কোরআনে সন্ত্রাস সৃষ্টির আয়াত/ Hate Speech in Quran

—

3–5 minutes

মুসলিমরা দাবি করে ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম মানবতার ধর্ম, ইসলাম কল্যাণের ধর্ম। এতে কোন হিংসা বিদ্বেষ নেই। কোন জঙ্গি হামলা হলেই মুসলমানরা বলেন, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। যারা জঙ্গি এবং জিহাদি, তারা সহিহ মুসলিম নয়।

কিন্তু আপনি যদি কোন ওয়াজ মাহফিলে যান, তবে আপনি ঠিক তার উলটো কথাটা শুনতে পারবেন। আসলে যারা বলে ইসলাম শান্তির ধর্ম তারা প্রকৃত ইসলাম জানেনা এবং কোনদিন কোরআন হাদিস পড়েনি। কারণ আপনি যদি নিচের আয়াত গুলো পড়েন, তো শুধু অন্য ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা আর বিদ্বেষ দেখতে পাবেন।

# সন্ত্রাস সৃষ্টি করো ( কোরআন ৩:১৫১)

খুব শীঘ্রই আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করবো। কারণ, ওরা আল্লাহর সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করে যে সম্পর্কে কোন সনদ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর ওদের ঠিকানা হলো দোযখের আগুন। বস্তুতঃ জালেমদের ঠিকানা অত্যন্ত নিকৃষ্ট।

# কাটো জোড়ায় জোড়ায়

“… আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাটো জোড়ায় জোড়ায়।” (কোরান ৮ঃ১২)

# অবিশ্বাসীরাই নিকৃষ্টতম জীব

“নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট জীব তারাই যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং অবিশ্বাস করে।” (কোরান ৮:৫৫)

# কোনো  অ-মুসলিমদের বিশ্বাস কোরনা (কোরান ৩৩:১)

কোরান ৩৩:১ “হে নবী! আল্লাহকে ভয় করুন এবং কাফের ও কপট বিশ্বাসীদের কথা মানবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”

# সব মুসলিমদের জন্য জিহাদ বাধ্যতামূলক (কোরান ২:২১৬)

কোরান ২ :২১৬ “তোমাদের উপর যুদ্ধ ফরয করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়তো কোন একটা বিষয় পছন্দসই নয়, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হয়তোবা কোন একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তোমাদের জন্যে অকল্যাণকর। বস্তুতঃ আল্লাহই জানেন, তোমরা জান না।”

# কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও

“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক্ আর জেনে রাখ, আল্লাহ্ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।” (কোরান ৯ঃ১২৩)

# সব কাফেরদের হত্যা করো এবং মুক্তিপণ দাবি করা (কোরান ৪৭:৪)

কোরান ৪৭:৪ “অতঃপর যখন তোমরা কাফেরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের গর্দার মার, অবশেষে যখন তাদরকে পূর্ণরূপে পরাভূত কর তখন তাদেরকে শক্ত করে বেধে ফেল। অতঃপর হয় তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, না হয় তাদের নিকট হতে মুক্তিপণ লও। তোমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে যে পর্যন্ত না শত্রুপক্ষ অস্ত্র সমর্পণ করবে! একথা শুনলে। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের কতককে কতকের দ্বারা পরীক্ষা করতে চান। যারা আল্লাহর পথে শহীদ হয়, আল্লাহ কখনই তাদের কর্ম বিনষ্ট করবেন না।”

# খ্রীষ্টান, ইহুদি কাফেরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। (কোরান ৯৮ :৬)

কোরান ৯৮:৬ “আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা কাফের, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।”

# কোরানের বর্বরতা (কোরান ৫:৩৩)

যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।

# মুসলিম ছাড়া সবই (খ্রীষ্টান, ইহুদি) কাফের (কোরান ৫:৭২ ,৫:৭৩)

কোরান ৫:৭২ “তারা কাফের, যারা বলে যে, মরিময়-তনয় মসীহ-ই আল্লাহ; অথচ মসীহ বলেন, হে বণী-ইসরাঈল, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর, যিনি আমার পালন কর্তা এবং তোমাদেরও পালনকর্তা। নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থির করে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেন। এবং তার বাসস্থান হয় জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোন সাহায্যকারী নেই।”

কোরান ৫:৭৩ ”নিশ্চয় তারা কাফের, যারা বলেঃ আল্লাহ তিনের এক; অথচ এক উপাস্য ছাড়া কোন উপাস্য নেই। যদি তারা স্বীয় উক্তি থেকে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরে অটল থাকবে, তাদের উপর যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি পতিত হবে।”

# আল্লাহর পথে জেহাদ কর জান ও মাল দ্বারা (কোরান ৪ঃ৯৫)

গৃহে উপবিষ্ট মুসলমান-যাদের কোন সঙ্গত ওযর নেই এবং ঐ মুসলমান যারা জান ও মাল দ্বারা আল্লাহর পথে জেহাদ করে,-সমান নয়। যারা জান ও মাল দ্বারা জেহাদ করে, আল্লাহ তাদের পদমর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছেন গৃহে উপবিষ্টদের তুলনায় এবং প্রত্যেকের সাথেই আল্লাহ কল্যাণের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ মুজাহেদীনকে উপবিষ্টদের উপর মহান প্রতিদানে শ্রেষ্ঠ করেছেন।

# মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও

“অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (কোরান ৯ঃ৫)

# বিধর্মীদের মুসলমান হতে বাধ্য করা

এখন যদি তারা তাওবাহ করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে তাহলে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। জ্ঞান-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেদের জন্য আমি স্পষ্ট করে নিদর্শন বলে দিলাম। (কোরান ৯ঃ১১)

আর যদি তারা অঙ্গীকার করার পর নিজেদের শপথগুলিকে ভঙ্গ করে এবং তোমাদের ধর্মের প্রতি দোষারোপ করে তাহলে তোমরা কুফরের অগ্রনায়কদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, (এই অবস্থায়) তাদের শপথ রইলনা, হয়তো তারা বিরত থাকবে। (কোরান ৯ঃ১২)

# মুসলিমরা কোন  অমুসলিমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেনা (কোরান ৫:৫১)

হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদের বন্ধু এবং অভিভাবক রূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু এবং অভিভাবক। এবং তোমাদের মধ্যে যে কেহ তাদের [বন্ধু এবং অভিভাবক রূপে] গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অন্যায়কারীকে [সুপথে] পরিচালিত করেন না।

Courtesy :

  • Placid Rodrigues
  • Shongshoy.com

images (15).jpg

সহিহ বুখারী খণ্ড ৫ ডাউনলোড লিঙ্ক পৃষ্ঠা ১৩০

Related Article: ইসলামের সাথে জঙ্গিবাদের সম্পর্ক কি?

5 responses to “কোরআনে সন্ত্রাস সৃষ্টির আয়াত/ Hate Speech in Quran”

  1. […] বেশ কিছু ঘৃণা ভরা যুদ্ধের আয়াত আছে যা সরাসরি “লাকুম দ্বীনুকুম […]

  2. […] কোরানে সন্ত্রাস সৃষ্টির আয়াত/ Hate Speech in Qura… […]

  3. […] Related Article: কোরানে সন্ত্রাস সৃষ্টির আয়াত/ Hate Speech in Qura… […]

  4. […] আরও দেখুনঃ কোরানে সন্ত্রাস সৃষ্টির আয়াত/ Hate Speech in Q… […]

  5. […] Related Article: কোরানে সন্ত্রাস সৃষ্টির আয়াত/ Hate Speech in Qura… […]

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading