cropped-Nastikya-logo.png

নাস্তিক্যবাদ নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। অনেক কে প্রশ্ন করতে শুনি নাস্তিকরা বিয়ে করে কোন রীতিতে? বা নাস্তিক্যবাদ একটি ধর্ম ইত্যাদি । এমন কি অনেকে নিজেদের নাস্তিক বা ‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍অজ্ঞেয়বাদী বা সংশয় বাদী হিসাবে চিহ্নিত করেন, কিন্তু আসলে তারা ব্যাপার গুলো পরিষ্কার ভাবে জানেনা।

প্রথমত নাস্তিক্যবাদ হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার দাবী কে প্রত্যাখ্যান করা মাত্র । এর সাথে জ্ঞান বিজ্ঞান, মানবিকতা, বা সমাজ ব্যাবস্থার কোন সম্পর্ক নেই।

নাস্তিক্যবাদ কিন্তু দাবী করেনা যে ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা নেই। তারা শুধু মাত্র ঈশ্বর এবং সৃষ্টিকর্তার দাবী গুলিকে প্রত্যাখ্যান করে।

এখানে এক ধরনের নাস্তিক আছে যারা দাবী করে যে সৃষ্টিকর্তা নেই। এবং তারা প্রমাণ করে দেখাতে পারে যে সৃষ্টিকর্তা নেই। তাদের এই মতবাদ কে Hard Atheism বলে। এবং এটাও একটা ফিলসফিকাল মতবাদ মাত্র।

নাস্তিক্যবাদ কোন ধর্ম নয়, কোন দল, গোষ্ঠী বা জাতি নয়। যদিও নাস্তিক্যবাদকেও এক ধরনের ‘ধর্ম’ হিসেবে প্রমাণ করার অপ চেষ্টাটি আমি বহু মহলেই দেখেছি। নাস্তিক্যবাদ কোন জীবন বিধান ও নয়। এখানে বলে না কে কাকে বিয়ে করতে পারবে, কে কি খেতে পারবে। অথবা তাদের সমাজের প্রচলিত নিয়ম এবং ধর্ম গুলির বিপক্ষে যেতে হবে এমন ও কোন কথা নেই। এদের কোন নীতিমালা নেই, কোন কার্যক্রম নেই যেটা তাদের মেনে চলতে হবে। তারা যে সব কাজ করে তা একজন মানবিক মানুষ হিসাবেই করে।

তবে বেশিরভাগ নাস্তিকদের দেখা যায় জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা করতে। তারা যেসব জিনিষ মানবতা এবং ব্যাক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী, তার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এটা করে তারা মানবতা এবং জ্ঞান অর্জনের পিপাসা থেকে। তারা তাদেরকে মুক্তমনা হিসাবেও দাবী করতে পারে।

কিন্তু একজন নাস্তিক কে যে জ্ঞান চর্চা করতেই হবে বা মানবিক মানুষ হতেই হবে, এমন কোন নিয়ম বা নীতিমালা নেই। কারণ একেজন নাস্তিক একেক রকম হতে পারে। নাস্তিকদের কোন নবী নেই বা আসমানি কিতাব নেই যেটা তারা অনুসরণ করবে।

পক্ষান্তরে অজ্ঞেয়বাদ হচ্ছে এমন একটি দার্শনিক চিন্তা, মতবাদ বা ধারণা যেখানে বলা হয় যে কোনো ঈশ্বর বা কোনো পরমসত্ত্বা সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব আছে কি নেই তা মানুষের অজানা এবং এটি তাদের দ্বারা কখনো জানা সম্ভব হবেনা ।

এখন কেউ যদি নিজেকে আজ্ঞেয়বাদী হিসাবে দাবী করে, সে কিন্তু কি বিশ্বাস করে, সেই ব্যাপারে কিছু বলছে না। কারণ আজ্ঞেয়বাদের সম্পর্ক হচ্ছে জ্ঞানের সাথে। বিশ্বাসের সাথে নয়।

তবে একজন আজ্ঞেয়বাদী বা সংশয় বাদী ও নাস্তিক হতে পারে, (Agnostic atheism) কারণ কেউ যদি ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান থাকে তবে সে ধর্ম পালন করে না। তার মধ্যে সন্দেহ ঢুকে গেছে এবং ঈমান চলে গেছে। একজন ঈমানদার মুমিন বান্দা কখনো বলবেনা যে সে যেটা জানে বা বিশ্বাস করে সেটা বিশ্বাস করার জন্য কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বা সেটা বৈজ্ঞানিক ভাবে জানা সম্ভব নয় ।

এখন আমরা শব্দের আভিধানিক অর্থ দিয়ে কোন মানুষ কে চিহ্নিত করতে পারিনা এই কারণে যে কোন মানুষ নিজেকে আজ্ঞেয়বাদী হিসাবে পরিচয় দেয়, সে হয় তো কোন কারণে সেটা করছে। সে তার পরিচয় দিতে পারে সামাজিক কারণে। হয়তো সেই মানুষটি নাস্তিক হিসাবে পরিচয় দিতে চায় না বা সে মনে করে নাস্তিক মানে খারাপ কিছু বুঝায় অথবা নাস্তিক বলতে সৃষ্টিকর্তা নেই দাবী করা হয় ।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো যে বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন একজন নাস্তিক ছিলেন । তিনি আব্রাহামিক ধর্ম গুলিতে যে ঈশ্বরের ধারণা পাওয়া যায় তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কিন্তু তিনি নিজেকে একজন Agnostic হিসাবে পরিচয় দিতেন।

তিনি মনে করতেন প্রকৃতিই ঈশ্বর। তবে প্রকৃতি তার নিয়মের বাইরে যেতে পারেনা। এটা ফিলসফির ভাষায় Pantheism বলে। এটা হয়তো তিনি সামাজিক কারণেই করেছিলেন।

তার জীবনী এবং তার লেখা থেকে জানা যায় তিনি কোন অতি প্রাকৃতিক সৃষ্টিকর্তায় বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন না।

One response to “নাস্তিক্যবাদ নিয়ে ভুল ধারণা এবং আইনস্টাইনের ঈশ্বর বিশ্বাস”

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading