অনেকেই মনে করে যে ধর্ম না মানলে তো আপনি খারাপ হয়ে যাবেন। কারণ আপনার তো পরকালের কোন ভয় নেই । পরকালে কেউ আপনাকে গ্রিল বা বারবিকিউ বানাবে না, তো আপনি খারাপ কাজ কেন করবেন না? আমার সহজ উত্তর। আমি খারাপ কাজ করতে চাইনা তাই করিনা। আমার উত্তর শুনেও অনেকে আঁতকে ওঠে। অবিশ্বাসের দৃষ্টি দিয়ে তাকায় । তারা বলে, ভাই, আপনি আসলেই খারাপ হতে চান না? এটা কেমন কথা? এমন একটা ভাব যে ধর্ম না থাকলে তারা সাথে সাথে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ ইত্যাদি অপরাধে ঝাঁপিয়ে পড়তো।
যারা বলে, “ইসলাম শান্তির ধর্ম”, তারা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে সবচেয়ে কম জানে, নয়তো “ধর্ম” বা “শান্তি” শব্দগুলির অর্থই বোঝে না। অনেকেই জেনেবুঝেও কথাটি বলে, এমনকি বিধর্মীরাও বলে, ভয়ে। আর ধর্মপ্রচারক আর রাজনীতিবিদরা বলে, জীবিকার স্বার্থে।
প্রশ্ন হল কোরান ছিঁড়ে টয়লেটে ফেলার শাস্তি যদি ফাঁসি হয়, তাহলে মূর্তি ভাঙ্গার শাস্তি কি হবে? এতে এক মুমিন জবাব দিল হিন্দু ধর্মেরও মূর্তি পূজা করা হারাম, তাই মূর্তি ভাঙলে কোন শাস্তি হবে না।
আফ্রিকায় বেড়াতে গিয়ে তাদের পং পং ধর্মের গুরুর সাথে পরিচয় হল। সে বলল তাদের ধর্মগ্রন্থ পৃথিবীর একমাত্র নির্ভুল কিতাব, এতে কোন সন্দেহ নেই। এটা শুধু মাত্র মহান সৃষ্টিকর্তা পুঙ্গা পুঙ্গার পক্ষেই লেখা সম্ভব।
এর আগে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ‘জাগো বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন মোশাররফ করিম।তার অপরাধ ছিল মেয়েরা যেমন খুশি তেমন পোশাক পরতে পারবে এটা বলা। এই কথাতেই এক শ্রেণীর মানুষ তার ঘর বাড়ি ভাঙচুর করে, তার ফেসবুকে গালাগালি এবং হুমকির মুখে পড়তে হয় তাঁকে।
এবার আবার ক্ষমা চাইলেন ছোট পর্দার তারকা সাফা কবির। তার অপরাধ সত্য বলা। একবার ভাবুন আমাদের দেশে ধর্মপ্রাণ মানুষের ভয়ে কোন কিছু বলার উপায় নেই। আপনি তাদের মত মতো কথা না বললে, তাদের মত মতো না চললে আপনার পরিনতি কি হবে, সেটা বলা মুস্কিল।
হয়তো ফেসবুকে আপনার মা বাবা, ভাই বোন নিয়ে গালা গালি দিবে, একাউন্ট হ্যাক করবে, বাড়ি তে এসে ভাংচুর করবে। কিন্তু এই জনগোষ্ঠীকে এই উগ্র আচরণ করার অধিকার কে দিল? কেন তারা এমন অভদ্র আচরণ করছে এবং কেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে এত অসহায়? এর প্রতিকার কি?
স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার কি আমাদের কোনদিন ও হবে না?
সৃষ্টিকর্তা বা পরকালের প্রমাণ চাইলে মুমিনরা যে প্রশ্নটি ছুড়ে দেয় সেটা হচ্ছে, আপনার বাবাই আপনার বাবা, তার কোন প্রমাণ আছে?
এই প্রশ্নটি করে তারা যা বুঝাতে চাচ্ছেন, তা হল নাস্তিকরা যে সব কিছু দেখেই বিশ্বাস করে তা ঠিক নয়। এবং আপনি যেহেতু প্রমাণ ছাড়াও অনেক কিছু বিশ্বাস করেন তো প্রমাণ ছাড়া আল্লাহ্ আর পরকালে বিশ্বাস করলে সমস্যা কি?
এই একই যুক্তি কিন্তু হিন্দুরাও দিতে পারে। আপনি যেহেতু না দেখে বাবা মা কে বিশ্বাস করেন, তো গনেশ শিব, বিষ্ণু কেন বিশ্বাস করেন না?
পহেলা বৈশাখ হারাম
১ লা এপ্রিল হারাম
৩১ সে ডিসেম্বর হারাম
১৪ ফেব্রুআরি হারাম
২১ এ ফেব্রুআরি হারাম
জন্মদিন হারাম
মৃত্যু দিবস হারাম
খেলা ধুলা হারাম
ভাস্কর্য হারাম
ছবি তোলা হারাম
সিনেমা দেখা হারাম
গান শুনা হারাম
নারী-পুরুষে বন্ধুত্ব হারাম
ডেটিং করা হারাম
প্রেম করা হারাম
নৃত্য হারাম
কবিতা হারাম
মদ খাওয়া হারাম
ব্যাংকিংহারাম
অন্য ধর্মের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব হারাম
অন্য ধর্মের কারো, রান্না মাংস হারাম
শব্দকরে হাসা হারাম
তো মুমিন ভাইয়েরা, আপনারা তবে বিনোদন হিসেবে কি করেন?
বাঙলা বাঙালিয়ানায় লালিত লোকায়ত সমাজ সংস্কৃতির চিরায়ত ঐতিহ্য ধারন করেই হাজার বছর ধরে আমরা গর্বিত বাঙালি, শতবর্ষের ঔপনিবেশিক সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন হয়ত জাতিগত সেই শিঁকড়ের পরিচয় কখনই সম্পূর্ণ মুঁছে ফেলতে পারেনি। আমাদের চিরায়ত লোকাচার, পেশাগত যাপিত জীবিকা, পোশাক-পরিচ্ছদ-সাজ-সজ্জা, ভাষা-সাহিত্য, পারিবারিক-সামাজিক প্রথা, আচার-অনুষ্ঠান বৈশ্বিক আর সকল জাতিগোষ্ঠী থেকে ভাষাভিত্তিক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ঠ্যে, অনন্য পরিচয়ে গর্বিত স্বকীয়তা এনে দিয়েছে। এই বাঙালি পরিচয়ে জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত বাংলায় ভাষন যেমন আমাদের গর্বিত করে, তেমনি গর্বিত করে এই বাঙালি পরিচয়েই কবিগুরুর সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্তি কিংবা সত্যজিত রায়ের অস্কার পুরস্কার লাভ।