এতদিন ধৈর্য ধরছিলাম, কিন্তু পহেলা বৈশাখ আসলেই দেখি দেশের সর্বনাশের মৌসুম শুরু হইয়া যায়!
নাচ, গান, ঢোল-তবলা, মাথায় পাখার মতো ফুল, আর মূর্তি… হ্যাঁ, মূর্তি পূজা! নাউজুবিল্লাহ মিন জালিখখ।
আমি বলে দিচ্ছি—
যারা মূর্তি পূজা করতে চায়, মন্দিরে গিয়ে করুক…
বৈশাখ এর নাম দিয়ে এসব সহ্য করবো না। ৯৭ ফারসেন্ট মুসলমানের দেশে কোন দিন ও না। আমি আবার সাচ্চা মুমিন মুসলমান!
অতঃপর, আমরা কিছু মুমিন একজোট হয়ে প্রতিবাদে নামলাম। “পহেলা বৈশাখ মানি না” এই নিরীহ স্লোগান দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করতেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আসল, আমাদেরকে গাঁজা খাওয়ার সময় ধরে ফেললো!
আরেকদিকে, যারা গাঁজা লং মার্চ করতে গিয়া দুয়েকটা দোকান ভাঙলো, তারা কি খুব খারাপ করলো? ঈমানদার মুমিন মানুষদের গাঁজার মধ্যে একটা আত্মিক সম্পর্ক আছে, ঐটা কেউ বোঝে না।
ওই যে দোকানগুলা ভাঙল—সবই তো নাস্তিক-মুরতাদদের দোকান ।
ভাঙা দোকানগুলা তো সেইগুলা, যারা রোজার মাসে শিঙাড়া বিক্রি করত!
ঐ দোকানে ধর্মীয় অনুভূতিতে পেঁয়াজের পুর দিয়ে আঘাত করা হইছিলো!
আমার প্রশ্ন হইলো —বাক-স্বাধীনতা কই?
আমরা যদি “পহেলা বৈশাখ মানি না” স্লোগান দেই, তাতেই যদি পুলিশ ধরে, তাইলে কি আর গাঁজা খাইয়া প্রতিবাদ করা যাবে? এই দেশে গাঁজা লিগ্যাল না, বাক-স্বাধীনতা অ্যালিগ্যাল, ধর্মীয় অনুভূতি সেন্সিটিভ, আর পুলিশ অত্যন্ত ইনিশিয়েটিভ! —এই দেশে কি শুধু মঙ্গল শোভাযাত্রার স্বাধীনতাই আছে? গাঁজা শোভাযাত্রা চলবে না?
“মঙ্গল হোক” বললেই ভালো মানুষ, আর “গাঁজা হোক” বললেই জেল?”
মঙ্গল শোভাযাত্রা আবার কি? বাংলাদেশে চলবে শুধু গাঁজার সোভাযাত্রা!
যেখানে সবাই শান্তিতে থাকবো, ধোঁয়ার মধ্যে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবো।
তাই আমি ঘোষণা দিচ্ছি—
আগামী পহেলা বৈশাখ, আমরা পালন করবো “গাঁজা বৈশাখ”।
সেখানে থাকবে ধোঁয়ার শোভাযাত্রা, লাল-সবুজ নয়, থাকবে ধূসর পতাকা।
আর থাকবে “গাঁজাই আমাদের সংস্কৃতি” এই ব্যানার!
আমরা আর বৈশাখ মানি না, কারণ বৈশাখ এখন হইছে গানের নাম, আর গাঁজা হইছে প্রাণের দাম।
আরেকটা বিষয়, মানুষ ৩০ ফাস্ট পালন করে মদ খাইয়া আর গাঁজা লং মার্চে গাঁজা খাইলেই যত চুলকানি।