আজকে একটি লজিকাল ফ্যালাসি নিয়ে আলোচনা করব যেটা হল Argumentum ad Hominem অথবা ব্যাক্তিগত আক্রমণ।
দুঃখের বিষয় হল, আমাদের দেশে অনেক শিক্ষিত মানুষেরো বেসিক কিছু লজিক বিষয় জ্ঞান কম আছে। যার কারনে তারা লজিকাল ফ্যালাসি (logical fallacy) বা কুযুক্তি গুলোতে অবতরণ করেন, এবং তর্কের সময় যুক্তি না দিয়ে ব্যাক্তিগত আক্রমন করে থাকেন।
এটা বাংলাদেশে অনেক কমন বিষয় যে একটা পোস্ট দিলে, পোস্টের বিষয় বস্তুর সত্যতার বিরুদ্ধে আর্গুমেন্ট না দিয়ে, বিষয়বস্তু থেকে সরে গিয়ে পোস্ট দাতার চরিত্র নিয়ে কথা শুরু হয়ে যায়।
আমাদের দেশে এটা অনেক চরম পর্যায় পৌঁছে গেছে। এখানে দেখা যায় অকথ্য ভাষায় গালা গালি। এতে এটাই প্রমাণিত হয় যে আমরা কতো অসভ্য।
ad Hominem অনেক প্রকার হতে পারে, যেমন কোন প্রস্তাবের সত্যতার বিপক্ষে যুক্তি না দিয়ে তার্কিক যদি বলে – “আমার আইডিয়া খারাপ কিন্তু তোমার টা তো আরো খারাপ” এখানে তুলনামুলক ভাবে আপনার আইডিয়াকে খারাপ বলে নিজে জয়ী হবার চেষ্টা।
আপনি যদি একটা বই পড়েন, তবে বই তে কি যুক্তি, প্রমান আছে সেটা দেখবেন। বই টা কে লিখেছে, তার চরিত্র কি, এসব জ্রুরি নয়। আপনি লেখকের পরিচয় জানতে পারেন যদি আপনি বইটির গ্রহন যোগ্যতা বা credibility নিয়ে চিন্তিত থাকেন।
একজন চরিত্রহীন নাস্তিক একটা যুক্তিসঙ্গত বই লিখতে পারেনা এমন ভাবার কোন কারন নেই।
কোন একটি প্রস্তাব সেই প্রস্তাবটির নিজের যোগ্যতায় অর্থাৎ merit এর উপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা উচিৎ। প্রস্তাব কারির চরিত্রের উপর ভিত্তি করে নয়।
এখন আপনি যদি মনে করেন, মিডিয়া, ইহুদি, নাসারা, বিজ্ঞানিরা, এরা সবাই মিথ্যাবাদী, হিন্দুরা মালু, নাস্তিক রা জারজ, তাহলে এটা চরম Argumentum ad Hominem বা ব্যাক্তিগত আক্রমণ হবে, এবং এটা একটা কুযুক্তি বা logical fallacy

