শহিদমিনারে ফুল দেয়াকে মূর্তিপূজার সাথে তুলনা করতে, শেরেক সাব্যস্ত করতে এবং প্রোপাগান্ডা চালিয়ে উঠতি প্রজন্মকে শহিদমিনার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে সারা বছর তৎপর থাকে একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র। অথচ শহিদমিনার একটি ধর্মনিরপেক্ষ ভাস্কর্য। এতে বাঙালিরা ফুল দেন ভাষাশহিদদের প্রতি নিছক শ্রদ্ধা দেখাতে। আজ পর্যন্ত কোথাও শোনা যায়নি— শহিদমিনারের শিক ধরে কেঁদেকেটে কোনো হিন্দু নারী হাত জোড় করে উত্তম স্বামী চেয়েছেন কিংবা কোনো মুসলিম ছাত্রী পরীক্ষায় ভালো ফল পেতে শহিদমিনারে গিয়ে তসবি জঁপেছেন। আজ পর্যন্ত শোনা যায়নি— রোগমুক্তির জন্য কোনো বৃদ্ধ জাতীয় স্মৃতিসৌধে পাঁঠা বলি দিয়েছেন কিংবা কোনো ধ্বজভঙ্গ পুরুষ দাম্পত্য জীবনে সুখী হবার জন্য অপরাজেয় বাংলায় খাসি মানত করেছেন। শেরেক যদি হয়েই থাকে, তা অহরহ হয়ে চলছে বিবিধ পিরের দরগায়। শহিদমিনারে-ভাস্কর্যে হয় নিছকই সংস্কৃতির চর্চা, অপসংস্কৃতির ধারকদের তাই শহিদমিনারকে এত ভয়।
ইদানীং একটা খবর আসছে মিডিয়াতে যে গাজীপুরে এক গার্মেন্টস কারখানায় নামাজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই খবর শুনে হাজার হাজার মুমিন মুসলমানরা “আলহামদুল্লিলাহ, সুভান আল্লাহ্,আমিন” ইত্যাদি কমেন্ট করে ফেসবুক ভাসিয়ে দিচ্ছেন। জি, এটাই সঠিক ইসলাম।
আমরা বাঙ্গালী নিজের দোষ না ধরে অন্যের দোষ ধরতে ব্যাস্ত হই এই জন্য আমরা আজও একটা অসভ্য জাতি। আমি বিদেশীদের কাছে শিখেছি যে আগে নিজেদের সমালোচনা করতে হয়। আগে নিজের দোষ দেখতে হয়। আপনার নিজের ছেলে যদি পাশের বাসার ছেলের সাথে মিলে অপরাধ করে তবে আগে আপনার ছেলেকে ঠিক করুন।
রিতা দেওয়ান যখন গান করছিল, তখন সামনে পিছে হাজার হাজার দর্শক শ্রোতা ছিল,যাদের ৯৮% ই মুসলমান।
অথচ তারা কেউই রিতা দেওয়ানের কথার বিরুদ্ধে টু-শব্দটুকুও উচ্চারণ করেনি। কারন তারা আগাগোড়া পুরো অনুষ্টান তথা পালাগানটা দেখে তাদের কুরান হাদীসের রেফারেন্সে পক্ষে বিপক্ষে প্রশ্নগুলো শুনেছে এবং সেগুলোর প্রত্যেকটাই যৌক্তিক মনে হয়েছে। তাই তারা চুপচাপ উপভোগ করছিল।
২। বল তারাই খাঁটি মুমিন এবং ইসলামের একনিষ্ঠ সেবক ।
যাদের মাথায় শুধু একটা জিনিষ ই ঘুরপাক খায় – শুধু সেক্স আর সেক্স । তবুও নাকি তারাই থাকে পুত পবিত্র, ফ্রেস।
অনেক ধার্মিকরা মনে করেন যে নাস্তিকরা সৎ মানবিক এবং নৈতিক হতে পারেনা। আর হবেই বা কেন? তাদের তো অদৃশ্য কোন সত্ত্বার কাছে জবাবদিহি করতে হয় না। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ঠিক তার উল্টোটা। যে সব দেশে ধর্মের প্রভাব নেই বললেই চলে, সে সব দেশে অপরাধ অনেক কমে গেছে। জেল খানায় গেলে দেখা যায় নাস্তিক নেই, ধার্মিকরাই বেশি। সেটা যে দেশের জেল ই হোক। অনেক গুলো দেশের জেল খানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অপরাধীর অভাবে।
ইংলিশে একটা কথা আছে যে “more catholic than the pope”
অর্থাৎ, মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। আমাদের দেশের মুমিনদের অবস্থা হল সেই রকম। ইসলামে ছবি তোলা, সিনেমা দেখা, গান বাজনা এসব কিছুই হারাম । কিন্তু আরবের কোন দেশ ই এখন এগুলো মানেনা। এমন কি মেয়েদের পর্দা করা এবং “অভিভাবক ছাড়া বাইরে যেতে পারবে না” – এটাও আরব দেশ গুলোতে পরিবর্তন হয়ে গেছে। কিছু দিন আগে নারীদের গাড়ির লাইসেন্স দেওয়ার অনুমতি হয়ে গেছে। অনেকেই এখন টি সার্ট আর জিন্স পরে বাইরে যাচ্ছে। শুধু কিছু কিছু অনুন্নত মুসলিম দেশে, যেমন পাকিস্তান আফগানিস্তান এবং আমাদের দেশের কাঠ মোল্লারা এগুলোর সাথে তাল মিলাতে না পেরে, ইসলাম ইসলাম করে লাফালাফি করে।
এভাবে ইস্তেমার মাঠের পাশে রাস্তা বন্ধ করে মানুষের সমস্যা করে ইবাদত করা কি ইসলাম সম্মত? আজ হয়তো কোন ইমারজেন্সির রুগি হাসপাতালে সময় মতো পৌছাতে পারবে না। হয়তো কারো চাকরির ইন্টার্ভিউ ছিল কিন্তু সে সময় মতো যেতে না পারায় চাকরি হারাল। হয়তো কারো কোন শিপমেন্ট এয়ারপোর্টে পৌছাতে পারলো না । মাইক বাজানোর জন্য হয়তো কারো পরীক্ষার পড়া নষ্ট হচ্ছে, হয়তো কেউ অসুস্থ হয়ে শব্দ দূষণের জন্য ঘুমাতে পারছে না।
হুজুর বয়ান দিচ্ছিলেনঃ বিশ্বের মুসলমানের সংখ্যা আড়াইশো কোটিরও বেশী।
মুসলমান এখন প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মাহশাল্লাহ। একসময় আসবে যখন মুসলমানরা সারা বিশ্ব দখল করে নিবে। তখন সবখানে ইসলাম কায়েম হবে। ইহুদি নাসারা, হিন্দুরা, সবাই মাথা নত করে ইসলামের পথে আসবে না হয় ইসলামি আইন মেনে চলতে হবে।