শহিদমিনারে ফুল দেয়াকে মূর্তিপূজার সাথে তুলনা করতে, শেরেক সাব্যস্ত করতে এবং প্রোপাগান্ডা চালিয়ে উঠতি প্রজন্মকে শহিদমিনার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে সারা বছর তৎপর থাকে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র। অথচ শহিদমিনার একটি ধর্মনিরপেক্ষ ভাস্কর্য। এতে বাঙালিরা ফুল দেন ভাষাশহিদদের প্রতি নিছক শ্রদ্ধা দেখাতে। আজ পর্যন্ত কোথাও শোনা যায়নি— শহিদমিনারের শিক ধরে কেঁদেকেটে কোনো হিন্দু নারী হাত জোড় করে উত্তম স্বামী চেয়েছেন কিংবা কোনো মুসলিম ছাত্রী পরীক্ষায় ভালো ফল পেতে শহিদমিনারে গিয়ে তসবি জঁপেছেন। আজ পর্যন্ত শোনা যায়নি— রোগমুক্তির জন্য কোনো বৃদ্ধ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পাঁঠা বলি দিয়েছেন কিংবা কোনো ধ্বজভঙ্গ পুরুষ দাম্পত্য জীবনে সুখী হবার জন্য অপরাজেয় বাংলায় খাসি মানত করেছেন। শেরেক যদি হয়েই থাকে, তা অহরহ হয়ে চলছে বিবিধ পিরের দরগায়। শহিদমিনারে-ভাস্কর্যে হয় নিছকই সংস্কৃতির চর্চা, অপসংস্কৃতির ধারকদের তাই শহিদমিনারকে এত ভয়।