এক হুজুর বয়ান দিচ্ছিলেন। ইসলাম হল বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান ধর্ম। বর্তমানে পৃথিবীতে ১৮০ কোটির মুসলমান আছে যা ২০৬০ সালের মধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি হতে যাচ্ছে। এটা অত্যন্ত গর্বের কথা। ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমাদের মধ্যে কোন ভেদাবেদ নাই। আমরা সারা পৃথিবীতে ছেয়ে যাবো আর শান্তিতে বসবাস করবো । আমাদের মধ্যে কোন মারা মারি কামড়া কামড়ি নেই। নাস্তিকরা নিজেদের মধ্যে কামড়া কামড়ি করে মারা যাবে।
হুজুরের বয়ান শুনে এক উটকো নাস্তিক হাত তুলে বলল আচ্ছে হুজুর আমার একটা প্রশ্ন ছিল। এই যে বললেন ২০৬০ সালের মধ্যে ৩০০ কোটি মুসলমান হতে যাচ্ছে। তো তার মধ্যে শিয়ারা থাকবে? ইরাকে তো শিয়া সুন্নি সংঘর্ষ চলছে।
হুজুর বিরক্ত হয়ে বলেনঃ – কি শিয়া? ওরা আবার মুসলিম নাকি? যারা আমার নবিকে নিয়ে মিথ্যাচার করে, যারা মোহাম্মাদ (সঃ) কে শেষ নবী না বলে হযরত আলীকে বলে তারা আবার মুস ল মান ? আর শিয়াদের কে আমারা মাথায় তুলে রাখবো কি কারনে? তারা কি আমাদের খুব আদর করেছে? আমাদের জও*ঙ্গি, ব*র্বর বলা !ঐ ভালো মানুষ শিয়ারা যে গত ১০ বছর ধরে সুন্নিদের কে আদর করে কর্তন করছিল,তাঁদের মা,মেয়েদের কে ধ*র্ষণ করছিল,পেট চিঁরে গর্ভবতীর অকালপক্ব সন্তানের দেহ নিয়ে ফুটবল খেলছিল,বৃদ্ধা আর শিশুরাও যেখানে শিয়াদের ফুর্তির রসদ ছিল,সেই খবর বা তথ্য কি কোথাও কেউ প্রচার করেছে?
নাস্তিকঃ – ও আচ্ছা তো কাদিয়ানি? তারা কি মুসলিম?
হুজুর – কি? কাদিয়ানি? মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী সাহেব রীতিমতো নবী হওয়ার দাবিই করেছেন। নাউজুবিল্লাহ। ওরা জাহান্নামী । তারা তো ভ্রান্ত পথে আছে । তারা কোরান হাদিসের অপব্যাখ্যা করে। নবীজির নামে মিথ্যাচার করে। এদের বিরুদ্ধে কোরানে কঠোর হুশিয়ারি দেওয়া আছে। কাদিয়ানী সম্প্রদায় কোন মুসলমান নয় এরা ইসলাম বিকৃতকারি। তাদের ক ল্ল আ।। ফেলে দেওয়া উচিত ।
তারা বিশ্বাস করে যে মির্যা গোলাম আহমদ ইসলামকে তার আসল প্রথমযুগীয় অবস্থায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী কেতাবে উল্লেখিত যীশু বা ঈসার গুণবিশিষ্ট ইমাম মাহদী হয়ে এসেছেন ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করতে ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এর নৈতিক ব্যবস্থা চলমান করতে। তারা আরও বিশ্বাস করে যে মির্যা গোলাম আহমদ ইসলামের শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ(সা.) এর প্রদর্শিত পথে পাঠানো একজন “উম্মতী নবী”। নাউজুবিল্লাহ। সৌদি আরবে পুরো দেশে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাদের কেউ সেখানে গোপনে হজ পালন করতে গেলে তাকে আটক করা হয়।
নাস্তিকঃ আচ্ছা মাজহাবিদের সম্পর্কে আপনার ধারনা কি? তারা কি মুসলিম?
হুজুরঃ – ইসলামের মধ্যে মাঝহাব সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ বিদাত। যারা নিজেদের প্রাথমিক সুন্নি মাজহাব থেকে – হানাফি, শাফিয়ী, মালেকী এবং হাম্বালি বলে পরিচয় দেয় তারা সম্পূর্ণ ভুল পথে আছে। মাযহাব নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি উম্মার জন্য ভয়ঙ্কর ফিতনা । মাজহাব মানা বলতে বুঝানো হচ্ছে কোন একজন নির্দিষ্ট ইমামের মত ও পথ অনুসরণ করা । কিন্তু আমাদের নবিজি তো সেটা করতে নিষেধ করেছেন।
আর এখন নাকি আহলে হাদিস আহলে কোরান আর মডারেট মুসলিমের আবির্ভাব হয়েছে এদের ভিড়ে সঠিক ইসলাম প্রচার করা মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে দিন কে দিন। আচ্ছা আপনিই বলেন কোরান হাদিস সহিহ তারিকায় আমল না করলে কেউ কি আর মুসলিম থাকে?
নাস্তিকঃ – আচ্ছা ইসলাম তো সুদ ঘুষ, দুর্নীতি এগুলো সমর্থন করে না। তার পরেও আমরা কেন বাংলাদেশে এত দুর্নীতি, খুন ধর্ষণ, বাটপারি, ভেজাল ইত্যাদি দেখতে পাই?
হুজুরঃ- বাংলাদেশ ৯০% মুসলিমের দেশ ঠিক ই কিন্তু সহিহ মুসলিম কয়জন? সবাই যদি সঠিক ইসলাম মেনে চলতো তাহলে তো আর এসব হত না।
নাস্তিকঃ – আপনি ঠিক ইলেছেন। ইসলাম শান্তির ধর্ম এবং বাংলাদেশে ৯০%, মুসলমান আর সারা বিশ্বে ৩০০ কোটি হবে তখন পৃথিবীতে থাকবে শুধু শান্তি আর শান্তি। আমিন।