ধর্ম, নাস্তিকতা ও নৈতিকতা নিয়ে কিছু কথা

—

2–3 minutes

আজকাল মুমিনরা দেখি বেশিরভাগ সময়ে নাস্তিকদের গালি গালাজ করে লাইভ করে, কিন্তু আল্লাহর প্রমাণ নিয়ে কোনো লাইভ করেন না। কথা হচ্ছে, নাস্তিক খারাপ হলে ধর্ম ভালো হয়ে যায় না, বা আল্লাহ আছে প্রমাণ হয়ে যায় না।

প্রথমত, মুমিনদের ধারণা নেই নাস্তিকতা কাকে বলে বা একজন মানুষ কেন নাস্তিক হয়। তারা যা করেছে সেটা হচ্ছে ধর্মের নামে মিথ্যাচার ছড়ায়, পক্ষান্তরে নাস্তিকরাই সঠিক ধর্ম প্রচার করে। একজন মানুষ নাস্তিক হয় যখন সে বুঝতে পারে ধর্মগুলো ভুয়া। এর সাথে অপরাধ বা অন্য কিছুর কোনো সম্পর্ক নেই।

একজন মানুষের কি ভালো হতে বা মানবিক হতে ধর্মের প্রয়োজন হয়? মানুষ ভালো হতে হলে ধর্মের প্রয়োজন নেই। কোনো একটি কাজ ভালো বা খারাপ হয় যুক্তির উপর নির্ভর করে। কোনো কাজ যদি ভালো হয়, সেটা যুক্তি দিয়েই প্রমাণ করা যায়। সেটা ধর্মে আছে কি নেই, তাতে কিছু যায় আসে না। কিন্তু যদি মানুষ ধর্মকে মানদণ্ড মনে করে, তবে ধর্মের সব খারাপ দিকগুলোও সঠিক বলে মেনে নিতে হবে।

একজন নাস্তিক খারাপ হতে পারে অথবা ভালো হতে পারে, কিন্তু একজন ধার্মিক, যে কিনা অন্ধভাবে ধর্ম বিশ্বাস করে, কোনোদিন ভালো হতে পারে না কারণ তার কাছে ভালো-খারাপের মানদণ্ড ধর্ম। ধর্মে যদি হিংস্রতা, অমানবিকতা, নৃশংসতা থাকে তবে সেগুলোকেও তারা ভালো মনে করে। আসলে মানুষ যদি চিন্তাশীল না হয়, তবে সে ভালো-মন্দের বিভেদ করতে পারে না।

মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলি, আপনাদের নাস্তিকতা নিয়ে অনেক ভুল ধারণা আছে। আপনারা নাস্তিকতাকে ধর্মের মতোই মনে করেন। এবং আপনারা প্রচার করেন যে নাস্তিকতায় কোনো বাছ-বিচার নেই, যে যা খুশি করতে পারে ইত্যাদি।

নাস্তিকতা হচ্ছে এমন একটি অবস্থান যেখানে কোনো ব্যক্তি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না, অথবা ধর্মের প্রথা ও বিশ্বাসকে সত্য মনে করেন না। নাস্তিকতার প্রধান বিষয় হচ্ছে যুক্তি ও প্রমাণের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন ধর্মীয় ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। নাস্তিকরা সাধারণত মনে করেন যে মানবিকতা ও নৈতিকতার ভিত্তি যুক্তি, মানবিক চেতনা, এবং অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে, ধর্মীয় বিধানের ওপর নয়।

অন্যদিকে, ধর্ম একটি সংস্কৃতি বা বিশ্বাসের ব্যবস্থা যা সাধারণত মানুষকে ঈশ্বরে বিশ্বাস করতে এবং বিশেষ নৈতিক আদর্শ অনুসরণ করতে বলে। যদিও অনেক ধার্মিক ব্যক্তিই ধর্মকে মানবিকতা ও ভালো কাজের উৎস হিসেবে দেখেন, তবে ধর্মীয় বিশ্বাস অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার, বা সীমাবদ্ধ নৈতিকতা তৈরি করতে পারে।

একজন মানুষের ভালো বা খারাপ হওয়া তার চিন্তাভাবনা, যুক্তি, এবং কর্মের ওপর নির্ভর করে, ধর্মে বিশ্বাস করার ওপর নয়। এই যুক্তি বিভিন্ন দর্শনের মধ্যেও পাওয়া যায়, যেমন সেকুলার হিউম্যানিজম, যেখানে নৈতিকতা ও মানবিক আচরণের মূল ভিত্তি ধর্ম নয়, বরং মানবিক অভিজ্ঞতা ও বোধ।

একজন ধার্মিক ব্যক্তি সবসময় ভালো না হতে পারেন, যদি তিনি অন্ধভাবে ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণ করেন এবং নিজে কোনো যুক্তি ব্যবহার না করেন। অন্যদিকে, একজন নাস্তিক ভালো হতে পারেন কারণ তিনি যুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করেন। তবে এটা বলাও গুরুত্বপূর্ণ যে, একজন ধার্মিকও তার ধর্মীয় শিক্ষার বাইরে গিয়ে যুক্তি এবং মানবিকতাকে গ্রহণ করে ভালো হতে পারেন।

শেষ কথা হলো, একজন নাস্তিক ধর্ম ত্যাগ করে ধর্মের অমানবিকতা, অযৌক্তিকতা এবং বিশ্বাস করার মতো কোনো যুক্তি বা প্রমাণের অভাবে। যুক্তি-প্রমাণ থাকলে কেউ নাস্তিক হতে পারে না।

ধর্ম এবং নাস্তিকতা উভয় ক্ষেত্রেই মানুষ তার নৈতিকতা এবং মূল্যবোধের উন্নতি করতে পারে, যদি তিনি চিন্তাশীল এবং মানবিক হন।

May be an image of 1 person and text

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading