আমরা প্রায়ই গর্ব করে বলি যে কোরান বিজ্ঞানে ভরপুর। বিজ্ঞান মহাবিশ্বের যেসব রহস্য উদঘাটন করেছে কিছু দিন আগে, তা ১৪০০ বছর আগেই কোরানে লিপিবদ্ধ করা ছিল। যেমন বিগ ব্যাং, দিন রাত্রি কিভাবে হয়, পৃথিবীর আকৃতি, ইত্যাদি ইত্যাদি।
তো বিজ্ঞান এখনো অনেক পিছিয়ে আছে । কোরানে এমন এমন সব তথ্য আছে ব্রহ্মের অণ্ড (ব্রহ্মাণ্ড ) বিষয়ে যা বিজ্ঞানীরা এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি।রহস্যই রয়ে গেছে। এমন কিছু বিষয় হল জীন, ভুত, প্রেতাত্মা, আত্মা, এবং সাত আসমান।
আসমান মানে কি? এটা আবার সাতটা হয় কিভাবে?
আসমান কে বাংলা করলে হয় আকাশ। ইংলিশে পাওয়া যায় Heavens,
এবং আরবি ভাষায় السماوات আল-সামাওআত।
ইংলিশে “Heaven” বলার কারণ হচ্ছে আগের দিনের সাধু সন্ন্যাসীরা মনে করতেন যে স্বর্গ আমাদের মাথার উপরে, আকাশে অবস্থিত। তাই আকাশে যে সব তারা দেখা যেত তাদেরকে বলা হত “Heavenly Bodies!”
প্রাচীন কালের এই ধারনা ধর্ম থেকে বাদ দিতে হয় – বিজ্ঞানীরা আকাশের গ্রহ নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। টেলিস্কোপের আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা স্বর্গ দেখতে লাগলেন আর ধার্মিকরা তাদের সর্গের কনসেপ্ট টা বদলাতে বাধ্য হলেন।
কিন্তু এই আকাশ আসলে কি?
আকাশের সংজ্ঞা অনুযায়ী “আকাশ হল ভূপৃষ্ঠ থেকে বাইরের দিকে অবস্থিত অংশবিশেষ। বায়ুমণ্ডল এবং মহাশূন্যও এর অংশ।”
তো আমরা দেখতে পাচ্ছি আকাশ আমাদের বায়ুমণ্ডল থেকে শুরু করে মহাশূন্য পর্যন্ত বিস্তৃত। আমারা মহাবিশ্বের গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, যা কিছু দেখতে পাই, সবই এই আকাশের ভিতরে।
কিন্তু এটা তো একটা আকাশ, সাতটা কিভাবে হল? এর অনেক রকম ব্যাখ্যা আছে।
প্রথম যে ব্যাখ্যা টা আমি শুনেছি সেটা হচ্ছে এই সাত আসমান দ্বারা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্তর গুলো বুঝানো হয়েছে।
এবার আসুন কোরানে কি বলা আছে সেটা দেখি।
“অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।” (কোরান ৪১ঃ১২)
তো বুঝা যাচ্ছে আকাশের তারা গুলো সর্ব নিম্ন স্তরে আছে। বোঝেন এবার। যারা বলে আসমানের স্তর গুলো বায়ুমণ্ডলের স্তর বুঝানো হয়েছে তারা ধরা খাইলেন।
আরেকটা ব্যাখ্যা আছে, সেটা হল বিজ্ঞান এখনো সাত আসমান আবিষ্কার করতে পারেনি। আমরা যা কিছু আবিষ্কার করেছি তা এক আসমানের ভিতর আর বাকি ৬ টা আমরা জানিনা। এটা অনেকটা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হতে পারে।
যদিও এটা একটা God of the Gap Fallacy অর্থাৎ যেসব জিনিষ বিজ্ঞান ভেরিফাই করতে পারেনি সেটাকে Unverifiable না বলে সত্য বলে মেনে নেওয়া।
এবার আমরা একজন হুজুরের বয়ান শুনবো।
বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ ইসলাম-বিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসায় বলেন – “আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা বলেছেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে।’ দুনিয়াতে আমরা যে আসমান দেখতে পাচ্ছি, এই আসমানের ঠিক ওপরে আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা আরেকটি আসমান তৈরি করেছেন, তার ওপর আরেকটি আসমান তৈরি করেছেন, এভাবে আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা সাতটি আসমান তৈরি করেছেন—প্রথম আসমান, দ্বিতীয় আসমান, তৃতীয় আসমান এভাবে।”
তো হুজুরের ভাষ্য হচ্ছে এই আসমান সম্পর্কে আধুনিক বিজ্ঞানও কোনও তথ্য দিতে পারেনি ।
এবার আমরা কোরানে আকাশ নিয়ে দুটি আয়াত দেখি ঃ
“তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন।” (কোরান ৭১ঃ১৫)
কোরানের বেশ কিছু আয়াতেই আল্লাহ্ বলেছেন খেয়াল করে দেখ। আমি কিভাবে স্তরে স্তরে সাত আসমান সৃষ্টি করেছি নিখুঁত ভাবে। এতে কোন ফাটল নেই। আমি কোন খুঁটি বা স্তম্ভ ব্যাবহার করিনি, আকাশ অনেক কঠিন, কিন্তু এটা তোমাদের মাথার উপর ভেঙে পড়বে না ।
সমস্যা হচ্ছে আমরা যদি প্রথম আসমানের সব কিছু এখনো আবিষ্কার করে না থাকি তাহলে আল্লাহ্ কেন আমাদের জিজ্ঞাসা করছেন – “তোমরা কি লক্ষ্য কর না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন।”? আল্লাহ্ কি জানতো না যে মানুষ এখনো সব কিছু দেখতে পায় না?
আর দ্বিতীয় আয়াত টি হচ্ছে – কাফেররা কি (ভেবে) দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এক সাথে মিশে ছিল অতঃপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম? (২১ঃ৩০)
এটা যদি বিগ ব্যাং হয় তাহলে কাফের রা কি বিগ ব্যাং ঘটেছে, এটা আগে থেকেই জানতো? যদি না জানতো তাহলে কিভাবে ভেবে দেখবে?
যদি আমরা কোরানের বানী সত্য বলে ধরে নেই, তাহলে আমাদের কাছে এখনো প্রথম আসমানের অনেক কিছু রহস্য রয়ে গেছে আর এই জন্যই এখনো আমরা কোরানের সঠিক ব্যাখ্যা টা দিতে পারছিনা। হয়তো একদিন বিজ্ঞান আবিষ্কার করবে যে আসলেই সাত আসমান আছে। তত দিন পর্যন্ত কোরআনের সাত আসমান বর্ণিত আয়াতগুলি রহস্য হয়েই থেকে যাবে।
Pingback: তিমি মাছের উপরে পৃথিবী? কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল ৪ | সত্যের পুজারি
Pingback: তিমি মাছের উপরে পৃথিবী? কোরানে বৈজ্ঞানিক ভুল ৪ | সত্যের সন্ধানী