বেশ কিছু আর্গুমেন্ট খণ্ডন

বেশ কিছু আর্গুমেন্ট আমার কাছে এসেছে যেগুলো আজকে খণ্ডন করতে চাই।

প্রথম যে অভিযোগ টা আসে সেটা হল কোরান বোঝার ব্যাপারে। মুমিনরা বলে আপনি আরবি বোঝেন না তাই কোরানের ভুল ধরতে আসবেন না। প্রেক্ষাপট না জেনে, তফসির না বুঝে, শানে নুযূল না পড়ে শুধু অনুবাদ পড়ে আসল অর্থ বুঝা যাবেনা ইত্যাদি।

এখন মুমিনরা এক বাক্যে স্বীকার করে যে বাইবেলে ভুল আছে, যদিও তারা আরামিক, অথবা হিব্রু ভাষা জানেন না। কিন্তু অনুবাদ পড়েই বলতে পারেন এগুলোতে ভুল আছে। আপনারা ভগবৎ গীতা সঠিক নয় এটা বলতে পারেন সংস্কৃত ভাষা না বুঝেই। কিন্তু আরবি ভাষা না বুঝে, শুধু অনুবাদ পড়ে কোরানে ভুল আছে এটা বলা যাবেনা কেন?

আরেকটা ব্যাপার হল, মনে করেন কোরানে আছে শুকর খাওয়া হারাম। এটা আমি পড়লাম। আমি কোন প্রেক্ষাপট জানিনা। আর কিছুই জানিনা। শুধু মাত্র এটা পড়ে আমি কি বুঝবো? এটাই যে শুকর খাওয়া হারাম। এখন আমি যদি সম্পূর্ণ কোরান পড়ি, তারপর প্রেক্ষাপট পড়ি, তফসির পড়ি, এর সাথে সম্পর্কিত হাদিস পড়ি, তাহলে কি এই লাইনটার অর্থ পরিবর্তন হয়ে শুকর খাওয়া হালাল হয়ে যাবে?

আরেকটা উদাহরণ দেই। কোরানে আছে নারীদের প্রহার করা যাবে। আমি যদি শুধু এটা পড়ি তাহলে বুঝবো যে প্রহার করা যাবে। এখন যদি এর সাথে হাজার টা আয়াত যুক্ত করা হয়, তফসির দেওয়া হয়, প্রেক্ষাপট দেওয়া হয়, হাদিস দেওয়া হয়, তবুও কিন্তু “নারীকে প্রহার করা যাবে” এই কথাটা পরিবর্তন হয় না। শুধু অযথা ত্যানা পেঁচানো হয়।

আরেকটা যুক্তি মুমিনরা দেয় যে মনে করেন আপনি একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার। আপনি একটা সফটওয়্যার লিখলেন যেটা একটা মেশিনে চলছে। সেই সফটওয়্যারের পক্ষে কি কোনদিন এর লেখক কে জানা বা দেখা সম্ভব? ঠিক তেমনি আমরা হলাম সফটওয়্যার, এই মহাবিশ্ব হার্ডওয়্যার আর আল্লাহ্‌ হল প্রোগ্রামার। আমাদের কোনদিন তাকে জানা বা দেখা সম্ভব নয়।

খুব সুন্দর এনালজি। এখন আপনার এই থিওরিটা পরীক্ষা করবো কিভাবে? যদি এই থিওরি পরীক্ষা করার উপায় না থাকে তবে এটা সম্পূর্ণ অর্থহীন একটা থিওরি হবে।

আরেকটা কথা হচ্ছে আমি যদি একটা সফটওয়্যার লিখি, আমি কি নিজেই আমার সফটওয়্যার কে চ্যালেঞ্জ করে বসবো যে পারলে আমার মতো একটা লিখে দেখাও? এটা করলে তো সবাই আমাকে পাগল ভাববে। অথচ কোরানে আল্লাহ্‌ নিজেই তার সৃষ্টিকে চ্যালেঞ্জ করছে, পারলে আমার মতো একটা কোরান লিখে দেখাও। এ কেমন সৃষ্টিকর্তা?

Adam-god-stuff-1024x477.jpg

Leave a comment