প্রশ্ন ২ ঃ আপনি কি আপনার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদাকে দেখেছেন?
ঊত্তরঃ এই প্রশ্নটা আপাত দৃষ্টিতে একটা সরল প্রশ্ন মনে হলেও, এই প্রশ্নটা মোটেও সরল নয়। আস্তিক রা বলতে চাচ্ছেন যে আপনি যদি আপনার দাদার দাদার দাদার ………দাদাকে না দেখে বিশ্বাস করতে পারেন তাহলে আল্লাহ কে কেন নয়?
এখন প্রথম কথা হচ্ছে আমার দাদার দাদার দাদার …..দাদা একজন ছিলেন সেটা বিশ্বাস করা কতখানি যুক্তি সঙ্গত? আর এই যুক্তিতে একজন সৃষ্টি কর্তার অস্তিত্বকে বিশ্বাস করা কতখানি যুক্তিসঙ্গত?
প্রথমে আসুন বিশ্বাস করার জন্য দেখা কতোখানি জরুরি? আস্তিক রা মনে করেন যে না দেখে আমরা কোন কিছু বিশ্বাস করতে পারিনা। আসলে কিন্তু আমরা না দেখে অনেক কিছুই বিশ্বাস করি। আপনি কি বাতাস দেখেছেন? আপনি কি অ্যাটম দেখেছেন? জীব কোষ দেখেছেন? হ্যা, না দেখেও এগুলি আমরা বিশ্বাস করি কারন এগুলো বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারন আছে। যেমন আপ্নার মোবাইল ফোন যে একটি সিগ্নালের মাধ্যবে কাজ করছে তা দেখা যায়না কিন্তু আপনার ফোন সেটাকে ঠিকই সনাক্ত করতে পারে। যে জিনিষের অস্তিত্ব আছে, তাকে প্রমান করতে হলে কোন না কোন ভাবে তাঁর সন্ধান করার উপায় থাকতে হবে, যদি তাঁর সন্ধান না পাওয়া যায় তবে তাঁর থাকা আর না থাকা একই কথা।
প্রশ্নকর্তা এখানে কি বুঝাতে চাচ্ছেন। আপনি যেহেতু আপনার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদার দাদাকে না দেখে বিশ্বাস করেন, তাই ঈশ্বর না দেখে বিশ্বাস করতে সমস্যা কি তাই না? সমস্যা আছে, সমস্যা গুলি আমি বলছি। এই যুক্তিতে আপনি পৃথিবীর সব অসম্ভব দাবিকেই বিশ্বাস করতে পারেন। শুধু আল্লাহ কেন, রুপকথার সব চরিত্র কেই বিশ্বাস করতে পারেন, রাম, লক্ষণ, হনুমান, সব।
এবার আসুন আপনি কোন কিছু কেন বিশ্বাস করেন। আপনি তো যে কোন কিছুর উপর ঈমান এনে বিশ্বাস করতে পারেন। আপনি যেমন ঈমানের উপর ভিত্তি করে আল্লাহ মানেন, হিন্দুরা ভগবান মানে আর খ্রিষ্টান রা গড। কিন্তু তাদের জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই প্রস্ন জাগে ঈমানের উপর বিশ্বাস কতখানি যুক্তিসঙ্গত?
বিশ্বাস কেউ জোর করে আনতে পারেনা, বিশ্বাস আসে যুক্তি থেকে, বিশ্বাসযোগ্যতা আর দাবির ধরন দেখে। কেউ যদি দাবি করে যে সকালে আলু ভাজি আর পরটা দিয়ে নাস্তা করেছে, তাঁর জন্য কোন প্রমান আমি চাইবো না। এধরনের ঘটনা ঘটাটাই স্বাভাবিক আর এর সত্য মিথ্যার উপর আমার জিবনের কিছুই নির্ভর করেনা। যেমন আপনি আপনার শিক্ষকে বিশ্বাস করেন কারন তাঁর যোগ্যতা আছে, আপনার কাজের লোক কে বিশ্বাস করেন তাঁর পূর্ব কাজের ইতিহাস দেখে, আর হয়তো কাউকে এমনিই বিশ্বাস করেন, কারন আমরা সহজেই অন্য কে বিশ্বাস করি। পুলিশ ছাড়া কেউই অযথা মানুষকে সন্দেহ করেনা।
কিন্তু কেউ যদি দাবি করে যে গুহার মধ্যে একটা ডানা ওয়ালা ফেরেস্তা এসে তাকে ঐশ্বরিক বানী শুনিয়ে গেছে, তবে সেটা বিশ্বাস করার জন্যে অবশ্যই কঠিন প্রমাণ প্রয়োজন কারন দাবি যতটাই অযৌক্তিক আর অসম্ভাব্য হবে, তাঁর পিছনে প্রমাণটাও ততটাই অসাধারণ হতে হবে। যেমন ইসা নবী (জিশুখ্রিস্ট) একজন বাবা ছাড়া জন্মে ছিলেন, সে পানির উপর হাঁটতেন মরার পর জীবিত হয়েছিলেন – এগুল আমি নিজের চোখে দেখলেও বিশ্বাস করবো না কারন মানুষের চোখ অতি সহজেই ধোঁকা খেয়ে যায়।
আপনি নিশ্চই কোন এক বিজ্ঞানির সাইন্স জারনালে লেখা আর ফেইসবুকে লেখা কোন হুজুরের কল্প কাহিনী সমান ভাবে দেখবেন না। সাইন্স কখনো একজন বিজ্ঞানির ধারনা বা মতামতের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়না। এখানে প্রতিটি বিজ্ঞানির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।
এখন আসুন আমার দাদার দাদার দাদার …..দাদা একজন ছিলেন সেটা বিশ্বাস করা কতখানি যুক্তি সঙ্গত? যুক্তিতে ধরলে, আমরা দেখেছি যে মানুষ বংশবিস্তার করে এবং একের পর এক প্রজন্ম আসে, সুতরাং আমার অনেক আগে এক দাদা ছিল সেটা বিশ্বাস করাটাই স্বাভাবিক। আমার দাদার দাদার দাদার …..দাদা একজন ছিলেন সেটার প্রমান আমি নিজে। আমি আমার বাবা ছাড়া আসিনি, আমার বাবা তাঁর বাবা ছাড়া আসেনি এবং এভাবে আমার দাদার দাদার …দাদা ছাড়া আমাদের আসা সম্ভব নয় । আবার আরেক ভাবে দেখলে, আমি আমার দাদাকে দেখেছি, সে তাঁর দাদাকে দেখেছে, সে তাঁর দাদাকে, ……ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই উনি যে ছিলেন সেটা বিশ্বাস করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি কিভাবে সিউর যে কোন ঈশ্বর না থাকলে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হত না ?






Leave a Reply