adamevecropped-24-640x360 (1).jpg

প্রতিটা ধর্মেই কিছু আজগুবি গল্প প্রচলিত আছে। গ্রীক আর হিন্দু ধর্মের দেব দেবীর গল্প থেকে শুরু করে আব্রাহামিক ধর্মের আদম হাওয়া এবং জীন পরীর (হুর) গল্প। এবং এই সব গল্প গুলো অনেক মজার ও শিক্ষনিয় ও বটে। সেইরকম ১০ টি অদ্ভুত গল্পের সাথে আজ পরিচয় করিয়ে দেব।

১। আদম ও হাওয়ার (আঃ) এঁর কাহিনী

আদম আব্রাহামীয় ধর্ম এবং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীতে উল্লেখিত একজন ব্যক্তি। আল্লাহ্‌ ওনাকেই প্রথম সৃষ্টি করেন। ইসলাম মতে  বলা হয় যে আদমকে আল্লাহ্‌ সৃষ্টি করেছিলেন নিজের হাতে মাটি দিয়ে। তার পর ফু দিয়ে তার মধ্যে রুহ দিয়ে দেন। আল্লাহ্‌ তার সৃষ্টিকে সেরা সৃষ্টি বলে ঘোষণা দেন এবং সব ফেরেস্তাদের তাকে সেজদা করতে আদেশ করেন। একমাত্র ইবলিশ (বদ জীন) ছাড়া সবাই তাকে সেজদা করেন । অতঃপর আল্লাহ্‌ ইবলিশকে জাহান্নামের শাস্তি দেন । কিন্তু ইবলিশ ও কম যায় না, সে আল্লাহকে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় যে তার পেয়ারে আদম সন্তানেরা সবাই অবাধ্য হবে। তাই কেয়ামত পর্যন্ত সে মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। এদিকে আদম হাওয়াই ইবলিশের প্রথম শিকার হয়। এখানে উল্লেখ্য যে আদমের বাকা একটা বুকের হাড় থেকেই আল্লাহ্‌ হাওয়াকে তৈরি করেন। তাই মেয়েরা সব সময় একটু ত্যাড়ামি করে । শয়তানের পাল্লায় পড়েই তারা আল্লাহ্‌র হুকুম অমান্য করে নিষিদ্ধ “গন্ধম” ফল খেয়ে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হন।

২। ন্ম্রুদের কাহিনী টাওয়ার অব বাবেল / ব্যাবিলনের টাওয়ার

ইদানিং অনেকে ডেঙ্গুর দায় ভার অনেকটা ন্ম্রুদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন । কারণ ন্ম্রুদের জন্যই আল্লাহ্‌ মশা সৃষ্টি করেছিলেন। বাইবেল অনুসারে নমরুদ ছিল ”এক মহাশক্তিধর ব্যক্তি যে ঈশ্বরকে শিকার করতে চেয়েছিল (নাউজুবিল্লাহ) ।

images (39)

প্রথমে টাওয়ার অব বাবেল / ব্যাবিলনের টাওয়ার এর কাহিনীটা একটু বলে নেই।

এই কাহিনী দিয়ে পৃথিবীর সবাই কেন ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় কথা বলে, সেটাও ব্যাখ্যা করা হয়। ঘটনা অনুযায়ী, মহাপ্লাবনের পরে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ মানবতা, একক ভাষায় কথা বলতো । টাওয়ার অব বাবেলের বর্ণনা অনুসারে নমরুদ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করেছিল। তিনি স্বর্গে আরোহণ করে সেখান থেকে আল্লাহ্‌ কে তাড়িয়ে দিতে চান এবং একটি সুউচ্চ টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা করেন যার মাথায় উঠে বেহেস্তে পৌঁছান যাবে। কিন্তু অনেক উচু একটি টাওয়ার বানিয়ে তার মাথায় উঠে তিনি দেখতে পান স্বর্গ অতটাই দূরে রয়েছে, যতটা মাটি থেকে দূরে ছিল। এর পর এই টাওয়ার ধ্বসে নমরূদের নিজ সন্তানসহ বহু মানুষের মৃত্যু ঘটে।

ন্ম্রুদ স্বর্গে যাওয়ার জন্য ভিন্ন পথ অবলম্বন করলো। ন্ম্রুদ একটি সিন্দুক তৈরী করে তার চারদিকে চারটি শকুন বেধে তাতে চড়ে বসলো। উর্দ্ধ আকাশে পৌঁছে ন্ম্রুদ একের পর এক তীর উপরের দিকে নিক্ষেপ করলেন। ঐ সময় আল্লাহ জিব্রাইলকে বলেন, “আমার এই বান্দা যেন নিরাশ না হয়।” জিব্রাইল তখন তীরের অগ্রভাগ রক্তরঞ্জিত করে ফেরৎ পাঠাল, যাতে নমরুদের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি খোদাকে ধরাশায়ী করতে সমর্থ্য হয়েছেন।

কথিত আছে, যখন খোদা জিব্রাইলকে বলেন যে, “আমার এই বান্দা যেন নিরাশ না হয়।” তখন জিব্রাইল তীরের অগ্রভাগ রক্ত রঞ্জিত করতে পশু, পাখী ও জলজ জীবের কাছে রক্ত চেয়েছিল। কিন্তু কেউই নিজের রক্ত দিতে সম্মত হয়নি “বেলে মাছ” ছাড়া। এ কারণেই বেলে মাছের শরীরে কোন রক্ত নেই।

আল্লাহ এই পাপিষ্ঠের সাথে মোকাবেলা করার জন্য এক ঝাঁক মশা প্রেরণ করলেন। ক্ষুদ্র এই মশা বাহিনীর আক্রমণে ন্ম্রুদের বিশাল বাহিনী ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং একটি মশা তার মস্তিষ্কে প্রবেশ করলে তার মৃত্যু হয়।

৩. ইউনুছ নবীর কাহিনী

২৮ বছর বয়সে ইউনূস (আ:) নুবূয়্যত লাভ করেন এবং নীনাওয়াবাসী দাওয়াত দিতে আদিষ্ট হন। দীর্ঘদিন দাওয়াত দেয়ার পরও তারা ইমান না আনায় তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে নীনাওয়াবাসীর জন্য গজবের দোয়া করেন এবং ওই শহর ত্যাগ করেন। ফোরাত (ইউফ্রেটিস) নদীর তীরে পৌঁছার পর তিনি একটি জাহাজে আরোহণ করেন। মাঝনদীতে যাওয়ার পর জাহাজটি ঝড়ে আক্রান্ত হয়। সে যুগের কুসংস্কার অণুযায়ী জাহাজের আরোহীরা মনে করলো, নিশ্চয় এই নৌকায় কোন পলাতক দাস আছে। এবং তাকে ফেলে দিতে হবে এটা শুনে ইউনূস (আ:) এর চৈতন্যদয় হলো যে, তিনি শহর ছাড়ার ব্যাপারে আল্লাহর অণুমতির অপেক্ষা করেননি। তিনি নিজের দোষ স্বীকার করলেন। কিন্তু নৌকার আরোহীরা তাঁর সততায় মুগ্ধ হলো এবং তাকে নৌকা থেকে ফেলে দিতে সম্মত হলো না। শেষপর্যন্ত তারা লটারী করলো এবং সেখানেও ইউনূস (আ:) এর নামই উঠলো। অতঃপর লটারী (সুরতি) করালেও তিনি দোষী সাব্যস্ত হলেন। ফলে বাধ্য হয়ে তারা ইউনুস (আ:) কে নদীতে ফেলে দিল। এ সময় এক বিরাট মাছ তাকে গিলে ফেলে। কারো কারো মতে, সেটা ছিল তিমি মাছ। তিমির পেটের অন্ধকারের মাঝে তিনি আল্লাহর কাছে কাকুতি মিনতি করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ফলে আল্লাহর আদেশে মাছটি তাকেঁ তীরে এসে উগড়ে দিল। দীর্ঘদিন মাছের পেটে থাকার কারণে তিনি অসুস্থ এবং দুর্বল হয়ে পড়েন। তাই আল্লাহ আপন অণুগ্রহে সেখানে লাউগাছ উৎপন্ন করেন। সুস্থ হওয়ার পর তাকেঁ আবার নীনাওয়াবাসীদের কাছেই পাঠানো হয় এবং নীনাওয়াবাসী ইমান আনে।

(চলবে)

Related Article: 

2. কোরআনে বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সৃষ্টির আজগুবি কাহিনী !!

2. কুরআনে কতসব আজগুবি কাহিনী বিবৃত হয়েছে যা মুসলিমরা অন্ধ অন্ধভাবে বিশ্বাস করে থাকেন:

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading