মহাবিজ্ঞানময় গ্রন্থ!!!

পৃথিবীতে তিনটি মহাবিজ্ঞানময় গ্রন্থের নাম আমরা শুনি-
১। খৃস্টানদের বাইবেল
২। মুসলিমদের কোরান
৩। হিন্দুদের বেদ

আরো ৪১৯৭টি ধর্মের মানুষও হয়তো তাদের গ্রন্থকে মহাবিজ্ঞানময় ভাবেন। অবশ্য বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের মতো কিছু নাস্তিক্যবাদী ধর্ম রয়েছে যারা স্রস্টায় বিশ্বাস করে না।

বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের পার্থক্য আকাশ পাতাল। একটি আরেকটির বিপরীতে অবস্থান করে। যেমন-

১। মানুষের উৎপত্তি: ধর্মমত- সৃষ্টিবাদ, বিজ্ঞানমত- বিবর্তন বাদ,
২। পৃথিবীর আকৃতি: ধর্মমত- সমতল চারকোনাকার স্থির, বিজ্ঞানমত- গোলাকার ঘুর্ণায়মান,
৩। আকাশ: ধর্মমত- পৃথিবীর ছাদ যা স্রষ্ট খুটি ছাড়া ধরে রেখেছেন, বিজ্ঞানমত: মহাশূন্যে আকাশ বলে কিছু নেই।

উন্নত দেশগুলোতে সৃষ্টিবাদ পড়ানো হয় না। আমেরিকার কথাই বলি, ওখানকার মৌলবাদীগোষ্ঠী বহু চেষ্টা করেও বিজ্ঞানবিরোধী কোন মতবাদ পাঠ্যসূচিভূক্ত করতে পারেনি। এজন্য তারা আদালতেও মামলা করে একের পর এক হেরেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তারা অনুমোদন ছাড়াই স্কুলে পড়ানো শুরু করলে সচেতন জনৈক অভিভাবক আদালতে মামলা করে দেন। বন্ধ হয়ে যায় অবৈজ্ঞানিক কোন কিছু পাঠদান। আমেরিকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোন ভাবেই ধর্মীয় কোন কিছু পড়ানোর সুযোগ নেই। খৃস্টান মৌলবাদীরা ভুয়া বুদ্ধিদীপ্ত নকশা (ইন্টেলিজেন্ট ডিজাইন বা আইডি) তত্বকে বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দাবি করে পাঠ্যভূক্ত করার চেষ্টা করে। এই আইডি তত্ত্বই আমেরিকা থেকে আমাদের ঔপন্যাসিক হুমায়ুন আহমেদ বাংলাদেশে আমদানি করে তিনি ক্যামেরা তত্ত্ব বলে প্রচার করেছিলেন। হাজারো ভুলে ভরা, প্রতারণামূলক ভুয়া আইডি তত্ত্বও আমেরিকার আদালতে বাতিল হয়ে যায়। এরপরেও আমেরিকার ৫১% মানুষ ভুতে বিশ্বাস করে। অবশ্য এদের অধিকাংশই পশ্চাৎপদ লেটিন আমেরিকা-এশিয়া-আফ্রিকার অভিবাসী।

আমাদের মতো দরিদ্র ও মানহীন শিক্ষার দেশে উল্টো বৈজ্ঞানিক বিবর্তনবাদই নিষিদ্ধ। আল্লামা সাঈদী সাহেব বিবর্তনবাদ সম্পর্কে কতগুলো মিথ্যাচার করে গেছেন। এখনোও ওগুলোকেই বিবর্তনবাদ বলে ভাবে কিছু মৌলবাদী। স্কুলগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ধর্মশিক্ষা পড়ানো হয়। বিবর্তনবাদ আছে শুধু নবম-দশম শ্রেণিতে আধা পৃষ্ঠা। উচ্চ মাধ্যমিকে বিবর্তনবাদের সাথে পড়ানো হয় বাতিল হওয়া ল্যামার্কবাদ! এতে শিক্ষার্থীরা দুটোকেই ভুল বলে ধরে নেয়। এখানে পড়ানো উচিৎ বিবর্তনবাদকে যে ৯/১০ প্রকারে প্রমাণ করা যায় তা। এটা পাঠ্যসূচিভূক্ত করা হয়েছে হয়তো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রমাণ করার জন্য যে, আমরাও বিবর্তনবাদ পড়াই। এগুলো মৌলবাদীদের চক্রান্ত ছাড়া কিছুই নয়।

পৃথিবী নিয়ে আজকাল পশ্চাৎপদ কিছু ধর্মান্ধ দুই রকম কথা বলে-
১। পৃথিবী গোলাকার ও ঘুর্ণায়মান এটা ধর্ম গ্রন্থেই বলা আছে।
২। পৃথিবী গোলাকার নয়, এটা বিজ্ঞানীদের মিথ্যাচার। এটা সমতল চারকোণা ও স্থির।

কোন ধর্মগ্রন্থেই পৃথিবী গোলাকার ও ঘুর্ণায়মান বলা নেই। সর্বত্রই বলা আছে এটি স্থির ও সমতল চারকোণা। এখন বহুভাবেই প্রমাণ করা যায় পৃথিবী গোলাকার ও ঘুর্ণায়মান। এমনকি আপনি মহাশূন্যে গিয়ে নিজ চোখেও দেখতে পাবেন গোলাকার পৃথিবী।

Mojib Rahman

 

download (7).jpg

Leave a comment