মহাবিজ্ঞানী ছিলেন আমাদের নবী (সঃ) – হাদিসের আশ্চর্য বিজ্ঞান

বেশ কিছু দিন আগে মুমিনরা অনেক লাফালাফি শুরু করছিল । চাঁদে নাকি ফাটল পাওয়া গেছে, এটা নাকি প্রমাণ করে যে হাদিসে বর্ণিত রুপ কথার কাহিনী, যে নো বীচি তার হাতের ইশারায় চাঁদ দ্বি-খণ্ডিত করেছিলেন, সেটা নাকি সত্য বলে প্রমানিত হয়েছে। যাই হোক মুমিনদের লাফালাফি দেখে কে? তারা বা ন রে র মতো ফেসবুক, ইউটিউব, নাসা সাইট সব খানে লাফা লাফি করে ফাটিয়ে ফেলে। অবশেষে যা ঘটার তাই ঘটলো । নাসার বিজ্ঞানীরা একটি বিবৃতি প্রকাশ করলো তাদের সাইটে যে নাসার নামে অনেক মুলসিম বিজ্ঞানীরা অপ প্রচার করে যাচ্ছে এটা তারা মোটেও পছন্দ করছে না। তারা এই মর্মে জানালো যে নাসার বিজ্ঞানীদের নামে কেউ যদি মিথ্যা ছড়ায় সেটা কেউ যেন যাচাই না করে বিশ্বাস না করে। তাদের এই লাফালাফি নাসার বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞান অনুভুতিতে আঘাত দেয়।

এখন লক্ষণীয় হচ্ছে কোন মুলসিম যদি এমন কোন পোস্ট করে যেটা কিনা মুমিনদের পক্ষে যায়, তবে তারা চোখ বুজে সেটা বিশ্বাস করে, এবং তারা কোন দিন ও যাচাই করার চেষ্টা করে না। এমন কি এমন কোন পোস্ট যদি তারা পায় যেটা তে বলা হচ্ছে – উটের মুত খাওয়া শাস্থের জন্য উপকারি, এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত, তাহলে মুমিনরা এই হেডলাইন দেখেই লাফাতে শুরু করবে।

আমি একজন বিখ্যাত মুসলিম মহা বিজ্ঞানী, ডঃ মোহাম্মাদ ইব্রাহীমের ইউটিউব ভিডিও দেখলাম- “নবীজি কেন উটের পেশাব আর দুধ মিশিয়ে খেতে বলেছিলেন” এটাও নাকি সাইন্টিফিক। মানে উটের মুত খাওয়া সাস্থের জন্য ভালো – এটাও উনি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণ করে ছেড়েছেন, এবং তাতে হাজার হাজার ধর্মান্ধ মুসল্লি হুক্কা হুয়া তুলে ফাটিয়ে ফেলছেন।

তো হাদিস টা যতই অদ্ভট আর হাস্যকর হোক, মুমিনরা কোন প্রকার প্রমাণ ছাড়াই সেটা মেনে নেবে এবং এর পক্ষে কোন পোস্ট পেলেই সেটা সমর্থন করবে অন্ধের মতো । নাসার বিজ্ঞানীরা তাদের নামে অপ্রচারের প্রতিবাদ করলেও বাংলাদেশের একজন ডাক্তারকেও পেলাম না যে উটের মুত্রের প্রতিবাদ করতে।

এখন আবার নতুন করে মুমিদের লাফালাফি দেখতে পাচ্ছি, মাছির এক ডানায় রোগ আর অপর ডানায় এর প্রতিষেধক – এই হাদিস টা নিয়ে । মুমিনরা তুমুল লাফালাফি করছে এটা নাকি বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত হয়ে গেছে। তারা কিছু বৈজ্ঞানিক পেপার নিয়ে পোস্ট দিচ্ছে। তো আমি কিছু পেপার পড়ে দেখেছি। আসলেই কিছু মূর্খ মুসলিম বিজ্ঞানী এটা নিয়ে রিসার্চ পেপার জমা দিয়েছে কিছু মুলসিম বিশ্ব বিদ্যালয়ে । তবে তারা চেষ্টা করেছে আগডুম বাগডুম একটা পরীক্ষা দেখিয়ে এই হাদিসটির সত্যতার প্রমাণ দেওয়া। কারন তারা জানে একটা পেপার জমা দিলেই মুসলিম সমাজ সেটা গোগ্রাসে খাবে। এবং লাফালাফি শুরু করে দিবে। হয়েছেও তাই। তবে আমার মতে বাংলাদেশের কোন শিক্ষিত মাইক্রো বায়লজিস্ট এটার প্রতিবাদ করার মতো সাহস রাখেনা।

শেষ মেস হয়তো কোন ইহুদি মাইক্রোবায়োলজিস্ট তাদের বিজ্ঞান চর্চায় অফেন্ডেড হয়ে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হবে এবং বলবে – “বাবারা তোমরা আর বিজ্ঞানের পিছন টা মেরোনা ।” এসব হাস্যকর হাদিসকে বিজ্ঞান বলে চালালে তারা হয়তো বিজ্ঞান চর্চা ছেড়ে দিয়ে এক সময় আত্নহত্যা করতে বাধ্য হবে ।

Leave a comment