কুরান কোন ঐশ্বরিক গ্রন্থ নয়, এটি মুহাম্মদের লিখিত – কুরানের মধ্যে শয়তানের বানী! (Satanic Verses)

কুরান আসলে কার বানী? আল্লাহর? মুহাম্মদের? নাকি শয়তানের?

কোরান শ্যতানের আয়াত আছে এটা নাস্তিকদের দাবী না । এটা নবী নিজেই বলেছেন এবং এটা মুসলমানেরা লুকানোর চেষ্টা করছে। যে আয়াত টা নবী ভুল করে ফেলেছিলেন “তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও ওযযা সম্পর্কে। وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَى এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? সূরা আন নজম-১৯-২০ ” – সেটা বলে বিপদে পড়ায় এটা শ্যতানের বানী বলে চালিয়ে দেন।

শয়তানের বানী কুরানে ঢুকলো কি করে? সে ইতিহাসই আজকে জানাবো আপনাদের। ঠিক এ বিষয়টি নিয়েই সাহিত্যিক সালমান রুশদি ১৯৮৮ সালে একটি বই লিখেছিলেন যার নাম ছিল The Satanic Verses বা শয়তানের আয়াত। বলাই বাহুল্য, বইটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বইটি প্রকাশের পরপরই সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের পাজামা গরম হয়ে যায় এবং তারা রুশদির কন্ঠরোধ করতে উঠে পড়ে লাগেন। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনী ১৪ই ফেব্রুয়ারী, ১৯৮৯ সালে একটি ফতোয়া জারী করেন যাতে বলা হয় সালমান রুশদিকে হত্যা করা সকল মুসলিমদের ঈমানী দায়িত্ব। ফলশ্রুতিতে বেশ কয়েকবার ব্যার্থ হত্যাচেষ্টা হয় কিন্তু কই মাছের প্রানবিশিষ্ট সালমান বেঁচে যান। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে নিজ দেশ ত্যাগ করে ইংল্যান্ডে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো।

কি ছিলো সেই বইয়ে? কেন সমগ্র মুসলিম সমাজ এতো ক্ষিপ্ত হয়ে গেলো বইটা পড়ে? আজ জানাবো সেই কাহিনীই।

“কুরান কোন ঐশ্বরিক গ্রন্থ নয়, এটি মুহাম্মদের লিখিত” এই সিরিজের আগের দুইটি পর্বে দেখিয়েছি কি করে মুহাম্মদ নিজ স্বার্থে বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুরানের আয়াত ডাউনলোড দিতেন। কোন কার্য সম্পাদনের প্রয়োজন পড়লেই মুহাম্মদ সেই সম্পর্কে কুরানে একটা আয়াত নিয়ে আসতেন এবং তা দেখিয়ে জনগনকে বোকা বানিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করতেন। বস্তুত, পুরো কোরানটাই এভাবে মুহাম্মদের প্রয়োজন অনুযায়ী রচিত। সিরিজটি চালু করার পর থেকেই অনেক অনেক মেসেজ পাচ্ছি ইনবক্সে, সবার কথার সারমর্ম প্রায় এক; এই একটি সিরিজই অনেকের বিশ্বাসের পিলার নড়বড়ে করে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা আজ শয়তানের আয়াত সম্পর্কে জানবো, কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় চলে যাই।

ইসলামের শুরুর দিকে নবী মুহামদের অবস্থা ছিলো খুবই করুন। পৌত্তলিকদের সব দেবতাদের বাতিল ঘোষনা করাতে কুরাইশরা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। মুহাম্মদের অনুসারীর সংখ্যাও ছিলো হাতে গোনা। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি ভালো যাচ্ছিলো না। মুহাম্মদের পরামর্শে তার কতক অনুসারী আবিসিনায়(বর্তমান ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া) হিজরত করেন। এটি ৬১৩ মতান্তরে ৬১৫ খ্রিস্টাব্দের ঘটনা। ইসলামের ইতিহাসে এটিকে প্রথম হিজরত হিসেবে অভিহিত করা হয়।

[https://en.wikipedia.org/wiki/Migration_to_Abyssinia]

মুহাম্মদ তার অনুসারীদের মক্কায় ফিরিয়ে আনতে চাইলেন এবং মক্কায় অবস্থিত সাহাবীদের সুবিধার্থে কুরাইশদের মন জয় করার উপায় খুজতে লাগলেন। কিন্তু কিভাবে করবেন কুরাইশদের মন জয়? তাদের দেবতাদের একটু গুনগান করলে মন্দ হয় না, কি বলেন? যেই ভাবা সেই কাজ, তিনি কুরানে পৌত্তলিকদের দেবতাদের গুনগান করে আয়াত ডাউনলোড করার সিদ্ধান্ত নিলেন। সেসময় অন্যতম প্রধান তিন দেবতা ছিলো লাত, উজ্জাহ ও মানাত। মুহাম্মদ এদের প্রশংসা করা এবং স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। যেই ভাবা সেই কাজ, সুরা নাজমে তিনটি আয়াত নিয়ে আসলেন।

সুরা আন-নাজম, আয়াত ১৯-২১

“তোমরা কি ভেবে দেখেছো লাত ও ওজ্জা সম্পর্কে। এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? তারা উচ্চে উড়ন্ত সারস পাখির ন্যায়, তাদের মধ্যস্থতা অনুমোদিত।”
— ৫৩ঃ ১৯-২১

এই আয়াত আসার পর কুরাইশরা সত্যিই অবাক হয় এবং মুহাম্মদের উপর সন্তুষ্ট হয় কেননা মুহাম্মদ তাদের দেবতা লাত, ওজ্জা এবং মানাতের প্রশংসা করেছে এবং তাদের মধ্যস্থতা অনুমোদন করেছে। এই আয়াত নাযিলের প্রতিক্রিয়াস্বরুপ মুহাম্মদ নিজে এবং উপস্থিত পৌত্তলিক কুরাইশ এবং মুসলিম সকলেই একসাথে সিজদাহ করেন। এই আয়াত নিয়ে কুরাইশ এবং মুসলিম সকলেই সন্তুষ্ট ছিলেন। নির্বিশেষে সকলেই ইবাদত সেরে নিলেন। কিন্তু বাধ সাধলেন এক বৃদ্ধ সাহাবী। নাম তার মুগীরা। সে সিজদা করলো না এবং দেবতাদের প্রসংসা করায় মুহাম্মদের উপর রাগ হয়েছিলো।

নবী মুহাম্মদসহ সকল মুসলিম ও পৌত্তলিকদের একসাথে মিলেমিশে সেজদাহ করার বিষয়টি হাদিসেও এসেছে।

Sahih Bukhari, Vol. 6, Book 60, Hadith 385
https://sunnah.com/urn/45400
“Narrated Ibn `Abbas: The Prophet (ﷺ) performed a prostration when he finished reciting Surat-an-Najm, and all the Muslims and pagans and Jinns and human beings prostrated along with him.”

এই ঘটনা সম্পর্কে ইবনে ইসহাক তার “সিরাত রাসুল আল্লাহ” গ্রন্থে বলেন,
[ Ishaq:166 ]
“When Quraysh heard that, ‎they were delighted and greatly pleased at the way in which he spoke of their gods and they ‎listened to him; while the believers were holding that what their prophet brought them from their ‎Lord was true, not suspecting a mistake or a vain desire or a slip, and when he reached the ‎prostration ‎3 and the end of the Sura in which he prostrated himself the Muslims prostrated ‎themselves when their prophet prostrated confirming what he brought and obeying his command, ‎and the polytheists of Quraysh and others who were in the mosque prostrated when they heard ‎the mention of their gods, so that everyone in the mosque believer and unbeliever prostrated, ‎except al-Walid b. al-Mughira who was an old man who could not do so, so he took a handful of ‎dirt from the valley and bent over it. Then the people dispersed and Quraysh went out, delighted ‎at what had been said about their gods, saying, ‘Muhammad has spoken of our gods in splendid ‎fashion. He alleged in what he read that they are the exalted Gharaniq whose intercession is ‎approved.’‎”

এই ঘটনা শেষে বয়স্ক সাহাবী মুগীরা মুহাম্মদকে সবকিছু বুঝিয়ে বললো। দেবতাদের স্বীকৃতি দেয়ার প্রকৃত অর্থ হচ্ছে মুহাম্মদের প্রচারিত একেশ্বরবাদ ধর্মের ধ্বংস ডেকে আনা। কুরাইশদের খুশি করতে গিয়ে যদি মুহাম্মদ বহু দেবতাকে মেনে নেয়, তাহলে ইসলাম আর এক-ঈশ্বরের ধর্ম থাকলো না। এইসব নিয়ে দুজন সলাপরামর্শ করলেন এবং অবশেষে মুহাম্মদ তার ভুল বুঝতে পারলেন। দেবতাদের স্বীকৃতি দেয়া ঠিক হয়নি। কিন্তু এখন উপায়????

মুহাম্মদের বিপদে এগিয়ে আসে তার ফেইক আইডি আল্লাহ। কুরানে আয়াত ডাউনলোডের মাধ্যেমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। মুহাম্মদের মাথায় একটা বুদ্ধি খেললো। মুহাম্মদ সবাইকে ডেকে বললেন সুরা নাজমের ঐ আয়াতগুলো আসলে জীব্রাইল নিয়ে আসেনি, শয়তান এসেছিলো জিব্রাইলের বেশ ধরে। আমি চিনতেই পারি নি কোনটা জিব্রাইল আর কোনটা শয়তান। এসব বলে মুহাম্মদ তার আয়াতগুলোকে এডিট করে দিলেন সুন্দরভাবে। এই ঘটনা সামাল দিতে কুরানে আয়াত ডাউনলোড দিলেন।

সুরা আল-হাজ্ব, আয়াত ৫২
“আমি আপনার পূর্বে যে সমস্ত রাসূল ও নবী প্রেরণ করেছি, তারা যখনই কিছু কল্পনা করেছে, তখনই শয়তান তাদের কল্পনায় কিছু মিশ্রণ করে দিয়েছে। অতঃপর আল্লাহ দূর করে দেন শয়তান যা মিশ্রণ করে। এরপর আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহকে সু-প্রতিষ্ঠিত করেন এবং আল্লাহ জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়।“

দেখুন অবস্থা! মুহাম্মদ কত সুন্দর করে তার বানোয়াট কাহিনীকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে কুরানে আয়াত পয়দা করলেন! তিনি নবী, অথচ চিনতেই পারলেন না কোনটা শয়তান আর কোনটা জিব্রাইল! জিব্রাইল তো আগেও তার কাছে অনেকবার এসেছে। আবার আল্লাহ কেমন বেকুব দেখুন, শয়তানকে জিব্রাইলের বেশ ধরার ক্ষমতা দেয়! কাহিনী তো পুরাই গুজামিল… হেহে… যাহোক, এই আয়াত দিয়ে মানুষকে বুঝাতে পারলেন যে শয়তানের পাল্লায় পড়ে ভুল করে ফেলেছেন মুহাম্মদ ( ইতোমধ্যেই দেবতাদের পুজা সেরে ফেলেছেন দয়াল নবী!)। এরপর তিনি সেই আলোচ্য তিনটি আয়াতের শেষ আয়াতটা এডিট করে দিলেন। কেননা, শেষ আয়াতটিই ছিলো মুল গন্ডগোল, এটাতেই দেবতাদের প্রশংসা করে স্বীকৃতিটা দেয়া হয়েছিলো। তাই মুহাম্মদ শেষ আয়াতটির বদলে নতুন আয়াত আনলেন।

“তারা উচ্চে উড়ন্ত সারস পাখির ন্যায়, তাদের মধ্যস্থতা অনুমোদিত।” – এই আয়াতটি ডিলিট করে নতুন আয়াত যেটা আনলেন তা হচ্ছে, “পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?”

অবশেষে এডিটকৃত সুরা নাজমের আয়াত তিনটি দাঁড়ালো,

সুরা আন-নাজম, আয়াত ১৯-২১

“তোমরা কি ভেবে দেখেছো লাত ও ওজ্জা সম্পর্কে। এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে? পুত্র-সন্তান কি তোমাদের জন্যে এবং কন্যা-সন্তান আল্লাহর জন্য?”

এভাবেই মুহাম্মদ তার সমস্যার সমাধান করলো। এই পুরো ঘটনাটি পাবেন ইবনে ইসহাকের “সিরাত রাসুল আল্লাহ” গ্রন্থে, পৃষ্ঠা নম্বর ১৬৫ থেকে ১৬৭। কমেন্টে ইসহাকের সিরাত গ্রন্থের লিঙ্ক দিয়ে দিবো, ডাউনলোড করে পড়ে নিবেন। এছাড়াও এই ঘটনা পাবেন আল-তাবারী, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ১০৭ থেকে ১১২। আরও আছে ইবনে সাদ এর “কিতাব আল তাবাকাত আল কবির” প্রথম খন্ডে পৃষ্ঠা ২৩৬ থেকে ২৩৯। আছে তাফসিরে জালালাইনেও। উইকিপিডিয়াতে গিয়েও শয়তানের আয়াত Satanic Verse সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারবেন। [https://en.wikipedia.org/wiki/Satanic_Verses]

শুরুতেই বলেছিলাম এই ঘটনা ছিলো ইসলামের শুরুর দিকে যখন মুহাম্মদ কুরাইশদের চাপে বেকায়দায় ছিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, সুরা আন-নাজম এর নাযিলের সময়কাল ৬১০-৬১৮ খ্রিষ্টাব্দ। শুধুমাত্র নাজমের ৩২ নম্বর আয়াতটি নাযিল হয় মদিনাতে। বাকি পুরোটা সুরাই নাযিল হয় ইসলামের একদম প্রাথমিক দিকে। যে সময় মুহাম্মদের শক্তি ছিলো না বলেই কুরাইশদের খুশি করতে চেয়েছিলেন। (পরবর্তীতে আমরা দেখেছি যে মুহাম্মদ শক্তি সঞ্চয় করে সুরা তাওবার মত জঙ্গীবাদি সুরা ডাউনলোড করেছেন) উইকিপিডিয়াতে সুরা নাজমের নাযিল হওয়ার সময় দেখে নিতে পারেন, দেখবেন স্পষ্ট করে লিখা আছে, Early Mecca phase, (610-618 AD). Except 32, from Medina।
[https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_surahs_in_the_Quran]

“সুরা আন-নাহলের ১০১ নং আয়াত এবং সুরা বাকারার ১০৬ নং আয়াত নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এ দুটো আয়াত পড়লে বুঝতে পারবেন, কোরান লিখিত হওয়ার সময় তার কিছু আয়াত প্রতিস্থাপন (Replace) করার প্রয়োজন হয়েছিলো। আল্লাপাক কোরানের কিছু আয়াত রহিত করতেন কিংবা মুহাম্মদকে বিস্মৃত করিয়ে দিতেন, পরবর্তী সময়ে উক্ত আয়াতের পরিবর্তে নতুন আয়াত নিয়ে আসতেন। নতুন আয়াত নিয়ে আসার পেছনে কারণ দেখানো হতো যে, এটি আগের আয়াতের থেকে উত্তম আয়াত। সমপর্যায়ের আয়াতও হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাপাক কেনো প্রথমে অধম আয়াতটি নাযিল করেছিলেন যা পরবর্তীতে Delete / Replace করার প্রয়োজন হবে? এই আচরণ কি কোন সৃষ্টিকর্তার সাথে যায়? নাকি এটি মুহাম্মদের কূটকৌশল?”

আজ আর কথা বাড়াবো না, মুহাম্মদের আরও সব ধোকাবাজি নিয়ে হাজির হবো পরবর্তী পর্বে। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন।

(Source: Akkas Ali)

Satanic Verses PDF

download (29)

One thought on “কুরান কোন ঐশ্বরিক গ্রন্থ নয়, এটি মুহাম্মদের লিখিত – কুরানের মধ্যে শয়তানের বানী! (Satanic Verses)

  1. Pingback: ভালো খারাপের মানদণ্ড এবং আসমানি কিতাব ও শয়তানের আয়াত | সত্যের পুজারি

Leave a comment