আমি অনেক দেশ ঘুরে দেখেছি। তার মধ্যে কিছু দেশ আমাদের আসে পাশেই আছে যা আপনাকে খুব বেশি দূর যেতে হবেনা। আমাদের দেশের ভিতরেই অনেক দেখার মতো যায়গা আছে।
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ, যেমন ভারত এবং নেপালে ও অনেক সুন্দর দেখার মতো স্থান আছে আবার অনেক দূরের দেশে আমি গিয়েছি যে সব দেশে যেতে হলে মহাসাগর পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু নতুন নতুন যায়গায় যাওয়ার এবং নতুন অভিজ্ঞতা, অনুভুতি, এসব বলে বুঝানো যায় না।
এক একটি স্থানে রয়েছে তাদের কালচার, আর্কিটেকচার, ইতিহাস ইত্যাদি জড়িত । বেড়াতে গেলে নতুন স্থানের সংস্কৃতি, খাবার, ও মানুষের সাথে পরিচিত করার সুযোগ দেয়।
ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত মুখ্য বিষয় হল নতুন স্থানে পৌঁছার অভিজ্ঞতা। ধর্মশালা এমন একটি জায়গা যেখানে আমরা নতুন সংস্কৃতি, আদর্শ, এবং বিশেষ আত্মস্থা অনুভব করতে পারি। এই লেখা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের ধরমশালা বা ধর্ম ভিত্তিক স্থাপত্য নিয়ে। কারন ধর্ম সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপর বিস্তর প্রভাব বিস্তার করেছে।এটা আমার প্রথম ভ্রমন ব্লগ। এই স্থান গুলির কিছু স্থানে আমি গিয়েছি। সব গুলিতে আমার যাওয়ার ইচ্ছা আছে তবে আমি অন্য কারো অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি। আমার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা বিষয়ে প্রথম একটি ভ্রমণ ব্লগ লেখা হল:
১. অক্ষর ধাম, ভারত, দিল্লী

অক্ষর ধাম হলো ভারতের একটি অবস্থান, যা দিল্লি শহরের নিকটে অবস্থিত। এই ধামটি হিমাচল প্রদেশের নজিকে অবস্থিত একটি পবিত্র স্থান। এই স্থানে অবস্থিত মন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অবকাশ, যেখানে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন ধর্মীয় প্রতীকগুলি এবং স্মৃতির স্থল। এখানে আপনি ধার্মিক অভিজ্ঞতা এবং শান্তির মহাসাগরে প্রবেশ করতে পারেন। অক্ষর ধামে আপনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ধার্মিক মাহৌলে আত্মা খুঁজে পাবেন। প্রতিবছর অক্ষর ধামে অনেক ধর্মীয় উৎসব ও পূজা অনুষ্ঠিত হয় যা ভক্তদের আকর্ষিত করে এবং দর্শনীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এখানে অভিজাত সান্দর্ভিক মন্দিরটি ভক্তদের আত্মা নিরীক্ষণে অনুমোদন দেয়।
২. কোটেশ্বর মন্দির – নেপাল, ভক্তপুর

কোটেশ্বর মন্দির নেপালের ভক্তপুর জেলায় অবস্থিত একটি অত্যন্ত প্রমুখ ধর্মীয় অবকাশ। এই মন্দিরটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নেপালের এই প্রাচীন স্থানটি বিশ্বব্যাপী বৌদ্ধ শ্রদ্ধালুদের আকর্ষণ করে এবং বৌদ্ধধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই মন্দিরটি বৌদ্ধ ধর্মের একটি অত্যন্ত প্রাচীন ও পবিত্র স্থান।
কোটেশ্বর মন্দিরের অবকাশে আসার মাধ্যমে ভক্তরা বৌদ্ধ ধর্মের মূল বিশ্বাস ও আচরণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। এই মন্দিরে অবস্থিত বিশাল বেলা ও মন্দিরের ভবনের সান্দর্ভিক সুন্দরতা ভক্তদের অভিজ্ঞতা এবং ধ্যানে প্রবৃত্তি উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়াও, এখানে প্রতিবছর অনেক ধর্মীয় উৎসব ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যা ভক্তদের উত্সাহিত করে এবং বৌদ্ধ ধর্মের মহান উপাসনার অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
৩. কোণার্ক সূর্য মন্দির

কোণার্ক সূর্য মন্দির ভারতের অদ্ভুত একটি ঐতিহাসিক মন্দির, যা ওডিশার কোণার্ক নামক স্থানে অবস্থিত। এই মন্দিরটি হিন্দু ধর্মের অসাধারণ শিল্পকলা এবং স্থাপত্যশৈলীর উদাহরণ।
কোণার্ক সূর্য মন্দির উদ্ভাবিত হয়েছিল ১৩শ শতাব্দীতে, যখন কঙ্ক রাজার অধীনে এই মন্দিরটি নির্মিত হয়। এটি সূর্য দেবতার পূজার্চনার জন্য নির্মিত হয়েছিল। মন্দিরের গঠন এবং নকশা অত্যন্ত সুদৃশ্য এবং আকর্ষণীয়, এবং এটি প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যশৈলীর উদাহরণ। মন্দিরের মূল ধাতুমুখী পিন্জরগুলির উপর আলঙ্কারিক শিল্পকলা চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং এই শিল্পকলা একটি মহাকাব্য হিসাবে বিশ্বের সাহিত্যে পরিচিত হয়েছে।
কোণার্ক সূর্য মন্দির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্থান হিসাবে পরিচিত, এবং প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে আগত হয়। এই মন্দিরটির উপস্থিতি একটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ধর্মতলে, এবং এটি ভক্তদের জন্য একটি অত্যন্ত মৌলিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
৪. আংকর ওয়াট, কম্বোডিয়া

কম্বোডিয়ায় অবস্থিত প্রামাণ মন্দির একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির যেখানে রাজত্বের সময়ে ধর্মীয় উৎসব ও পূজা অনুষ্ঠিত হতো। এই মন্দিরের সুন্দর স্থাপত্য ও প্রাচীন প্রতিমাগুলি ভ্রমণকারীদের অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা দেয়।
৫. গোলগুম্বজ মসজিদ, ভারত, দিল্লি

দিল্লি, ভারতের একটি ঐতিহাসিক শহর, যেখানে অবস্থিত গোলগুম্বজ মসজিদ একটি বিশেষ ধর্মশালা। এই স্থাপনাটি মুঘল সেনার রাজধানী আগরা থেকে নির্মিত হয়েছিল। এর সুন্দর স্থাপত্য এবং ধার্মিক মহত্ত্ব অবাক করে।
৬. মসজিদ-আল-হেরাম, সৌদি আরব, মক্কা

মক্কা, সৌদি আরবের একটি প্রতিষ্ঠানটি যেখানে পৌঁছার আলোকসংযুক্ত হওয়া আবশ্যক একটি ধর্মশালা এবং সাংস্কৃতিক সম্মানবলতা। এখানে অদ্ভুত শান্তি
৭. ষাট গম্বুজ মসজিদ: বাগেরহাট

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ধর্মশালা গুলির মধ্যে ষাট গম্বুজ মসজিদ একটি অনন্য অবদান রয়েছে। বাগেরহাটে অবস্থিত এই মসজিদটি মুঘল আমলের মসজিদ হিসেবে পরিচিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মূল্যের সাথে পরিপূর্ণ।
স্থান ও অবস্থান: ষাট গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাট জেলার কাহালুয়া উপজেলায় অবস্থিত। এই মসজিদটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম মুঘল মসজিদ গুলির মধ্যে অন্যতম। এটি অবস্থিত বাগেরহাট জেলা সদরের পশ্চিমে এবং নূরপুর জমিদার বাড়ির নিচে।
স্থাপত্য শৈলী: ষাট গম্বুজ মসজিদের উচ্চতা ও গম্বুজের সংখ্যা এর কারণে এটি একটি অনুপম স্থাপত্য কৌশলের প্রতীক। এই মসজিদে ষাটটি গম্বুজের ভারসাম্যিক উপাস্থাপনা রয়েছে, যা এটিকে একটি অদ্ভুত মূল্যবান স্থাপত্য মডেল হিসাবে প্রকাশ করে।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ষাট গম্বুজ মসজিদের নির্মাণ কার্য আগে প্রারম্ভ হয় ১৫শ শতাব্দীতে, যখন মুঘল সাম্রাজ্যের শাসক গীয়াসউদ্দীন আজম এই কাজটি শুরু করেন। তার পরে, মুঘল সাম্রাজ্যের অন্যান্য শাসকরা এই মসজিদে যুদ্ধাপরাধীদের জন্য মাদক খাদ্য সরবরাহ করতেন।
৮. তাজমহল, দিল্লি, আগ্রা

তাজমহল: সুন্দরতার অমৃত নগরীঃ ভারতের ঐতিহাসিক শহর আগ্রার হৃদয়ে অবস্থিত তাজমহল একটি অদ্বিতীয় স্মৃতিস্থল। এই অবিস্মরণীয় স্থাপনা একটি প্রেমের চিহ্ন হিসাবে পরিচিত, এবং বিশ্বের সেরা স্থাপত্য কৌশলের একটি উদাহরণ।
স্থান ও অবস্থান: তাজমহল প্রাচীন শহর আগ্রার হৃদয়ে অবস্থিত, যা উত্তর ভারতের রাজধানী নিউ দিল্লির নিকটে অবস্থিত। সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রীর স্মরণে তৈরি করেন “তাজমহল”, যা অসাধারণ সৌন্দর্য্যের অধিকারী ।
স্থাপত্য শৈলী: তাজমহলের স্থাপত্য শৈলী একটি অপূর্ব মিশ্রণ । বিশ্বের চমকপ্রদ স্থাপত্য বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটির অবদান রয়েছে । এখানে ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। এটি পরিপূর্ণ মার্বেল ও অন্যান্য পাথর থেকে তৈরি করা, এবং এর সুন্দরতা এবং সুস্থিতির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব: তাজমহলের নির্মাণ কার্য ১৬৩১ সালে আরম্ভ হয়, এবং এটি মুগল সাম্রাজ্যের শাসক শাহজাহানের প্রেমের প্রতীক হিসাবে পরিচিত। তাজমহল একটি স্বতন্ত্র মহিলার মাজার হিসাবে গণ্য, এবং তার সাথে যুদ্ধের সময় মুসলিম প্রেমিক আরজুমান বানো হিসাবে পরিচিত।
তাজমহলে ঘুরে আসা অভিজ্ঞতার পর, আপনার হৃদয়ে পুরনো ভালোবাসা ফিরে আসতে পারে।
৯. খ্রীষ্ট দ্য রিডিমার (প্রতিমা): বিশ্বের একটি আশ্চর্য ধর্মশালা

