আমি কেন বিজ্ঞানে বিশ্বাস করি?

প্রায়ই মুমিনদের কাছ থেকে এই অভিযোগ পাওয়া যায় যে আপনিও তো অন্ধ ভাবে বিজ্ঞানে বিশ্বাস করেন। আসলে কি আমি বিজ্ঞানে অন্ধ বিশ্বাসী? আমি বিজ্ঞানে বিশ্বাস করি কিন্তু অন্ধ বিশ্বাসী নই। কারণ বিজ্ঞান আর ধর্মের অন্ধ বিশ্বাস এক না, কোন দিন এক হতে পারেনা।

এখন আমার মুমিন ভাইদের আপত্তি হচ্ছে আমি তো নিউটনের সূত্র গুলি নিজে যাচাই করে দেখিনি, তবে কেন বিশ্বাস করি?

খুবই ন্যায্য প্রশ্ন। আমি কেন নিউটন, আইনস্টাইন, ডকিন্স, হকিন্স, এদের বিশ্বাস করি কিন্তু ডঃ জাকির নাইক কে বিশ্বাস করি না?

এর কারণ জানতে হলে বুঝতে হবে বিজ্ঞান কিভাবে কাজ করে এবং বিজ্ঞানের পদ্ধতি। বিজ্ঞানের সূত্র গুলি আসে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে। তাদের তথ্য এবং তত্ত্ব গুলি আসে কঠিন পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে।

বিজ্ঞানীরা তাদের যে বিষয় দক্ষতা বা expertise অর্জন করে তা পরিশ্রমের মাধ্যমেই। এবং তাদের এই দক্ষতার কারণেই তাদের কথা গুলি বিশ্বাস যোগ্য।

বিজ্ঞানের যে কোন পরীক্ষার ফলাফল জার্নালে ছাপা হওয়ার পর তা ঈন্ডিপেন্ডেন্ট ভেরিফিকশন এবং পিয়ার রিভিউ হয়। কিন্তু কোন ধর্ম গ্রন্থের ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভেরিফিকেশন বা পিয়ার রিভিউ হয় না, হওয়া সম্ভব না ।

হুজুরদের জ্ঞানের উৎস হল কোরান, হাদিস আর ফেরেশতা। যেটা তারা চোখ বুজে বিশ্বাস করে। এখন সঙ্গত কারণেই আমি বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস করি। এটা কি অন্ধ বিশ্বাস না লজিকাল বিশ্বাস? দুটো বিশ্বাস কিভাবে এক করে দেখা যায়?

হুজুর রা যখন দাবি করে তাদের ধর্ম গ্রন্থ সত্য, তারা সেটা কিভাবে দাবি করে? কিসের ভিত্তিতে? প্রাচীন পুরাণ কাহিনী কপি পেস্ট করা কিতাবে একই কাহিনী বার বার পুনরাবৃত্তি করলেই কি সেটা সত্য প্রমাণিত হয়? আপনাদের ধর্ম গ্রন্থের দাবি কিভাবে পরীক্ষা করা যায়?

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল বিজ্ঞান কাজ করে। এটা পরিক্ষিত তাই আমি বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস করি। ধর্মের বিশ্বাস কোন সুফল বয়ে আনে না। এর প্রমাণ হচ্ছে যে সব দেশ ধর্ম হীন, যেমন চীন, জাপান, এবং ইউরোপিয়ান দেশ গুলি, তারাই আজকে সবচেয়ে এগিয়ে।

অনেক মুমিনের ধারনা বিজ্ঞানিরা বানিয়ে বানিয়ে এসব কল্প কাহিনী তৈরি করে, আসলেই হাস্যকর। বিজ্ঞানিদের বা মিডিয়ার কোন কন্সপিরেসি নেই। যারা কন্সপিরেসিতে বিশ্বাসি তারা আসলে মনে হয় একটু আতেল হতে চায়।

এর পর যদি কেউ কোন এম বিবি-এস ডাক্তারের ওষুধ না খেয়ে হুজুরের পানি পড়া খেতে চায়, তো আমার কিছু বলার নাই।

images

Leave a comment