শিল্প ও শিল্পী সত্যিই দেশ, জাতি, বা ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে । প্রসঙ্গ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শিল্প ও শিল্পী সত্যিই দেশ, জাতি, বা ভৌগোলিক সীমানার ঊর্ধ্বে। কারণ শিল্প সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য মানুষের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি, ও আবেগ প্রকাশ করা, যা সর্বজনীন এবং সীমানা দিয়ে বাঁধা নয়। এটি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটাতে পারে, এবং শিল্পীর কল্পনা ও সৃজনশীলতা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এমন একজন অনন্য প্রতিভাধর কবি, যিনি তাঁর সাহিত্য, সঙ্গীত, চিত্রকলা ও দার্শনিক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সময়কেও অতিক্রম করেছেন। তাঁর সৃষ্টি কেবল একটি বিশেষ সময়ের বা স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানবতার সাধারণ বোধ এবং আবেগকে ধারণ করে, যা সব যুগের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীত বর্তমানে তিনটি দেশে গাওয়া হয়। এই দেশগুলো হলো:

বাংলাদেশ: বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”। এই গানটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার সময় মানুষের মধ্যে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে এবং এটি দেশের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে গণ্য।

ভারত: ভারতের জাতীয় সঙ্গীত “জন গণ মন”। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১১ সালে এই গানটি রচনা করেন, যা পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়।

শ্রীলঙ্কা: শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত “শ্রী লঙ্কা মাতা”-এর সুর মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বারা প্রভাবিত বলে ধারণা করা হয়। যদিও গানের ভাষা ও লেখক আলাদা, সুরের ক্ষেত্রে ঠাকুরের প্রভাব লক্ষ করা যায়।

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীত এবং তার কাজগুলোর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে গেছে, যা তাকে সত্যিই এক চিরকালীন প্রতিভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তবে আমাদের দেশে কিছু মানুষ তাকে ভারতীয়, হিন্দু, এবং মালু বলে গালি দিয়ে তার লেখা জাতীয় সঙ্গীত প্রত্যাখ্যান করছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো একজন প্রতিভাবান কবি ও সাহিত্যিককে তার ধর্ম, জাতীয়তা, বা অন্য কোনো সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা দুঃখজনক। তিনি শুধু ভারতীয় বা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ছিলেন না, বরং বিশ্বমানবতার প্রতীক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর সৃষ্টি মানবিক মূল্যবোধ, শান্তি, প্রেম, ও জাতিগত ভেদাভেদমুক্ত সমাজের আদর্শ তুলে ধরে, যা সব দেশের এবং সব ধর্মের মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক।

জাতীয় সঙ্গীতকে প্রত্যাখ্যান করা বা তা নিয়ে বিভাজনমূলক ধারণা তৈরি করা আসলে সেই মূল্যবোধগুলোকেই অস্বীকার করে, যেগুলো আমাদের একত্রিত করে। “আমার সোনার বাংলা” গানটি শুধু একটি গানের চেয়ে বেশি—এটি বাংলাদেশের মাটি, প্রকৃতি, এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। এটি আমাদের স্বাধীনতার আন্দোলনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীর প্রভাব ফেলে।

যারা রবীন্দ্রনাথকে ধর্ম বা জাতীয়তার দৃষ্টিকোণ থেকে গালি দিয়ে তার কাজকে ছোট করে দেখেন, তারা আসলে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করছেন। তিনি একজন বাঙালি এবং তাঁর কাজ বাঙালি সংস্কৃতি ও মানসিকতার গভীরতম রূপগুলোকে প্রকাশ করে, যা আমরা সবাইকে গর্বিত করে।

এ ধরনের বিভেদমূলক মনোভাব পরিহার করে আমাদের উচিত তাঁর কাজের গভীরতা এবং মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি উপলব্ধি করা।

ইসলামে “জাতীয়তাবাদ” বা জাতীয়তাবোধ শুধুমাত্র হিন্দুদের বা ভারতের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এমনিতে তারা জাতীয় সঙ্গীত গায় না। কিন্তু একজন “মালুর” লেখা গান কেন দেশের জাতীয় সঙ্গীত হবে এই নিয়ে তাদের চিন্তার শেষ নেই। এখানে একজন পাকিস্থানির লেখা গান হলে কিন্তু মন্দ হতো না।

May be an image of 1 person and text

সান্তা ক্লজ ও ইব্রাহীম (আ.) এর কোরবানীর কাহিনী

সান্তা ক্লজ একটি কাল্পনিক চরিত্র, যিনি ক্রিসমাস উপলক্ষে শিশুদের জন্য উপহার বিতরণ করেন বিশেষত পশ্চিমা সংস্কৃতিতে । ক্রিসমাসের সময় একজন বুড়ো লোককে সব খানে দেখা যায় যার পরনে থাকে লাল জামা, মাথায় টুপি, লম্বা দাড়ী এবং সাথে অনেক উপহার থাকে। হরিন থাকে। এবং একটি বরফে টানা গাড়িও থাকে। এসব কাল্পনিক কাহিনী অনেক পুরানো এবং এর উৎপত্তি মূলত ইউরোপীয় লোককাহিনী এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য থেকে হয়েছে। সবাই জানে এগুলা কাল্পনিক কিন্তু এটা তাদের ট্রেডিশন।

আজ কেনো এই কাহিনী বলছি? কারন হচ্ছে পশ্চিমাদের এই কাহিনী ও ইব্রাহীম (আ.) এর কোরবানীর কাহিনী একই । আর মোহাম্মাদের ফেরেস্তার কাহিনী ও । কিন্তু কেউ যদি সান্তা ক্লজকে গালি দেয়, তারা বলে না যে আপনার মৃত্যু দন্ড দিতে হবে। তারা নিজেরাও জানে এগুলা কল্প কাহিনী কিন্তু মুসলমানরা তাদের কল্পকাহিনী এতটাই ভালোবাসে যে সেগুলার সমালোচনা করলে আইডি থাকবে না।

মনে করেন কেউ যদি এখন বলে সান্তা ক্লজকে গালি দিলে, এটাকে কাল্পনিক বললে তার অনুভুতিতে আঘাত লাগে তাহলে আপনি তাকে কি বুদ্ধি প্রতিবন্দী মনে করবেন না? একটা বাচ্চাও জানে কল্পনা আর বাস্তবের মধ্যে পার্থক্য আছে। এটা এত সিরিয়াসলি নিতে নেই। কিন্তু এই কাহিনীর উপর নির্ভর করেই সমাজ চলে, নিতী নির্ধারিত হয়, এমনকি পাঠ্যক্রম থেকে বিবর্তন তত্ত্বকে বাদ দেওয়া হয়।

এবার ইব্রাহীম (আ.) এর কোরবানীর গল্প বলি। এটি হচ্ছে একটি কাল্পনিক চরিত্র ইব্রাহীম (আ.) এর কহিনী । ইব্রাহীম (আ.) এর স্বপ্ন দোষের কারনে আজ সমস্ত মুসলিম বিশ্ব নিরীহ প্রানী হত্যা করছে। কে কাকে কি বুঝাবে? তবে মাংস খান, কোন সমস্যা নাই। কিন্তু কল্পনা আর বাস্তবের মধ্যে যে ফারাক আছে সেটা মাথায় রাখেন। এই গুলি নিয়ে বিস্তারিত লাইভে আলাপ করবো। আপনারা যুক্ত হবেন আশা করি। প্রতিদিন রাত ৮ টা বাংলাদেশ সময়ে লাইভে আসবো। আমি না থাকলে বেবী ড্রাগন, মোঃ আল্লাহ অথবা লজিকাল পার্সন থাকবে।

পুনশ্চ ঃ মুমিনরা এখন বলবে সান্তা ক্লজ ও ইব্রাহীম (আ.) এর কোরবানীর কাহিনীর কোন মিল ই নেই। মিল আছে। দুটাই কাল্পনিক ।

-সবাইকে শুভেচ্ছা

প্রকৃতির শৃঙ্গে : পৃথিবীর ৯ টি অবাক ধর্মশালা

আমি অনেক দেশ ঘুরে দেখেছি। তার মধ্যে কিছু দেশ আমাদের আসে পাশেই আছে যা আপনাকে খুব বেশি দূর যেতে হবেনা। আমাদের দেশের ভিতরেই অনেক দেখার মতো যায়গা আছে।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ, যেমন ভারত এবং নেপালে ও অনেক সুন্দর দেখার মতো স্থান আছে আবার অনেক দূরের দেশে আমি গিয়েছি যে সব দেশে যেতে হলে মহাসাগর পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু নতুন নতুন যায়গায় যাওয়ার এবং নতুন অভিজ্ঞতা, অনুভুতি, এসব বলে বুঝানো যায় না।

এক একটি স্থানে রয়েছে তাদের কালচার, আর্কিটেকচার, ইতিহাস ইত্যাদি জড়িত । বেড়াতে গেলে নতুন স্থানের সংস্কৃতি, খাবার, ও মানুষের সাথে পরিচিত করার সুযোগ দেয়।

ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত মুখ্য বিষয় হল নতুন স্থানে পৌঁছার অভিজ্ঞতা। ধর্মশালা এমন একটি জায়গা যেখানে আমরা নতুন সংস্কৃতি, আদর্শ, এবং বিশেষ আত্মস্থা অনুভব করতে পারি। এই লেখা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের ধরমশালা বা ধর্ম ভিত্তিক স্থাপত্য নিয়ে। কারন ধর্ম সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপর বিস্তর প্রভাব বিস্তার করেছে।

এটা আমার প্রথম ভ্রমন ব্লগ। এই স্থান গুলির কিছু স্থানে আমি গিয়েছি। সব গুলিতে আমার যাওয়ার ইচ্ছা আছে তবে আমি অন্য কারো অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি। আমার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা বিষয়ে প্রথম একটি ভ্রমণ ব্লগ লেখা হল:

১. অক্ষর ধাম, ভারত, দিল্লী

অক্ষর ধাম হলো ভারতের একটি অবস্থান, যা দিল্লি শহরের নিকটে অবস্থিত। এই ধামটি হিমাচল প্রদেশের নজিকে অবস্থিত একটি পবিত্র স্থান। এই স্থানে অবস্থিত মন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অবকাশ, যেখানে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন ধর্মীয় প্রতীকগুলি এবং স্মৃতির স্থল। এখানে আপনি ধার্মিক অভিজ্ঞতা এবং শান্তির মহাসাগরে প্রবেশ করতে পারেন। অক্ষর ধামে আপনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ধার্মিক মাহৌলে আত্মা খুঁজে পাবেন। প্রতিবছর অক্ষর ধামে অনেক ধর্মীয় উৎসব ও পূজা অনুষ্ঠিত হয় যা ভক্তদের আকর্ষিত করে এবং দর্শনীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এখানে অভিজাত সান্দর্ভিক মন্দিরটি ভক্তদের আত্মা নিরীক্ষণে অনুমোদন দেয়।

২. কোটেশ্বর মন্দির – নেপাল, ভক্তপুর

কোটেশ্বর মন্দির নেপালের ভক্তপুর জেলায় অবস্থিত একটি অত্যন্ত প্রমুখ ধর্মীয় অবকাশ। এই মন্দিরটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নেপালের এই প্রাচীন স্থানটি বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধ শ্রদ্ধালুদের আকর্ষণ করে এবং বৌদ্ধধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই মন্দিরটি বৌদ্ধ ধর্মের একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও পবিত্র স্থান।

কোটেশ্বর মন্দিরের অবকাশে আসার মাধ্যমে ভক্তরা বৌদ্ধ ধর্মের মূল বিশ্বাস ও আচরণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। এই মন্দিরে অবস্থিত বিশাল বেলা ও মন্দিরের ভবনের সান্দর্ভিক সুন্দরতা ভক্তদের অভিজ্ঞতা এবং ধ্যানে প্রবৃত্তি উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়াও, এখানে প্রতিবছর অনেক ধর্মীয় উৎসব ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা ভক্তদের উত্সাহিত করে এবং বৌদ্ধ ধর্মের মহান উপাসনার অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

৩. কোণার্ক সূর্য মন্দির

কোণার্ক সূর্য মন্দির ভারতের অদ্ভুত একটি ঐতিহাসিক মন্দির, যা ওডিশার কোণার্ক নামক স্থানে অবস্থিত। এই মন্দিরটি হিন্দু ধর্মের অসাধারণ শিল্পকলা এবং স্থাপত্যশৈলীর উদাহরণ।

কোণার্ক সূর্য মন্দির উদ্ভাবিত হয়েছিল ১৩শ শতাব্দীতে, যখন কঙ্ক রাজার অধীনে এই মন্দিরটি নির্মিত হয়। এটি সূর্য দেবতার পূজার্চনার জন্য নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরের গঠন এবং নকশা অত্যন্ত সুদৃশ্য এবং আকর্ষণীয়, এবং এটি প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যশৈলীর উদাহরণ। মন্দিরের মূল ধাতুমুখী পিন্জরগুলির উপর আলঙ্কারিক শিল্পকলা চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং এই শিল্পকলা একটি মহাকাব্য হিসাবে বিশ্বের সাহিত্যে পরিচিত হয়েছে।

কোণার্ক সূর্য মন্দির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থান হিসাবে পরিচিত, এবং প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে আগত হয়। এই মন্দিরটির উপস্থিতি একটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ধর্মতলে, এবং এটি ভক্তদের জন্য একটি অত্যন্ত মৌলিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।

৪. আংকর ওয়াট, কম্বোডিয়া

কম্বোডিয়ায় অবস্থিত প্রামাণ মন্দির একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির যেখানে রাজত্বের সময়ে ধর্মীয় উৎসব ও পূজা অনুষ্ঠিত হতো। এই মন্দিরের সুন্দর স্থাপত্য ও প্রাচীন প্রতিমাগুলি ভ্রমণকারীদের অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা দেয়।

৫. গোলগুম্বজ মসজিদ, ভারত, দিল্লি

দিল্লি, ভারতের একটি ঐতিহাসিক শহর, যেখানে অবস্থিত গোলগুম্বজ মসজিদ একটি বিশেষ ধর্মশালা। এই স্থাপনাটি মুঘল সেনার রাজধানী আগরা থেকে নির্মিত হয়েছিল। এর সুন্দর স্থাপত্য এবং ধার্মিক মহত্ত্ব অবাক করে।

৬. মসজিদ-আল-হেরাম, সৌদি আরব, মক্কা

মক্কা, সৌদি আরবের একটি প্রতিষ্ঠানটি যেখানে পৌঁছার আলোকসংযুক্ত হওয়া আবশ্যক একটি ধর্মশালা এবং সাংস্কৃতিক সম্মানবলতা। এখানে অদ্ভুত শান্তি

৭. ষাট গম্বুজ মসজিদ: বাগেরহাট

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ধর্মশালা গুলির মধ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ একটি অনন্য অবদান রয়েছে। বাগেরহাটে অবস্থিত এই মসজিদটি মুঘল আমলের মসজিদ হিসেবে পরিচিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মূল্যের সাথে পরিপূর্ণ।

স্থান ও অবস্থান: ষাট গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাট জেলার কাহালুয়া উপজেলায় অবস্থিত। এই মসজিদটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম মুঘল মসজিদ গুলির মধ্যে অন্যতম। এটি অবস্থিত বাগেরহাট জেলা সদরের পশ্চিমে এবং নূরপুর জমিদার বাড়ির নিচে।

স্থাপত্য শৈলী: ষাট গম্বুজ মসজিদের উচ্চতা ও গম্বুজের সংখ্যা এর কারণে এটি একটি অনুপম স্থাপত্য কৌশলের প্রতীক। এই মসজিদে ষাটটি গম্বুজের ভারসাম্যিক উপাস্থাপনা রয়েছে, যা এটিকে একটি অদ্ভুত মূল্যবান স্থাপত্য মডেল হিসাবে প্রকাশ করে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ষাট গম্বুজ মসজিদের নির্মাণ কার্য আগে প্রারম্ভ হয় ১৫শ শতাব্দীতে, যখন মুঘল সাম্রাজ্যের শাসক গীয়াসউদ্দীন আজম এই কাজটি শুরু করেন। তার পরে, মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যান্য শাসকরা এই মসজিদে যুদ্ধাপরাধীদের জন্য মাদক খাদ্য সরবরাহ করতেন।

৮. তাজমহল, দিল্লি, আগ্রা

তাজমহল: সুন্দরতার অমৃত নগরীঃ ভারতের ঐতিহাসিক শহর আগ্রার হৃদয়ে অবস্থিত তাজমহল একটি অদ্বিতীয় স্মৃতিস্থল। এই অবিস্মরণীয় স্থাপনা একটি প্রেমের চিহ্ন হিসাবে পরিচিত, এবং বিশ্বের সেরা স্থাপত্য কৌশলের একটি উদাহরণ।

স্থান ও অবস্থান: তাজমহল প্রাচীন শহর আগ্রার হৃদয়ে অবস্থিত, যা উত্তর ভারতের রাজধানী নিউ দিল্লির নিকটে অবস্থিত। সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রীর স্মরণে তৈরি করেন “তাজমহল”, যা অসাধারণ সৌন্দর্য্যের অধিকারী ।

স্থাপত্য শৈলী: তাজমহলের স্থাপত্য শৈলী একটি অপূর্ব মিশ্রণ । বিশ্বের চমকপ্রদ স্থাপত্য বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটির অবদান রয়েছে । এখানে ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। এটি পরিপূর্ণ মার্বেল ও অন্যান্য পাথর থেকে তৈরি করা, এবং এর সুন্দরতা এবং সুস্থিতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব: তাজমহলের নির্মাণ কার্য ১৬৩১ সালে আরম্ভ হয়, এবং এটি মুগল সাম্রাজ্যের শাসক শাহজাহানের প্রেমের প্রতীক হিসাবে পরিচিত। তাজমহল একটি স্বতন্ত্র মহিলার মাজার হিসাবে গণ্য, এবং তার সাথে যুদ্ধের সময় মুসলিম প্রেমিক আরজুমান বানো হিসাবে পরিচিত।

তাজমহলে ঘুরে আসা অভিজ্ঞতার পর, আপনার হৃদয়ে পুরনো ভালোবাসা ফিরে আসতে পারে।

৯. খ্রীষ্ট দ্য রিডিমার (প্রতিমা): বিশ্বের একটি আশ্চর্য ধর্মশালা

বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত ধর্মশালায় অবস্থিত “খ্রীষ্ট দ্য রিডিমার” প্রতিমার নির্মাণ বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম অবিস্মরণীয় ঘটনা। এই মহা প্রতিমা ব্রাজিলের রিও দি জানেইরো পর্বতের শীর্ষে অবস্থিত। এর সুন্দর নির্মাণ এবং আশ্চর্যজনক আকৃতি জনপ্রিয় হওয়ার কারণে, এটি প্রায় সকলের ভ্রমণ লিস্টে থাকে।

খ্রীষ্ট দ্য রিডিমারের প্রতিমা উচ্চতা প্রায় ১০০ মিটারের মতো, যা পর্বতের শীর্ষের উচ্চতা এবং দৃশ্য অবলম্বন করে। এই আশ্চর্যজনক প্রতিমা পর্বতের শীর্ষের চেয়ে উঁচু কোনো এক দিকে হলেও, তার দৃশ্য ব্যাপারে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা দেয়।

খ্রীষ্ট দ্য রিডিমারের প্রতিমা প্রথম স্থাপিত হয় ১৯২২ সালে, যা ব্রাজিলের মহান উদ্যোগে সম্পন্ন হয়। এই প্রতিমা একটি বিশাল স্কুলপচার ধারণ করে, যেখানে তার দাঁড়িয়ে থাকা শ্রেণিবিশেষ ধারণ করে ধর্মীয় এবং মানবিক অবলম্বন।

খ্রীষ্ট দ্য রিডিমার দর্শনীয় বস্তুর মতো একটি ধর্মশালা, যেখানে আপনি আত্মস্ফূর্ত হতে পারেন, বিচার করতে পারেন, এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলম্বন করতে পারেন। বিশ্বের অনেক ধর্মীয় অবলম্বনের একটি উদাহরণ হিসাবে, এটি অবিস্মরণীয় এবং আনন্দদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে।

উপসংহারঃ

ভবিষ্যতে আরো কিছু দর্শনীয় স্থান নিয়ে লিখবো। যদি সম্ভব হয় তো এই সব স্থানে ভ্রমন করে আপনাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন। সেখানে থাকা খাওয়া এবং যাতায়াত নিয়েও বিস্তারিত কমেন্টে জানান। আমি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন টুরিস্ট স্পট নিয়ে লিখবো। যদি আজকের ব্লগ টি ভালো লেগে থাকে তো অবশ্যই লাইক এবং শেয়ার দিবেন এবং কমেন্ট করে জানাবেন। সবাইকে  অসংখ্য ধন্যবাদ!

মুমিনদের সাথে বিতর্কের প্রয়োজন কি?

কেন ধার্মিকদের সাথে আমরা তর্ক করে সময় নষ্ট করি যখন প্রমানের দায় ভার তাদের এবং তারা কোন প্রমান দিতে পারেনি বলেই আমরা নাস্তিক।

আমি এক সময় ধার্মিক ছিলাম এবং আমি নাস্তিকদেরকে প্রমান করার চেষ্টা করতাম যে একজন সৃষ্টিকর্তা আসলেই আছে। আমি প্রমান খুজতে গিয়ে দেখলাম আসলে কোন প্রমান নেই। আমি তখন এটা প্রমান করার চেষ্টা করতাম যে একজন থাকা সম্ভব। কিন্তু এটা প্রমান করাও সম্ভব নয়, এবং আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমান করা তো আরো কঠিন।

আমি বুঝে গেলাম যে আল্লাহ বা যে কোন সৃষ্টিকর্তা বিশ্বাস করা অন্ধ বিশ্বাস ছাড়া আর কিছু নয়।

আমাদের বিতর্কের উদ্দেশ্য হচ্ছে সঠিক তথ্য গুলি মানুষের কাছে তুলে ধরা আর এর থেকে চিন্তার খোরাক যোগানো । আমরা এই তথ্য গুলিদিয়ে বিশ্বাসের ভিত্তি কি তা নির্ণয় করে থাকি । এছাড়া আমরা যদি সত্যকে গুরুত্ব দেই বা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি তবে সঠিক তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন ।

No photo description available.

মানুষের বিলুপ্ত পাঁচটি টি প্রজাতি

একসময় মানুষের ৬টি প্রজাতি ছিল, যার পাঁচটি পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। থেকে গেছে মাত্র একটি প্রজাতি – *হোমো স্যাপিয়ান্স*। কেন হোমো স্যাপিয়ান্স প্রজাতিটি টিকে গেলো আর অনেক বড়ো আকৃতির এবং অনেক বেশি শক্তিশালী *”নিয়ান্ডারথাল”* নামক মানুষের প্রজাতিটি বিলুপ্ত হয়ে গেলো তার কারণ খুঁজতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন – তার প্রধান একটি কারণ হচ্ছে নিয়ান্ডারথাল মানুষ ছিল মূলত *”সলিটারি”* – মানে তারা একা একা বাঁচতে পছন্দ করতো। অন্যদিকে হোমো স্যাপিয়ান্স প্রজাতিটি সব সময় দল বেঁধে থাকতো।‎

জীব জগতে এটি নতুন কিছু নয়। একদিকে লেপার্ড যেমন সলিটারি আনিম্যাল, অন্যদিকে সিংহ, হায়েনারা থাকে দল বেঁধে। দল বেঁধে থাকার সুবিধে হলো – *সেফটি ইন নাম্বারস*। মানে একজন বিপদে পড়লে বাকিরা তাকে সাহায্য করতে পারে। সলিটারি আনিম্যালদের ক্ষেত্রে তেমন ঘটে না। ঠিক এই কারণেই হোমো স্যাপিয়ান্স একসময় দল বেঁধে মেরে শেষ করেছিল অনেক বেশি শক্তিশালী কিন্তু সলিটারি নিয়ান্ডারথাল প্রজাতিকে। নিয়ান্ডারথালরা সলিটারি প্রাণী হওয়ায় তারা তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। তাছাড়া দল বেঁধে থাকায় স্যাপিয়ান্স প্রজাতিটির খাদ্যের অভাব হয়নি এবং মহিলা, শিশু ও অসুস্থরা প্রয়োজনীয় প্রটেকশন পেয়েছে।‎

কিন্তু ঘোর নগরকেন্দ্রিক জীবনে এসে আমরা *ক্রমশ ভুলে যাচ্ছি* যে হোমো স্যাপিয়ান্স প্রজাতিটি সংঘবন্ধ জীব। নেচারে আমরা যে এখনো বিলুপ্ত হইনি তার কারণ আমরা দল বেঁধে ছিলাম। *একা বাঁচার জন্য আমাদের তৈরী করা হয়নি*। কাজেই মানুষ কোনো কারণে একা হয়ে গেলে, নেচার শরীরবৃত্তীয়ভাবে মানুষকে ফাইটিং মোডে নিয়ে যায়। একাকিত্বে ভোগা মানুষের উপর স্টাডি করে দেখা গেছে যে *তাদের প্রেসার বেশি, সুগার লেভেল বেশি এবং হার্টবিটও বেশি*। মানুষ তখন অপরিচিতদের থ্রেট হিসেবে দেখতে শুরু করে। তার থেকে একটি ভিসিয়াস সাইকেল তৈরী হয়। মানুষের ইমিউনিটি কমে যায়, ইনফ্লামেশন বেড়ে যায়, হার্ট ডিসিস, স্ট্রোক এবং প্রিম্যাচিওর ডেথের চান্স বেড়ে যায় *প্রায় ৫৮%* !‎

স্টাডি বলছে, বর্তমান পৃথিবীতে ৩৩% মানুষ একাকিত্বে ভোগেন – মানে প্রত্যেক তিনজনের একজন। তারা কিন্তু সবাই বয়স্ক নন। *সবচেয়ে বেশি একাকী মানুষ থাকেন ব্রাজিলে, তারপর তুরস্ক এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত* ! ডিমেনশিয়া, আলজাইমার, ডিপ্রেশন ভারতে যে প্রায় মহামারীর আকার ধারণ করেছে তার অন্যতম কারণ এই একাকিত্ব। সাইকোলজিস্টরা বলছেন একাকিত্ব মানে কিন্তু একা থাকা নয়। *একাকিত্ব একটি “স্টেট অফ মাইন্ড” যেখানে মানুষটির মনে হচ্ছে সে একা, নির্বান্ধব*, মন খুলে দুটি কথা বলার যার কেউ নেই।‎

তাহলে উপায় ? এই নিয়ে একটি সেমিনার অ্যাটেন্ড করলাম সেখানে ভারত-আমেরিকা -ইংল্যান্ডের নামকরা ডাক্তারবাবুরা নিদান দিলেন আরো বেশি বেশি “*সোশ্যাল ইন্টারঅ্যাকশন এবং সোশ্যাল কানেক্ট” তৈরী করার*। তারা বললেন হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে বের করে তাদের সঙ্গে দেখা করার। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে বন্ধু সার্কেলকে বাড়ানো এবং *রিয়েল ওয়ার্ল্ডে তাদের সঙ্গে বেশি বেশি সোশালাইজ করার*।

কে জানতো, ছেলে-বুড়োদের সকাল-সন্ধেতে *চায়ের দোকানের আড্ডা বা পাড়ার কাকিমা-জ্যেঠিমাদের “পাড়া বেড়ানো”* বস্তুটিই আসলে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি !‎

এই সেমিনারে এক বয়স্ক ভদ্রলোক নিজের জীবনের কথা বললেন। স্ত্রী মারা যাবার পর তিনি নিদারুন একাকিত্বে ভোগেন এবং ২০১৯ তে তার স্টেজ ওয়ান ক্যান্সার ধরা পড়ে। ভদ্রলোক তখন “আর ক’দিনই বা বাঁচবো, *যাবার আগে সবার সঙ্গে দেখা করে যাই” মোডে চলে গিয়ে* খুঁজে খুঁজে তার হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিজের বাড়িতে তাদের ডেকে নিয়ে সকাল-সন্ধে আড্ডা বসান। ভদ্রলোক যে শুধু ক্যান্সার সারভাইভ করেছেন তাই নয়, তিনি বললেন আমি এখন মানসিক ভাবে সম্পূর্নই সুস্থ। মজা করে আরো বললেন, বাড়িতে আড্ডা বসানোয় *চা, সিঙ্গারা, মিষ্টি দিয়ে আতিথেয়তায় তার যে খরচ হয় সেটি ওষুধের খরচের ৩০%-ও নয়*। ওটাকে তিনি ভালো থাকার ইনভেস্টমেন্ট হিসেবেই দেখেন !‎

রবি ঠাকুর সেই কবেই লিখে গেছেন *”আরেকটিবার আয় রে সখা, প্রাণের মাঝে আয় / মোরা সুখের-দুখের কথা কব, প্রাণ জুড়াবে তায়”* – ডিপ্রেশন ও নানাবিধ সাইকোলজিক্যাল রোগ থেকে বাঁচতে সোশ্যাল ইন্টারঅ্যাকশনের মাধ্যমে এই *”প্রাণ জুড়োনোর”* কোনো বিকল্প কিন্তু ডাক্তারবাবুরাও দিতে পারছেন না কেননা নেচার, হোমো স্যাপিয়ান্স প্রজাতিকে সেভাবে বানায়নি।

লেখাটি কে লিখেছেন জানিনা, যিনিই লিখেছেন খুবই প্রসঙ্গিক, ভালো লাগলো তাই share করলাম….

সংগৃহীত।

কোরান পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান নয়!

১-*হিজড়াদের সম্পর্কে তো সবাই জানেন। কোরানের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কারও ছেলে সন্তান পাবে মেয়ে সন্তানের দ্বিগুন সম্পত্তি। তো কোরান অনুযায়ী হিজড়া সন্তানের মাঝে কিভাবে সম্পত্তি বন্টন করে দিবেন? তাদের কতগুন দিবেন? আবার, কোরান অনুযায়ী একজন পুরুষ স্বাক্ষী সমান দুজন নারী স্বাক্ষী। হিজড়াদের স্বাক্ষ্য কিভাবে মুল্যায়ন করবেন?

*আপনি দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, রমজানে রোজা রাখেন। কিন্তু পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে একটানা ছয়মাস দিন ও ছয়মাস পর্যন্ত রাত হয়। সেখানে কোন নিয়মে নামাজ রোজা করবেন?

এরকম অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয় কোরানে নেই।

পক্ষান্তরে অনেক অনেক অপ্রয়োজনীয়/তুচ্ছ/অমানবিক আয়াতে ভরপুর পুরো কোরান। যেমনঃ কোরান জুড়ে ৩০০ টি আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহকে ভয় করতে, ৫০০ টি আয়াতে দোজখের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, ৪০০ টি আয়াতে ইহুদি কাফেরদের ঘৃণা করতে বলা হয়েছে, ১৬৪ টি আয়াতে ইসলামী জিহাদের ডাক দেয়া হয়েছে!

কোরান নবি মুহাম্মদ ও তার কতক হেল্পার সাহাবী কর্তৃক লিখিত বলেই কুরানে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নবি মুহাম্মদ ও আরবের সমসাময়িক লোকজন যা জানতো না, মুহাম্মদের আল্লাহও তা জানতো না। কুরানে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখিত হয়নি, অথচ তুলনামুলক কম গুরুত্বপূর্ণ বা তুচ্ছ বিষয় আলোচিত হয়েছে বেশী; অনেক বিষয় একাধিক আয়াতে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। কুরানের অধিকাংশটাই ব্যয় করা হয়েছে নবীর ব্যক্তিগত জীবন, যুদ্ধবিগ্রহ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কিচ্ছা কাহিনী আলোচনা করে। নবীর জীবদ্দশার সময়কাল ও আরব অঞ্চলটাই প্রাধান্য পেয়েছে; তাই কোরান সর্বকালের জন্যে নয়, সকল মানবজাতির জন্যে নয়। নবি মুহাম্মদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা যতটুকু জানতো, কোরানে ততটুকুই রয়েছে। তো চলুন কিছু উদাহরন দেখে আসি।

২-✔ Global Warming বা বিশ্ব উষ্ণায়ন বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিন দিন বাড়ছেই; ইতোমধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে ঢাকা, কলকাতা, মালে, সিডনি, লন্ডন, নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বড় বড় সব শহর। একসময় হয়ত মানুষের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পরবে। কিন্তু, মজার ব্যাপার হলো কোরানে বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে কিছুই বলা নেই।

বিশ্ব উষ্ণায়নের কথা না থাকলেও দোজখের উষ্ণতার কথা উল্লেখ করতে ভুল হয়নি।

✔ কোরানে মেরু অঞ্চলের কোন উল্লেখ নেই! কানাডা, নরওয়ে, রাশিয়ার বেশ কিছু শহরে একটানা কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হয় দিন রাত। ওসব অঞ্চলে নামাজ রোযার নিয়ম কি? সময় আন্দাজ করে নিতে হবে, তাই তো? কিন্তু এটা তো মানুষের সমাধান, কোরানে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ নেই কেন?

কারন নবি জানতো না যে পৃথিবীতে এমন স্থানও থাকতে পারে যেখানে একটি দিন ছয় মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে! আরব অঞ্চলে থেকে এমন কথা চিন্তাও করা যায় না। মুহাম্মদ মেরু অঞ্চলের বিষয়টা জানলে নিশ্চয়ই ওহী লেখকদের বলতেন, “ইন্টারেস্টিং বিষয়! এটাও লিখে ফেল”

কোরানে মেরু অঞ্চলের মত গুরুত্বপুর্ন বিষয় উল্লেখ না থাকলেও আরবের মরুভুমির কথা উল্লেখ আছে বহু আয়াতে।

✔ কুরান লিখিত হয়েছে আরবি ভাষায়। পৃথিবীর মাত্র ৪ শতাংশ মানুষের ভাষা আরবি। বাকি ৯৬ শতাংশ মানুষ আরবি বুঝে না; সুতরাং এই ৯৬ শতাংশ মানুষ কুরান থেকে সরাসরি উপদেশ নিতে পারছে না। নির্ভর করতে হচ্ছে অনুবাদের উপর।

কুরান আন্তর্জাতিক ভাষা ইংলিশে লিখিত হলে তা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী সংখ্যক মানুষের বোধগম্য হতো। কিংবা, আল্লাহ আরবিকেই আন্তর্জাতিক অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারতো।

কুরান কোন সবজান্তা সৃষ্টিকর্তার বাণী নয়। মুহাম্মদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গ কর্তৃক নিজেদের মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষায় কুরান লিখা অসম্ভব ছিল। তাছাড়া, মুহাম্মদ তখন জানতোই না যে, ভবিষ্যতে কোন একটি ভাষা আন্তর্জাতিক অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। কুরান কোন সবজান্তা ঈশ্বর থেকে প্রেরিত হলে তিনি কুরানকে আন্তর্জাতিক ভাষা অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি মানুষের বোধগম্য ভাষায় লিখিত করার ব্যবস্থা করতেন।

৩-✔ পৃথিবী ও জীবজগতের ইতিহাসে ডায়নোসর একটি গুরুত্বপুর্ন অধ্যায়। এখন যেমন মানুষ পুরো পৃথিবীতে রাজত্ব করছে, তেমনি একসময় ডায়নোসররা পৃথিবীজুড়ে রাজত্ব করতো। অথচ কুরানে ডায়নোসর সম্পর্কে কিছুই বলা নেই।

জীবাশ্ম পরীক্ষা করে অতীতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কোন প্রাণীর সম্পর্কে ধারনা লাভ করা সম্ভব ছিল না মুহাম্মদের পক্ষে। তাই, ডায়নোসর সম্পর্কে কোরানে উল্লেখ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।

কোরানে একটি আয়াতেও ডায়নোসরের কথা বলা হয়নি, কিন্তু উটের কথা বলা হয়েছে ১৯ টি আয়াতে! সুবহানাল্লাহ!

✔ হিজড়াদের (Transgender) সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ নেই কোরান নামক পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানে! উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে কারও ছেলে সন্তান পাবে মেয়ে সন্তানের দ্বিগুন! আবার, কোন ঘটনার সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে পুরুষ হলে একজন আর নারী হলে দুজন সাক্ষী লাগবে। তো, এসব ক্ষেত্রে হিজড়াদের কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে? সম্পত্তির কতটুকু পাবে একটা হিজড়া সন্তান? কয়টা হিজড়া সাক্ষ্য দিলে তা সহিহ হবে?

✔ আল্লাহ পৃথিবীতে প্রায় লক্ষাধিক নবী রাসুল প্রেরন করেছেন। কোরানে ২৫ জন নবী রাসুলের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, তারা সবাই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের। যদিও আল্লাহ কোরানে বলেছেন যে তিনি সকল জাতির জন্যেই নবী পাঠিয়েছেন, কিন্তু এটি একটি দায়সারা বাণী। কোরানে উল্লেখিত সব নবী রাসুলই কেন মধ্যপ্রাচ্যের হবে? আল্লাহ কেন পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের একটি নবীর নামও উল্লেখ করলেন না? আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, চীন, জাপান ও ভারতীয় অঞ্চল এর কুখ্যাত সব কাফের ইহুদি নাসারাদের মানুষ করার জন্যে কি কোন নবীর দরকার ছিল না?

✔ আমাদের মহাবিশ্ব ঠিক কতটা বড়, সে সম্পর্কে কি কোন ধারনা আছে? পৃথিবী নামক গ্রহটা কতখানি বড় তা আমরা কিছুটা হলেও ধারনা রাখি। এই পৃথিবী থেকে ১৩ লক্ষ গুন বড় সুর্য। সুর্য ও তাকে কেন্দ্র করে ঘুর্নয়মান কমপক্ষে ৮ টি গ্রহ নিয়ে আমাদের সৌরজগৎ। এমন প্রায় ৪০০ বিলিয়ন সৌরজগৎ নিয়ে আমাদের গ্যালাক্সি গঠিত যার নাম মিল্কি ওয়ে। আলোর গতিতে ছুটলেও ১ লক্ষ বছর লেগে যাবে মিল্কি ওয়ে নামক গ্যালাক্সির প্রান্তে পৌছতে! আর, এরকম বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি নিয়ে আমাদের এই ইউনিভার্স গঠিত! আরও সামনে আগাতে থাকলে ত পুরা থ হয়ে যাবেন। এমন ইউনিভার্স আছে বিলিয়ন বিলিয়ন যা সামগ্রিকভাবে মাল্টিভার্স নামে পরিচিত! যাহোক, বিশাল সমুদ্রের মধ্যে একফোটা পানি কিংবা তার চেয়ে ছোট আমাদের পৃথিবী!

এবার মুল কথায় আসি। কোরানে এই বিশাল মহাবিশ্ব সম্পর্কে কোন স্পষ্ট ধারনা দেয়া নেই কেনো? বিশাল সমুদ্রের সৃষ্টিকর্তা একফোটা পানির মধ্যেই তার আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখলেন! বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ নক্ষত্রের কথা কিছুই বললেন না, বললেন শুধু পৃথিবী, চন্দ্র আর সুর্যের কথা! তাও পৃথিবীর পুরো অংশ নয়, প্রাধান্য পেয়েছে আরব অঞ্চলটাই। আমাদের দিলের নবী যতটুকু জানতেন, আল্লাহও কি ঠিক ততটুকুই জানেন? এর বেশি নয় কেন?

৪-✔ সর্বকালের সকল মানব জাতির জন্যে রচিত গ্রন্থ কোরানে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি বৃহৎ ধর্ম সম্পর্কে কোন কিছু বলা হয়নি। যেমনঃ হিন্দু ধর্ম, চৈনিক ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম ইত্যাদি সম্পর্কে কোরানের একটা আয়াতেও উল্লেখ নেই। অপরপক্ষে, আরবের এক বিলুপ্ত ধর্ম সাবিয়ান সম্পর্কে বলা হয়েছে ৩ টি আয়াতে। কেন এমনটি হলো? কারন একটাই, নবীজির সময়ে আরবে যেসকল ধর্ম বিদ্যমান ছিল সেগুলোই কোরানে উল্লেখ করেছেন। পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ কে কি ধর্ম পালন করছে, তা নবী মুহাম্মদের জানা ছিল না। জানলে নির্দিষ্টভাবে ধর্মের নাম উল্লেখ করে হিন্দু বৌদ্ধদেরও জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে রাখতেন।

✔ কোরানে যতগুলো জাতিগোষ্ঠী/সম্প্রদায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তার সবগুলোই আরব অঞ্চলের। পৃথিবীর অন্য সব জাতি সম্পর্কে কি আল্লাহ অবগত ছিলেন না? তাছাড়া, বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো সম্পর্কে কিছু বলা নেই কেন? কোরানে কেন বলা হলো না যে ব্রিটিশরা পুরো পৃথিবী শাসন করবে? কেন বলা নেই যে যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীজুড়ে মাতাব্বরি করবে? তাহলে কি ভেবে নিবো যে কোরান ১৪০০ বছর আগের জন্যেই, বর্তমানের জন্যে নয়?

✔ কোরানে কেনো নেই বিশ্বযুদ্ধের কথা? এটা কি মানবজাতির জন্যে কোন গুরুত্বপুর্ন ঘটনা নয়? বিশ্বযুদ্ধের কথা উল্লেখ না থাকলেও বদরের যুদ্ধ, কদরের যুদ্ধ… খন্দকের যুদ্ধ, গন্ধকের যুদ্ধের কথা তো ঠিকই আছে। কেনো? ঐ যুদ্ধগুলো নবী মুহাম্মদের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে? আর, বিশ্বযুদ্ধগুলো ভবিষ্যতে হবে, তাই আল্লাহর এটা জানা ছিল না, তাই তো?

✔ আধুনিক প্রযুক্তি মানুষের জীবনটাই বদলে দিয়েছে। কোরানে কি কোন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে উল্লেখ আছে? কম্পিউটার, ইন্টারনেট, টেলিভিশন, রকেট, বিদ্যুৎ, নিউক্লিয়ার পাওয়ার, মোবাইল, টেস্ট টিউব বেবি? তাহলে আমরা কিভাবে দাবী করবো যে কোরান সর্বকালের? কোরানে রকেট সায়েন্স না থাকলেও উড়ন্ত গাধার কিচ্ছা কিন্তু ঠিকই আছে। আলহামদুলিল্লাহ…

৫-✔ আজকের তালিবান জঙ্গীরা প্রত্যেকে সাথে করে আড়াই লাখ টাকা দামের মেশিনগান আর পাঁচ লাখ টাকা দামের রকেট লাঞ্চার নিয়ে ঘোরে, অথচ পকেটে নেই একজোড়া জুতা কেনার টাকা! কিন্তু, কোরানে কি উল্লেখ আছে এসব আধুনিক অস্ত্রের কথা? ফাইটার জেট, সাবমেরিন, নিউক্লিয়ার বোম্ব, মিসাইল, জীবাণু অস্ত্র… এসব আধুনিক সব যুদ্ধাস্ত্র সম্পর্কে কেন কিছু বলা হয়নি? তলোয়ারের কথা বলতে তো ভুল করেন নি আল্লাহ।

✔ আমাদের এই পৃথিবী গোলক আকৃতির। কোরানের এমন একটি আয়াতও কি দেখাতে পারবেন যেটা বলে পৃথিবী গোল? এমন একটি আয়াতও কি দেখাতে পারবেন যেটা বলে পৃথিবী ঘুরছে? পুরা কোরান তন্ন তন্ন করে খুজলেও পাবেন না, কেননা মুহাম্মদ জানতো না পৃথিবীর আকৃতি কিংবা গতি সম্পর্কে। বরং কোরান বলেছে পৃথিবী সমতল এবং এর বেশি কিছু কোরান থেকে আশা করা উচিত নয়।

✔ কোরানে পিপড়া, মৌমাছি, উট, গরু কুকুর, সাপ, ঘোড়া, গাধাসহ সর্বমোট ৩৫ টি প্রানীর কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, এদের সবাইকে আরব অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায় । আরব দেশে বাসস্থান নয় এমন কোন প্রানীর উল্লেখ কোরানে নেই। থাকবেই বা কিভাবে? সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে অষ্ট্রেলিয়াতে গিয়ে ক্যাঙ্গারু, সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার কিংবা এন্টার্কটিকাতে গিয়ে পেঙ্গুইন দেখে আসা তো সম্ভব ছিল না। আর হ্যা, সমুদ্রের নীচে যে লক্ষ লক্ষ জীব প্রজাতি বাস করে, তাদের নাম কোরানে আশা করা নিশ্চয়ই বোকামি হবে?

No photo description available.

All reactions:

49জান্নাতী হুর, Mukto Mona Lalon and 47 others

হলিউড সুপারস্টারদের ইসলাম গ্রহন নিয়ে নিউজ

আজকাল বেশ কিছু হলিউড সুপারস্টারদের নিয়ে নিউজ করা হচ্ছে যে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিছুদিন আগে সময় নিউজ একটা প্রতিবেদন পাব্লিশ করেছে যে জার্মানির এক তরুণী ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং সে প্রথমবারের মতো রোজা রেখেছে। এছাড়াও বেস কিছু সেলিব্রেটির ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে আমেরিকার রেপার ও সংগীত প্রযোজক লিল জন । একটি পোস্টে দেখলাম বিখ্যাত পর্ণ তারকা জনি সিন্স ও মুসলমান হয়ে গেছেন। তবে তাদের লাইফ-স্টাইল নিয়ে কিছু বলার নেই। কারণ সবাই জানেন যে তারা ইসলাম গ্রহণ করলেও কিছু যায় আসে না। কিন্তু মুসলমানরা দেখলাম গর্বে গর্ভবতী। সব খানে তুমুল আলহামদুল্লিলাহ, সুভান আল্লাহর ঝড় এবং সেই সাথে আছে লাইক শেয়ার । কিন্তু এর মাঝে ভালো ভিউ এবং রিচ হাসিল করে নিচ্ছে নিউজ পোর্টাল গুলি । তারা ট্রোজান হর্সের মতো ইসলাম কে ব্যাবহার করে পাচ্ছে তুমুল জনপ্রিয়তা ।

Continue reading

নবী মোহাম্মদ (সঃ) এর গুপ্ত হত্যার তালিকা

নবীজি মুখে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে শুধু যারা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদেরকেই হত্যা করতে। কিন্তু বস্তুত তিনি গোপনে বেশ কিছু বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছিলেন। সে সব গুপ্ত হত্যার তালিকা এবং সংক্ষিপ্ত বর্ণনা পেতে নিচের আর্টিকেল পড়ুন।

Continue reading

 মুরগী চুরে করে ধরা না পড়লে ক্ষতি কি?

মুমিনরা চুরি করলে কি ক্ষতি সেটাও তো বলতে পারে না । শুধু বলেছেন পাপ। মানে আল্লাহ বলেছে তাই। এটা কোন যুক্তি না। এটা একটা লজিকাল ফ্যালাসি। মানে চুরি কেন খারাপ আপনি বলতে পারছেন না। শুধু আল্লাহ বলেছে তাই আপনি চুরি করেন না। আর পরকালে যে কোন বিচার হবে সেটার ও কোন প্রমান দিতে পারছেন না।

বাংলাদেশে যে ৯০% মুসলমান, এ দেশে এত দুর্নীতি কেন? তাহলে তারা কি পরকালে বিশ্বাস করেনা? পক্ষান্তরে ইউরোপে বেশির ভাগ মানুষ নাস্তিক। সেখানে কোন অপরাধ নেই কেন? তার মানে পরকালের বিশ্বাস কোন অপরাধ দমন করতে পারে না।

আমি একজন নাস্তিক হয়ে চুরি করি না । কারন কি? কারন আমি যুক্তি দেখাতে পারি যে কেউ চুরি করলে সেটা আরেকজনের ক্ষতি হয় এবং সেটা মানবাধিকার লংঘন হয়। সমাজে যদি সবাই চুরি করে তাহলে কেউ সুরক্ষা পাবে না। তাই সবাইকে চুরি থেকে বিরত থাকতে হবে ।

মুমিনরা ভালো খারাপের কোন যুক্তি দিতে পারে না। শুধু আল্লাহ বলেছে তাই। কিন্তু যুক্তি টা কি? কোন একটি কাজ কেন খারাপ সেটা যদি আপনি যুক্তি দিতে পারেন, সেটা নাস্তিক আস্তিক সবাই মেনে নিতে বাধ্য।

মূর্খ ডঃ জাকির নাইক

একবার জাকির নাইকের এক লেকচারে একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট এসে প্রশ্ন করলো বিবর্তন সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? এর উত্তরে জাকির নাইক যা বলেছে তা শুনে আমি রীতিমত থান্ডার হয়ে গেলাম। বলে কি এই মূর্খ ডাক্টার? সে কি আসলেই কোন মেডিকেল স্কুল থেকে পাশ করেছে? বিবর্তন তত্ত্ব সম্পর্কে ডঃ নাইক বললেন এটা শুধুমাত্র থিওরি। কোন ফ্যাক্ট না। আসলে বিজ্ঞানের ভাষায় থিওরি, এবং সাধারন ইংরেজী ভাষায় থিওরি যে এক না এটাও এই মূর্খ ডাক্তার জানেন না। বিজ্ঞানে থিওরি (বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব) হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক ঘটনা বা ফ্যাক্টের ব্যাখ্যা। এটা কোন অনুমান বা কল্পনা নয় যেমনটা এই ডাক্তার সাহেব বুঝাতে চেয়েছেন। একটি হাইপোথিসিস একটি অব্জারভেশনের উপর নির্ভর হয় এবং সেটা পরীক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে থিওরি হয়।

বিবর্তন তত্ত্ব এমন একটা থিওরি যা বহু প্রমানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত। এখন এই ডাক্তার সাহেব আরো একটি হাস্যকর কথা বললেন সেটা হচ্ছে থিওরি নাকি ল হয়। একটা বিজ্ঞানের থিওরি কোন দিন ল হয় না। থিওরি হচ্ছে ভিন্ন একটি জিনিষ এবং ল হচ্ছে ভিন্ন। এমন আগডুম বাগডুম বলে উনি মুমিনদের মাথা কেন নষ্ট করছেন? উনি কি আসলেই মূর্খ নাকি হিপক্রেট? জেনে শুনে সত্য গোপন করছেন? কোনটা?

তথ্য সুত্রঃ –

ডারউইনের ভুল তত্ত্ব বনাম আদম হাওয়ার ধপাস তত্ত্ব

বিজ্ঞানে থিওরি (বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব)