About

সত্যের সন্ধানী

– আমি একজন নাস্তিক ব্লগার । আমার লেখার পিছনে উদ্দেশ্য ধর্মের গোঁড়ামি আর মূর্খতার মুখোশ উন্মোচন করা আর ধর্মান্ধতা প্রতিহত করা। এ থেকে যদি আমরা সবাই আরও একটু বেশি সভ্য আর শিক্ষিত হয়ে উঠতে পারি, তাহলে আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস সার্থক হবে বলে আমি মনে করি ।

নাস্তিক্যবাদ সম্পর্কে অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। এই বিষয় নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই। অনেকেই প্রশ্ন করেন নাস্তিক্যবাদ কি অথবা নাস্তিক মানে কি। নাস্তিকরা কি দাবী করে যে ঈশ্বর নেই? এটা কি কোন ধর্ম?

অনেকেরই নাস্তিক্যবাদ নিয়ে কিছু কিছু ভুল ধারনা আছে, যেমন যদি কেউ ধারনা করে নাস্তিক মানে মহা পণ্ডিত, অথবা ভাবতে পারেন নাস্তিক মানে কিছু ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী, সম্প্রদায়, বা জাতি যারা কোন আইনের শাসন মানে না। যারা যা খুশি তাই করতে পারে।

প্রথমত, নাস্তিক্যবাদ কিন্তু দাবী করেনা যে ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা নেই।

নাস্তিক্যবাদ হচ্ছে প্রচলিত সৃষ্টিকর্তার দাবী কে প্রত্যাখ্যান করা মাত্র । এর সাথে জ্ঞান বিজ্ঞান, মানবিকতা, বা সমাজ ব্যাবস্থার কোন সম্পর্ক নেই। নাস্তিক্যবাদ কোন ধর্ম নয়, কোন দল, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা জাতি নয়।

আসলে নাস্তিকতা হল শুধু ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তায় অবিশ্বাস মাত্র। এর সাথে আর অন্য কোন কিছুর কোন সম্পর্ক নাই। কিন্তু নাস্তিকরা ধর্ম এবং ধার্মিক দের সমালোচনা করে। প্রচলিত ক্ষতিকর প্রথার বিরোধিতা করে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আরও পরে বলছি।

অজ্ঞেয়বাদীর সাথে নাস্তিকের পার্থক্য হল অজ্ঞেয়বাদ জ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত। অজ্ঞেয়বাদের মূল কথা হল সৃষ্টিকর্তা আছে কি নাই সেটা তারা জানেনা। নাস্তিকতার সম্পর্ক জ্ঞানের সাথে নয়, বিশ্বাসের সাথে, আর বিশ্বাসের জন্য জ্ঞানের প্রয়োজন নাই, আছে যুক্তিসঙ্গত কারণ। কেউ যদি মনে করে আমার কোন ঈশ্বর বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ নাই, তাহলেই সে একজন নাস্তিক।

নাস্তিক্যবাদ (ইংরেজি ভাষায়: Atheism; অন্যান্য নাম: নিরীশ্বরবাদ, নাস্তিকতাবাদ) একটি দর্শনের নাম যাতে ঈশ্বর বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয়না এবং সম্পূর্ণ ভৌত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেয়া হয়। আস্তিক্যবাদ এর বর্জনকেই নাস্তিক্যবাদ বলা যায়। নাস্তিক্যবাদ বিশ্বাস নয় বরং অবিশ্বাস এবং যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বাসকে খণ্ডন নয় বরং বিশ্বাসের অনুপস্থিতিই এখানে মুখ্য।

ইংরেজি ‘এথিজম’ (Atheism) শব্দের অর্থ হল নাস্তিক্য বা নিরীশ্বরবাদ। এথিজম শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে গ্রিক ‘এথোস’ (ἄθεος) শব্দটি থেকে, যার অর্থ অধার্মিক

এই শব্দটি সেই সকল মানুষকে নির্দেশ করে যারা কোন ধর্ম মানেনা এবং ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই বলে বিশ্বাস করে। তারা প্রচলিত ধর্মগুলোর প্রতি অন্ধবিশ্বাস কে যুক্তি দ্বারা ভ্রান্ত বলে প্রমাণ করে।

দিন দিন মুক্ত চিন্তা, সংশয়বাদী চিন্তাধারা এবং ধর্মসমূহের সমালোচনা বৃদ্ধির সাথে সাথে নাস্তিক্যবাদেরও প্রসার ঘটছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে সর্বপ্রথম কিছু মানুষ নিজেদের নাস্তিক বলে স্বীকৃতি দেয়।

বর্তমান বিশ্বের জনসংখ্যার 7% মানুষ নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেয় এবং 16% মানুষ কোন ধর্মেই বিশ্বাস করে না। জাপানের 64% মানুষ  নাস্তিক অথবা ধর্মে অবিশ্বাসী। রাশিয়াতে এই সংখ্যা প্রায় 48% এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ 18% (ইতালি) থেকে শুরু করে 54% (সুইডেন) পর্যন্ত।
(https://en.wikipedia.org/wiki/Irreligion)

পশ্চিমের দেশগুলোতে নাস্তিকদের সাধারণ ভাবে ধর্মহীন বা পারলৌকিক বিষয় সমূহে অবিশ্বাসী হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মের মত যেসব ধর্মে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে হয় না, সেসব ধর্মাবলম্বীদেরকেও নাস্তিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিছু নাস্তিক ব্যক্তিগত ভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা, হিন্দু ধর্মের দর্শন, যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ এবং প্রকৃতিবাদে বিশ্বাস করে। নাস্তিকরা কোন বিশেষ মতাদর্শের অনুসারী নয় এবং তারা সকলে বিশেষ কোন আচার অনুষ্ঠানও পালন করে না। অর্থাৎ ব্যক্তিগত ভাবে যে কেউ, যে কোন মতাদর্শে সমর্থক হতে পারে,নাস্তিকদের মিল শুধুমাত্র এক জায়গাতেই, আর তা হল ঈশ্বরের অস্তিত্ব কে অবিশ্বাস করা।

YouTube