মুমিনদের মতে যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন নি তাঁরা সবাই জারজ কারন তাদের বাবা মায়ের বিবাহ বৈধ নয়।
পৃথিবীর প্রতিটি ধর্ম ই নিজেদের শ্রেষ্ঠ বলে দাবি করে, কিন্তু ইসলাম এ ব্যপারে এক ধাপ এগিয়ে। তাঁরা শুধু শ্রেষ্ঠ বলেই দাবি করেনা, তাঁরা অন্য সব ধর্ম কে তুচ্ছ আর অবৈধ বলেও দাবি করে।
যেহেতু নাস্তিকদের বিবাহ বৈধ নয়, তাই তাদের সন্তানেরা জারজ, আর কারো বাবা মা যদি বিধর্মী হয়, তারাও জারজ, আর এই সুবাদে আমাদের বাঙালি মুসলমানেরা আমাদের মত যারা ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করে তাদেরকেে জারজ বলে গালি দিতেও ছাড়েনা।
কিন্তু আপনারা কি কেউ ভেবে দেখেছেন যে আমরা বাঙ্গালিরা কেউই আগে মুসলমান ছিলাম না? আমাদের বাবা দাদারা সবাই হিন্দু ছিল। আর সেই হিসাবে তো বাংলালিরা সবাই জারজ।
এবার আসুন নবীদের কথায়। আমরা ধর্ম গ্রন্থ কোরান থেকে জানতে পারি যে মুসলমানদের আদি পিতা হল আদম (আঃ)। কিন্তু আদম আর হাওয়ার কি বিয়ে হয়েছিল? সেটা তো কোরানে নাই। তাহলে কি সমস্ত মানব জাতির জন্ম ই অবৈধ?
এবার আসুন মরিয়ম পুত্র ইসা নবীর কথায়। ইসা (আঃ) এর জন্ম কুমারী মাতার গর্ভে (!!)। আপনারা যদি বিজ্ঞান মানেন তবে মানতে হবে যে এটা অসম্ভব। তার মানে তার পিতৃ পরিচয় নাই।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোঃ (সঃ) এর বাবা মা কি মুসলিম ছিলেন? আমি যতদূর জানি তাঁরা মূর্তি পুজা করতেন। তাহলে ইসলাম মতে নবিজীর পিতামাতার বিবাহও বৈধ ছিল না।
ইতিহাস থেকে আমরা আরও জানি যে নবিজীর ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ নামে একটি পুত্র সন্তান হয় মারিয়া আল-কিবতিয়া নামে এক ক্রীতদাসীর গর্ভে। এই সন্তান কি ইসলামের রীতিতে অবৈধ হবেনা?
আমি একথা কক্ষনই বলব না যে একটি শিশুর যদি পিতা মাতার পরিচয় জানা না থাকে, অথবা, সে যদি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের ফসল হয়ে থাকে তবে তাকে আমরা গালি দিতে পারি বা তাকে হেয় করতে পারি । প্রতিটি শিশুর জন্ম ই সুন্দর আর বৈধ।
আপনারা কাউকে গালি দেওয়ার আগে একটু ভেবে দেখবেন

