Category Archives: Blog
পহেলা বৈশাখ: অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সীমান্ত পেরুনো অভিন্ন প্রাণের উৎসব
বাঙলা বাঙালিয়ানায় লালিত লোকায়ত সমাজ সংস্কৃতির চিরায়ত ঐতিহ্য ধারন করেই হাজার বছর ধরে আমরা গর্বিত বাঙালি, শতবর্ষের ঔপনিবেশিক সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন হয়ত জাতিগত সেই শিঁকড়ের পরিচয় কখনই সম্পূর্ণ মুঁছে ফেলতে পারেনি। আমাদের চিরায়ত লোকাচার, পেশাগত যাপিত জীবিকা, পোশাক-পরিচ্ছদ-সাজ-সজ্জা, ভাষা-সাহিত্য, পারিবারিক-সামাজিক প্রথা, আচার-অনুষ্ঠান বৈশ্বিক আর সকল জাতিগোষ্ঠী থেকে ভাষাভিত্তিক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ঠ্যে, অনন্য পরিচয়ে গর্বিত স্বকীয়তা এনে দিয়েছে। এই বাঙালি পরিচয়ে জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত বাংলায় ভাষন যেমন আমাদের গর্বিত করে, তেমনি গর্বিত করে এই বাঙালি পরিচয়েই কবিগুরুর সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্তি কিংবা সত্যজিত রায়ের অস্কার পুরস্কার লাভ।
পহেলা বৈশাখ পালন করা হারাম!
সম্প্রদায় আসলে কি? আমরা’কি প্রথমে বাঙ্গালি সম্প্রদায় নই? নাকি-সরাসরি আরবীয় মুসলিম সম্প্রদায়? আমরা মুসলিম,তাই বলেকি বাঙ্গালীত্ব বিসর্জন দিতে হবে?
প্রথম কথা হল পহেলা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বঙ্গাব্দের প্রথম দিন, বাংলা নববর্ষ। দিনটি সকল বাঙালী জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন।এই দিন সকল বাঙালির জন্য সার্বজনীন উৎসব, কোন ধর্মের না।
পহেলা বৈশাখ আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সাংস্কৃতি, বাঙ্গালীর জন্য একটি সার্বজনীন উৎসব। এটা কিভাবে ভিন্ন সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য হবে?
দ্বিতীয়ত, মুসলমান একটি ধর্ম, এটা কোন জাতি বা সাংস্কৃতি নয়। এটা কেন সাংস্কৃতি এবং জাতিয়তার উপর বাধা হয়ে দাঁড়াবে? এধরণের প্রচারনা যারা করে, তারা সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, এবং পাকিস্তানের দালাল বলে আমি মনে করি ।

আমরা বার বার নিজেদের মূর্খ, বর্বর, ধর্মান্ধ একটা জাতি হিসাবে প্রমান করছি
আমরা বার বার নিজেদের মূর্খ, বর্বর, ধর্মান্ধ একটা জাতি হিসাবে প্রমান করছি।
ছিঃ ছিঃ ছিঃ ধিক্কার জানাই এদেশের ৯০% মূর্খ মানুষ গুলোকে !!!
প্রতিবাদ মিছিল হচ্ছে। তবে সেটা মাদ্রাসার সেই খুনি শিক্ষকের বিচার চেয়ে নয়, তাকে বাঁচানোর জন্য, তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে।
কতটা নির্লজ্জ্ব, মূর্খ আর ধর্মান্ধ হলে মানুষ একজন যৌন নিপীড়ক, গায়ে আগুন ঢেলে পুড়িয়ে মারতে চাওয়া একজন খুনির পক্ষে রাস্তায় নামতে পারে – ভাবা যায়?
এটাই ধর্মের ভাইরাস। যা মানুষের বিবেক কে ধ্বংস করে, মানুষ কে অন্ধ করে ফেলে।

বাংলাদেশের কিছু মানুষ যে মূর্খ আর অসভ্য!
বাংলাদেশের কিছু মানুষ যে মূর্খ আর অসভ্য তা বেশ কিছু ফেসবুক পোস্ট দেখে বুঝতে পারছি। এবং দুঃখের সাথে বাধ্য হয়েই এই পোস্ট টি লিখছি।
যারা উন্নত বিশ্বে ঘুরেছেন তারা জানেন যে মানুষ কতটা এগিয়ে গেছে। সে তুলনায় আমাদের দেশ অনেক পিছিয়ে। আমাদের দেশের মানুষের মধ্য থেকে মানবতা, ভদ্রতা ইত্যাদি লোপ পেতে চলেছে।
ইদানিং যে জিনিষটা দেখতে পাচ্ছি তা হল ধর্মের লেবাসে যাই করা হবে সেটা হালাল। তা সেটা ধর্ষণ ই হোক, বা অঙ্গ হানি, পাথর মারা, চাবুক কিংবা বেত্রাঘাতের মত জঘন্য কাজ গুলি হলেও।
মসজিদ থেকে চুরি করে ধরা পড়ে এক চোর
মসজিদ থেকে চুরি করে ধরা পড়ে এক চোর বলেছিল “আমি আল্লাহ্র ঘরে চুরি করছি। কেউ মামলা দিলে আল্লাহ্ দিবে, তোরা মাজখানে কতা কচ কেন?” মসজিদের ইমামদের আর হুজুর দের দেখে আমার তাই মনে হয় । তারা আল্লাহ্র ঘরে বসেই সব আকাম কুকাম করে। শিশু ধর্ষণ আর খুনের মত জঘন্য অপরাধ গুলি করে, আর আল্লাহ্ চেয়ে চেয়ে দেখে, কিছুই বলেনা। তো তারা কি পরিমান ইমানদার, আল্লাহ্ ভক্ত আর আল্লহ ভিরু তা তো বোঝাই যায়।

কোরানের ব্ল্যাক হোল
তারকা গুলার আকার কত বড় এবং তারা কত দূরে সে ব্যাপারে আল্লাহ্র কোন ধারনা ছিলনা। তো ব্লাক হোল কিভাবে জানবে?
নিম্নের আকাশকে আমি প্রদীপসমূহ দ্বারা সুসজ্জিত ও সুরক্ষিত করিয়াছি। সূরা-৪১:হা-মীম সাজ্বদা, আয়াত: ৯-১২
তো আকাশের তারা গুলো সর্ব নিম্নে আছে। বোঝেন এবার। যারা বলে আসমানের স্তর গুলো বায়ুমণ্ডলের স্তর বুঝানো হয়েছে তারা ধরা খাইলেন।
নীচের আরও কিছু আয়াত দিলাম একটু মজা করার জন্য।
একজন মডারেট মুসলমানের সাথে কথোপকথন
ডঃ জাকির সাহেব একজন এম বি বি এস ডক্টর। তিনি প্রায়ই আমাদের সাথে আড্ডা দেন আর সুযোগ পেলেই ইসলাম প্রচার করেন। তিনি নিজেও ৫ ওয়াক্ত নামাজ ও পড়েন এবং নিয়মিত কোরান তেলাওয়াত করেন আর অন্যদের ইসলামের পথে দাওয়াত করেন।
তো সেদিন চায়ের দোকানে আড্ডা হচ্ছিল ওনার সাথে। তিনি বললেন ইসলাম হল শান্তির ধর্ম আর সর্ব কালের মানুষের জন্য জীবন বিধান। একটা দেশ চালাতে যেমন সংবিধান লাগে, একজন মুমিনের জন্যও এটা সেই রকম একটা জীবন বিধান।
Argument from Authority Fallacy বা কর্তৃত্ব থেকে কুযুক্তি
মুমিনদের দাবী অমুক বিজ্ঞানী এটা বলেছে বা অমুক বিজ্ঞানী এটা বিশ্বাস করে তাই এটা সত্য। কিন্তু নিজেরা না বুঝেই কুতর্ক করে। এটা হল একটা argument from appeal to authority fallacy বা কর্তৃত্ব থেকে কুযুক্তি। এখন কোন বিজ্ঞানী বা বিখ্যাত ব্যক্তি কিছু বললেই সেটা সত্য হবে কেন?
আরও কিছু ব্যাপার আছে, যেমন একজন বিজ্ঞানীর বা দার্শনিকের ব্যক্তিগত মতামত চিরন্তন সত্য হয়ে যায় না। মুমিনদের প্রায়ই বলতে শুনি কোরানে যদি ভুল থাকতো তাহলে অমুক বিজ্ঞানী কোরান ভুল ধরতে গিয়ে মুসলমান হয়ে গেলেন কেন? উনি তো অনেক জ্ঞানী লোক, তাহলে আপনি কি তার চেয়ে বেশি জানেন?
Continue reading
ধরমান্ধতা মানুষকে উন্মাদ বানায়। নিউজিল্যান্ড আক্রমণ
ধরমান্ধতা মানুষকে উন্মাদ বানায়। হোক সেটা নিউজিল্যান্ড, ইয়েমেন, বার্মা বা বাংলাদেশের মানুষ!
ধর্মের কারণে পৃথিবীতে যত লোক মারা গেছে তা ক্যান্সারে মারা যাওয়া মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। তাই ধর্ম ক্যান্সারের থেকেও একটি ভয়ংকর ব্যাধি।
মুসলিম জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নিতেই নিউজিল্যান্ডরে এই ফার রাইট জঙ্গি হামলা!
যারা মুসলিম তারা প্রতিবাদ করছেন তাদের কেন খৃস্টান জঙ্গি বলা হচ্ছে না? আসলে কি ভেবে দেখেছেন, কোন মুসলমান বোমা মারলে বলেন তিনি সহিহ মুসলিম নয়, যেমন ইসলামিক স্টেট, আইসিস আর লাদেন আমেরিকার সৃষ্টি।
যারা বলেন সন্ত্রাসের কোন ধর্ম নেই, ইত্যাদি ইত্যাদি তারাই আবার দাবী করছেন যে এই আক্রমণ কে কেন খৃস্টান জঙ্গি হামলা বলা হবে না? ভাব টা এমন যে আমরা একাই চোর নই, আমাদের চেয়েও বড় চোর আছে দুনিয়ায়, কিন্তু সবাই আমাদের কে কেন দোষ দেয়?
নিউজিল্যান্ডের খুনিটার প্রতি রইল ঘৃণা।


