মুমিনরা কোন থিওরির কথা শুনলে মনে করে যে সেটা সেই বিজ্ঞানীর উপর ওহি নাজিল হয়েছিল। আর মানুষ তাদের বই পড়ে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। একটা বিজ্ঞানী কোন কিছু আবিষ্কার করলে বা থিওরি দিলে সেটা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়। সেটা পেপারে আসে, জার্নালে ছাপা হয়। অন্যান্য। বিজ্ঞানীরা সেটা নিয়ে রিসার্চ করে। তারপর সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রথমে আসি থিওরি কথাটার মানে কি। সাধারণ ভাবে আমরা theory বলতে যেটা বুঝি, বিজ্ঞানের ভাষায় theory সেটা বুঝায় না। আর এই সম্মান্য জিনিষটা অনেক মুমিন বান্দারা জানেন না।
বেশিরভাগ মানুষই থিওরি বা তত্ত্ব বলতে সাধারণত বিশেষ কোনো ধারণা বা অনুমানকে বুঝাে যা কেউ ব্যক্তিগতভাবে মনে পোষণ করেন। কিন্তু বিজ্ঞানে থিওরি বা তত্ত্ব বলতে বুঝায় বাস্তব কোনো কিছুকে ব্যাখ্যা করার পদ্ধতিকে।
একটি ঘটনা, ফ্যাক্ট বা ফিনমিনা যেটা সত্য, সেটাকে ব্যাখ্যা করা হয় থিওরির মাধ্যমে – সিম্পল।
কিন্তু মুমিনরা যে যুক্তি গুলো দেখায় সেগুলো হচ্ছে – এটা শুধু একটা থিওরি, ফ্যাক্ট নয়। অথবা এটা কোন ল নয়। আর এই কথা গুলো বলে শুধু মাত্র বিবর্তনের বেলায়। অনারা আবার বিগ ব্যাং থিওরি মেনে নেন। ওটা নাকি কোরানে আছে। যাই হোক সেটা ভিন্ন বিষয়, সেটা নিয়ে আরেকদিন লিখব।
বিজ্ঞানের থিওরির আরেকটা বিষয় হচ্ছে থিওরি কোনদিন ল হয় না। থিওরি বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান, সুমহান মর্যাদা পায়।
এখন মনে করেন বিবর্তনতত্ত্ব। এটা এখন যদি আপনি ডারউইনের বই তে খুঁজতে যান, তবে কোন প্রমাণ পাবেন না। ডারউইন শুধু অব্জারভেশন গুলো বলে গেছে। কিন্তু মুমিনদের সাথে কথা বলতে গেলেই বলে ডারউইন তো এটা বলে নি, ওটা বলেনি। ডারউইন তো বলেছে মিসিং লিংক আছে।
আসলে মুমিনরা নিজেরা কিছু পড়া লেখা করেনা। তারা যেটা বিশ্বাস করে সেটাই ধরে রাখে আর সেটা কে টিকিয়ে রাখার জন্য যেসব যুক্তি প্রয়োজন সেগুলো খুঁজে বের করে।
বেশিরভাগ মুমিনের বিবর্তন বাদ সম্পর্কে ধারনা হল ডারউইন বলেছে বান্দর থেকে মানুষ হয়েছে। এটা তারা হুযুরদের ওয়াজ আর জাকির নাইকের লেকচার শুনে মুখস্থ করেছে। বিজ্ঞানের কোন বইতে আপনি এটা পাবেন না যে বান্দর থেকে মানুষ এসেছে । বিজ্ঞান বলে কমন এন্সেস্টর ছিল যেটা থেকে এখনকার আধুনিক বানর, অরাং ওটাং, গরিলা, শিম্পাঞ্জি, ইত্যাদি সব গুলো এপ জাতীয় প্রাণী এসেছে।
ডারউইন বলেছিলেন যে আমাদের কাছে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রমাণ নেই কারণ আমরা এখনো পৃথিবীর অধিকাংশ বিষয় গুলি আবিষ্কার করতে পারিনি। উনি এটা জানতেন যে ভবিষ্যতে মিসিং লিংক গুলো আবিষ্কার হবে। আর এই কথাটাই মুমিনরা কোট করে।
আসলে বিবর্তনবাদ মানে ডারউইন কি বলেছে বা কি করেছেন বা কি লিখে গেছেন সেটা নয়। বিবর্তনবাদ নিয়ে বহু গবেষণা হয়েছে এবং বর্তমানে ৯৭% বিজ্ঞানীরা একমত যে বিবর্তনবাদ সত্য।
ডারউইন যখন 1859 সালে On the Origin of Species by Means of Natural Selection বই টি লেখেন, তখন উনি শুধু মাত্র Natural Selection নিয়েই লিখেছেন। কিন্তু প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে কিছুই বলেননি, কারণ evolution প্রাণের উৎপত্তি হওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে। উনি দেখেছেন আমরা বিভিন্ন প্রকার পশু পাখির আর্টিফিশিয়াল সিলেকশন করে নানা প্রজাতি সৃষ্টি করতে পারি, যেমন আমরা কুকুর, ঘোড়া, ব্রিড করতে পারি বিশেষ কোন উদ্দেশ্যে। আবার বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের ব্রিড তৈরি করতে পারি আমাদের প্রয়োজন মতো, তো প্রকৃতি তো আরও সুন্দর ভাবে করতে পারে। সেটাই Natural Selection । আর এর Driving Force হচ্ছে খাবারের জন্য প্রতিযোগিতা।
প্রাণীর উদ্ভব কিভাবে হল সেটা ডারউইনের গবেষণার বিষয় ছিল না। এবং এই নিয়ে তিনি কিছু বলেনও নি। এর পর ডি এন এ এবং মাইক্রোবায়োলজি evolution theory কে আরও দৃঢ় ভাবে প্রমাণ করেছে।
তো, বিজ্ঞানীরা কোন নবী নয় যে তাদের কথা গুলো আপনারা কোট করে বলবেন উনি তো এটা লিখেছিল, বা এটা বলে গেছেন, বা এভাবে কাপড় পরতেন, চারটা খেজুর দিয়ে নাস্তা করতেন, ইত্যাদি। বিজ্ঞানীরা যে থিওরি দিয়ে যায় সেগুলো নিয়ে প্রতিনিয়ত রিসার্চ হয় এবং আপডেট হয়।
থিওরির একটি বিশিষ্ট হল এর প্রেডিকশন পাওয়ার বা পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষমতা। বিজ্ঞানীরা যেসব পূর্বাভাস দিয়ে যায়, সে সব জায়গায় আরো গবেষণা হয়, নতুন তথ্য যোগ হয়, পরিশোধিত এবং এভাবেই থিওরি গুলি আরো শক্তিশালী হয়। আর সেসব জায়গায় ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলে থিওরিও অন্য দিকে মোড় নিতে পারে। এটাই হল বিজ্ঞান।

