প্রতিটা ধর্মের একটা লুপ হোল আছে। আপনি যত খুশি পাপ করেন কিন্তু দিন শেষে রাতে শোয়ার আগে তওবা করে নিলেই হল। আর জীবনে একবার হজ্জ করে নিলেই সব পাপ ধুয়ে মুছে যাবে। তাই বাংলাদেশের মত ৯০% মুসলমানের দেশেও এত অপরাধ।

কিন্তু নাস্তিকদের এমন কোন লুপ হোল নেই। তারা নিজেরাই নিজেদের কাজের কন্সিকুয়েন্স ফেস করবে। তাই তারা ভুল করলে নিজেরাই শুধরে নেবে। আর অপরাধ করলে শাস্তি পাবে ইহকালেই। তাদের মাপ চাওয়ার মতো কেউ নেই, তাই তারা যাদেরবিরুদ্ধে অপরাধ করেছে তাদের কাছেই ক্ষমা চায়।

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে জাপান, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড এর মত ধর্মহীন দেশ গুলোয় এত অপরাধ কম কেন? এর প্রধান কারণ হল শিক্ষা।

আমাদের দেশে অপরাধ গুলি যে কারণে ঘটে তা মুলত অভাব থেকে। আর উন্নত দেশে কিছু অপরাধ হয় মানসিক অসুস্থতার কারণে।

আমাদের দেশে একজন মানুষ যখন দেখে যে সে যা চাচ্ছে তা তার ক্রয় ক্ষমতার বাইরে তখন সে কিছূ অসদুপায় অবলম্বন করে। কিছু মানুষ আছে যাদের লোভ অনেক বেশি।

নিম্ন শ্রেণীর মানুষরা নিতান্ত তাদের মৌলিক চাহিদা গুলো মেটানোর জন্যই চুরি, ডাকাতি কিংবা বাটপারির মতো অপরাধ গুলো করে। খাবারে ভেজাল মেশায়, কিংবা মিথ্যা বলে।

কিন্তু অপরাধ গুলো দমনে শুধু শাস্তি দেওয়াই কার্যকর পন্থা নয়। একজন চোরকে যদি জেলে দেন, বা তার হাত কেটে ফেলেন, সে কিন্তু চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাবে। তাকে আপনি পুনর্বাসন করতে পারবেন না। কিন্তু আপনি যদি তার অপরাধের কারণ সনাক্ত করতে পারেন এবং তাকে কিছু শিক্ষা দিয়ে কোন কাজে লাগান, তবে সমাজ থেকে ধিরে ধিরে চুরি দূর হবে।

একই বিষয় ধর্ষণের ব্যাপারেও খাটে। আমাদের দেশের মানুষদের ধারনা যেসব মেয়েরা ছোট ছোট কাপড় পরে রাস্তায় বের হয় তারা সস্তা। তাই তাদের বিরক্ত করা যাবে। কিন্তু তাদের এই ভদ্রতা নেই যে মেয়েদের দেখলেই কুকুরের মত ছোঁকছোঁক করতে নেই। বোরখা দিয়ে ধর্ষণ রোধ করা যাবে, এটাও সত্যি নয়। কারণ যদি এটা সত্য হতো তবে ৭ বছরের মেয়েরা আর মাদ্রাসার ছাত্রীরা ধর্ষণের শিকার হতো না।

মেয়েদের সম্মান দেওয়ার শিক্ষা যদি ছেলেদের মধ্যে থাকতো, তাহলে ধর্ষণের মতো অপরাধ গুলো অনেক কমে আসতো। একটা জাতি শিক্ষিত হলেই অপরাধ অনেকটা কমানো সম্ভব।

californias-proposition-47-crime-and-no-consequences-1

Leave a Reply

Discover more from সত্যের সন্ধানী

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading