আফ্রিকার পুঙ্গা পুঙ্গা ধর্ম গ্রন্থে বিগ ব্যাং –

আমি আফ্রিকার গাম্বিয়ায় বেড়াতে গেছি, সাথে আমার এক বিজ্ঞানী বন্ধু। বেড়াতে গিয়ে সেখানকার ধর্ম গুরুর সাথে তুমুল তর্ক বেধে গেল। তার দাবি পুঙ্গা পুঙ্গা ধর্ম গ্রন্থে ৪০০০ বছর আগেই বিগ ব্যাং এর কথা লেখা আছে।

পুরোহিত বললেন, আরে মূর্খ, আপনার পুঙ্গা পুঙ্গা ধর্ম গ্রন্থের সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান নাই। বিজ্ঞান বিগ ব্যাং আবিষ্কার করেছে ধরুন ১০০ বছর আগে, ১৫০ বছর আগে? এটা নিয়ে তর্ক করবো না, কিন্তু পুঙ্গা পুঙ্গা ধর্ম গ্রন্থে ৪০০০ বছর আগেই বিগ ব্যাং এর কথা আছে। এটা পুঙ্গা পুঙ্গা দেবতা ছাড়া আর কে লিখতে পারে?

আমার বন্ধু টি ও নাছোড় বান্দা। সে রেগে গিয়ে বলল। আমি গত ১৫ বছর ধরে বিগ ব্যাং নিয়ে গবেষণা করছি। আর আপনাদের এই পুঙ্গা পুঙ্গা গ্রন্থে ৪০০০ বছর আগেই এটা লেখা আছে? এমন আজগুবি কথা আপনি কিভাবে বললেন?

পুরোহিত বললেন – আপনি কি আমাদের আসমানি কিতাব পড়ে দেখেছেন? সারা দিন তো থাকেন বিজ্ঞান নিয়ে। তো আপনি যদি এই মহান কিতাব পড়ে দেখতেন তাহলে অবাক হতেন । কিভাবে নিপুণ ভাবে আমাদের পুঙ্গা পুঙ্গা দেবতা বিগ ব্যাং বর্ণনা করেছেন। তা ও আবার ৪০০০ বছর আগে। সত্যিই আশ্চর্যের বিষয়।

আমার বন্ধু টি বলল, আপনাদের বিরক্তিকর কিতাব আমি পড়ার চেষ্টা করেছি। কি সব আগডুম বাগডুম লেখা। পুঙ্গা পুঙ্গা দেবতা নাকি হাঁচি দিয়েছে আর তাতেই এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। এসব গাঁজাখুরি কিতাব কিভাবে আপনি কিভাবে পড়তে বলেন? আর এতে কিভাবে বিজ্ঞান খুঁজে পান?

পুরোহিত বললেন, আপনাদের বিজ্ঞান যা আবিষ্কার করে তা তো এই ধর্ম ধর্মগ্রন্থ থেকেই রিসার্চ করে। আপনাদের বিজ্ঞান তো সৃষ্টি কে পর্যবেক্ষণ করে মাত্র। কিন্তু এই মহান পুঙ্গা পুঙ্গা, যিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, তিনিই আসল রহস্য জানেন। এই যেমন আপনাদের বিগ ব্যাং তত্ত্ব কি বলে? একটি বিশেষ মুহূর্তে মহাবিশ্বের উদ্ভব। আজ থেকে প্রায় ১৩.৭৫ বিলিয়ন বছর পূর্বে এই মহাবিশ্ব একটি অতি ঘন এবং উত্তপ্ত অবস্থা থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। দূরবর্তী ছায়াপথসমূহের বেগ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এরা পরস্পর দূরে সরে যাচ্ছে । সেটাই আমাদের পুঙ্গা পুঙ্গা দেবতার হাঁচি।

শুনে আমার বন্ধু প্রায় জ্ঞান হারালেন।

Ilc_9yr_moll4096

Leave a comment