মুমিনদের ধারনা যেহেতু নাস্তিক কোন ধর্ম মানে না। সুতরাং তারা কি করবে না করবে সে বিষয়ে কোন নির্দিষ্ট বাধ্য বাদকতা নেই অর্থাৎ আপনি নাস্তিক হলে যা খুশি তাই করতে পারেন।

আসলে মুমিনদের জ্ঞান সিমিত থাকায় তারা নাস্তিকতা, মুক্তমনা, ব্যাক্তি স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয় গুলি গুলিয়ে ফেলেন, এবং বার বার বুঝিয়ে বলার পরেও তাদের মাথায় এগুলো ঢুকেন ।

অনেক মুমিন কে বলতে শুনা যায় নাস্তিকতা একটি ধর্ম এবং এই ধর্ম পালন করতে হলে ইসলামের বিপক্ষে যেতে হবে অর্থাৎ ইসলামে যেগুলা হালাল সেগুলা নাস্তিক ধর্মে হারাম আর ইসলামে যেগুলা হারাম নাস্তিক ধর্মে হালাল ।

আসলে নাস্তিকতা শুধু মাত্র ঈশ্বর বিশ্বাসের একটি অবস্থান মাত্র। অর্থাৎ ঈশ্বরে বিশ্বাস না করাকে নাস্তিকতা বলে। এর সাথে অন্য কিছু যুক্ত নয়। যেমন একজন নাস্তিক কি খাবে, কি পরবে, কার সাথে ঘুমাবে, এসব কিছুই নাস্তিকতার অন্তরভুক্ত নয়।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে একজন নাস্তিক তাহলে কি ভাবে আচরন করবে? এখানে নাস্তিক শুধু মাত্র নাস্তিক হয় না। সে মানবিক হতে পারে। জ্ঞানী হতে পারে। আবার মূর্খ ও হতে পারে। এটা নির্ভর করবে তার পারিবারিক শিক্ষার উপর । আমরা অধিকাংশ নৈতিকতা শিখি আমাদের পরিবার এবং সমাজের রীতি অনুযায়ী । এর সাথে যুক্ত হয় দেশের আইন।

একজন নাস্তিক সমস্ত নৈতিকতা বর্জন করে না। বরং সে মনে করে তার নৈতিকতার উৎস ঈশ্বর নয়। তার নৈতিকতার উৎস যুক্তি তথ্য এবং প্রমান।

একজন মানুষ ধর্ম মেনে সম্পূর্ণ নৈতিক হতে পারে না। অর্থাৎ যে মানুষটা সম্পূর্ণ রুপে ধর্ম পালন করে সে কোন দিন নৈতিক হতে পারে না। এর কারন হচ্ছে সে তার বিবেক বুদ্ধি, যুক্তি তথ্য প্রমান ইত্যাদি ব্যাবহার না করে ধর্মে যেটা আছে সেটাই পালন করে। উদাহরন সরূপ আমরা দেখতে পাই বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, সমর্থন করা মুমিনের সংখ্যা কম নয়। আবার দাসী সে*ক্স তারা নৈতিক মনে করে। এর বিপরিতে যুক্তি দেয় মেয়েরা অল্প বয়সে প্রেম করা শুরু করে অথবা পরস্পর সম্মতিতে তো যত খুশি সে* ক্স করা যায় নাস্তিক ধর্মে । তো সমস্যা কোথায়?

অনেকে প্রশ্ন করে কোনটা নৈতিক এবং কোনটা অ-নৈতিক এটা কে ঠিক করে দেয়? বা অমুক দেশে তো এটা মানে । আসলে নৈতিকতা কেউ ঠিক করে দেয় না। এটা নির্ভর করে যুক্তি তথ্য প্রমানের উপর। যুক্তি দিয়ে বিচার করুন কোনটা সঠিক । আর ভুল কাজ টা ভুল। সেটা যদি সবাই করে তবুও। তাই রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর বা শেখ মুজিবর রহমান কিছু করলেই সেটা সঠিক হয়ে যায় না।

আপনার কি খাওয়া উচিত, কি পরা ইচিত বা কার সাথে কি আচরন করা ইচিত এসবের জন্য যদি কিতাব প্রয়োজন হয় তাবে বুঝতে হবে আপনার প্রাইমারি লেভেলের শিক্ষার অভাব আছে। এই শিক্ষা আমরা পরিবার থেকেই পাই স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগেই। আর স্কুল জীবনে আমরা এসব নৈতিকতা বেশির ভাগই শিখে ফেলি। কিন্তু মুমিন ভাইয়েরা আল্লাহ ছাড়া কিছু বুঝে না। তাদের প্রতিটা কাজ করার জন্য কিতাব প্রয়োজন হয়।

আমরা ১৪০০ বছর আগে একজন মরু ডাকাতের লেখা সেই কিতাবের নৈতিকতা থেকে অনেক এগিয়ে গেছি। আর কতো আমাদের জোর করে একজন মরু ডাকাতের দেওয়া নৈতিকতা পালন করতে বাধ্য করবেন?

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading