অনেকেই মনে করে যে ধর্ম না মানলে তো আপনি খারাপ হয়ে যাবেন। কারণ আপনার তো পরকালের কোন ভয় নেই । পরকালে কেউ আপনাকে গ্রিল বা বারবিকিউ বানাবে না, তো আপনি খারাপ কাজ কেন করবেন না? আমার সহজ উত্তর। আমি খারাপ কাজ করতে চাইনা তাই করিনা। আমার উত্তর শুনেও অনেকে আঁতকে ওঠে। অবিশ্বাসের দৃষ্টি দিয়ে তাকায় । তারা বলে, ভাই, আপনি আসলেই খারাপ হতে চান না? এটা কেমন কথা? এমন একটা ভাব যে ধর্ম না থাকলে তারা সাথে সাথে চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ ইত্যাদি অপরাধে ঝাঁপিয়ে পড়তো।
আরেকটা প্রশ্ন আসে, সেটা হচ্ছে, আপনি যদি ধর্ম না মানেন, তাহলে, আপনি ভালো খারাপ কিভাবে চিনবেন? আপনার কাছে যেটা ভালো, সেটা তো আরেকজনের কাছে খারাপ। আবার এক কালচারে যেটা ভালো আরেক কালচারে সেটা হাস্যকর। তো আপনার ভালো খারাপের মানদণ্ড কি হবে?
প্রথমত, ভালো মন্দের মানদণ্ড ধর্ম হতে পারেনা। কারণ ধর্ম বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, দাস প্রথার মত জঘন্য কাজ গুলো সমর্থন করে। সৌদিতে আমাদের দেশের মেয়েরা কাজ করতে গিয়ে, ধর্ষিতা হয়ে ফেরত আসে। কিন্তু তাতেও তাদের টনক নড়েনা।
ধর্ম যদি মানুষ কে ভালো করতে পারতো, তাহলে নবীর দেশের মানুষরা এত বর্বর কেন?
মানুষ কতটা ভালো বা মন্দ তা যাচাই করার প্রথম ধাপ হল দেশের প্রচলিত আইন। আপনার দেশের আইন যদি জাস্ট হয়, এবং আপনি যদি আইন ভঙ্গ না করে জীবনযাপন করতে পারেন, তাহলে আপনি একজন সৎ মানুষ হবেন।
ভালো কাজের দ্বিতীয় মানদণ্ড হচ্ছে আপনার বিবেক। কোনটা ভালো কাজ আর কোনটা খারাপ কাজ, সেটা আপনার বিবেকই বলে দিবে।
দেশের আইন সব সময়ে মানবিক হয় না। এক সময় দাস দাসী কেনা বেচা, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ প্রথা দেশের আইনের পরিপন্থী ছিল না। আমরা যত সভ্য হচ্ছি, তত বুঝতে পারছি যে এই প্রথা গুলি সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং অমানবিকও বটে।
যে জিনিষ গুলি আমাদের সমাজ কে উন্নত করতে বাধা দেয়, এবং মানবতার জন্য ক্ষতিকর, সেগুলোই আমাদের এড়িয়ে চলা উচিৎ।
মনে করেন আপনি একটি কুকুর দেখতে পেলেন, যেটা ক্ষুধার্ত এবং তৃষ্ণার্ত । গরমে কষ্ট পাচ্ছে। আপনি তাকে খাবার দিলেন, পানি দিলেন। এখন এটা যে একটা ভালো কাজ, সেটা বুঝতে নিশ্চয়ই আপনার কিতাব প্রয়োজন নেই।
মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী। তাই মানুষ একে অপরের সুখ দুঃখ বুঝতে পারে। মনে করেন আপনি কষ্ট করে টাকা উপার্জন করেন, আর কলিমুদ্দি এসে সেই টাকা লুট করে। এটা সহজেই বুঝা যায় যে কলিমুদ্দি অন্যায় করে।
এটাকে বলে SENSE OF FAIRNESS যা শুধু মানুষের মধ্যে নয়, সকল সমাজবদ্ধ প্রাণীর মধ্যেই আছে। আপনি যদি এটা বুঝতে না পারেন, তবে এটা খুবই দুঃখ জনক হবে।
মোট কথা, কোনটা ন্যায় এবং কোনটা অন্যায়, সেটা সমাজ নির্ধারণ করে। সমাজ যে সকল মানুষ অন্যায় করে, তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করে।
আরেকটা জিনিষ হল নারীদের প্রতি সম্মান। নারীরা যেহেতু মা হতে পারে, এবং পুরুষদের থেকে সাধারণত শারীরিক ভাবে দুর্বল, তাই সমাজ তদের কিছু বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। এটাই হল প্রিভিলেজ। এটা সমাজের সুবিধার্থেই। কারণ নারী আপনার মা, বোন অথবা সন্তান হতে পারে ।

