথা থেকে আসলো? উত্তর খুছতে গিয়ে কিছু ইংরেজি ও বাংলা কোরানের অনুবাদ বের করলাম যা নিম্ন রুপঃ

সূরা আন-নযিআ’ত – আয়াত ৩০ – ‘ওয়াল আরদ্বা বা’দা যালিকা দাহা-হা’ [ কোরান ৭৯ঃ৩০]

“এবং পৃথিবীকে এরপর বিস্তৃত করেছেন l ” (অনুবাদ – প্রফেসর ড: মুহাম্মদ মুজিবুর বহমান )

“আর পৃথিবী- এরপরে তাকে প্রসারিত করেছেন l ” (অনুবাদ – ড: জহুরুল হক)

alim.org ওয়েব সাইটে পেলামঃ

Asad : And after that, the earth: wide has He spread its expanse,
Malik : After that He spread out the earth,
Pickthall : And after that He spread the earth,
Yusuf Ali : And the earth moreover; hath He extended (to a wide expanse):

তাই দেখা যাচ্ছে সকল প্রতিষ্ঠিত বাংলা আর ইংরেজি অনুবাদকরা সবাই “spread out” “extended” “ছড়িয়ে দিয়েছেন” “বিস্তৃত করেছেন” “প্রসারিত করেছেন” ইত্যদি শব্দ ব্যাবহার করেছেন। কোথাও কোন ডিম নাই। আরও বুঝা যাচ্ছে দাহাহা দ্বারা কিছু একটা করা বুঝাচ্ছে, অর্থাৎ এটি একটি verb।

এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন – শ্রদ্ধেয় ডঃ জাকির নাইক সাহেব ডিম কোথায় পেলেন??? নাকি তাকে ডিম থেরাপি দিতে হবে?? আপনারা দয়া করে ডঃ জাকির নাইক সাহেবের ডিম খুজে বের করুন !!!

না—পৃথিবী ডিমের মতো নয়। বৈজ্ঞানিকভাবে পৃথিবীর আকৃতি হলো oblate spheroid (চ্যাপ্টা গোলক), ডিমের মতো (egg-shaped) নয়। এখন একটু পরিষ্কার করে বলি

👇

সংখ্যাগুলো কী বলছে? Equatorial diameter (বিষুবীয় ব্যাস) ≈ 12,756 km Polar diameter (মেরু ব্যাস) ≈ 12,714 km পার্থক্য ≈ 42 km এই পার্থক্যটি মোট ব্যাসের তুলনায়: 4212,756×100≈0.33%\frac{42}{12,756} \times 100 \approx 0.33\%12,75642​×100≈0.33%

👉

অর্থাৎ মাত্র এক-তৃতীয়াংশ শতাংশ পার্থক্য। তাহলে আকৃতিটা কেমন? পৃথিবী পুরো গোল নয় ঘূর্ণনের কারণে বিষুবরেখায় একটু ফুলে আছে মেরু অঞ্চলে সামান্য চ্যাপ্টা এই কারণে একে বলা হয় চ্যাপ্টা গোলক (oblate spheroid)। ডিমের সঙ্গে তুলনা কেন ভুল? ডিমের আকৃতিতে— এক দিক মোটা আরেক দিক সরু অসমমিত (asymmetric) কিন্তু পৃথিবী— দুই মেরু একই রকম চারদিকে প্রায় সমান পূর্ণ সমমিত (symmetric)

👉

তাই পৃথিবী ডিমের মতো নয়, বরং হালকা চ্যাপ্টা কমলালেবু বা বলের মতো। চোখে কেন বোঝা যায় না? যদি পৃথিবীকে ১ মিটার ব্যাসের একটি বল ধরা হয়, তাহলে মেরু–বিষুবের পার্থক্য হবে মাত্র ~৩ মিলিমিটার।

👉

হাতে ধরলে আপনি টেরই পাবেন না। উপসংহার

✔

পৃথিবী নিখুঁত গোল নয়

✔

সামান্য চ্যাপ্টা

✖

ডিমের মতো নয়

Leave a comment