১-*হিজড়াদের সম্পর্কে তো সবাই জানেন। কোরানের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কারও ছেলে সন্তান পাবে মেয়ে সন্তানের দ্বিগুন সম্পত্তি। তো কোরান অনুযায়ী হিজড়া সন্তানের মাঝে কিভাবে সম্পত্তি বন্টন করে দিবেন? তাদের কতগুন দিবেন? আবার, কোরান অনুযায়ী একজন পুরুষ স্বাক্ষী সমান দুজন নারী স্বাক্ষী। হিজড়াদের স্বাক্ষ্য কিভাবে মুল্যায়ন করবেন?
*আপনি দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, রমজানে রোজা রাখেন। কিন্তু পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে একটানা ছয়মাস দিন ও ছয়মাস পর্যন্ত রাত হয়। সেখানে কোন নিয়মে নামাজ রোজা করবেন?
এরকম অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয় কোরানে নেই।
পক্ষান্তরে অনেক অনেক অপ্রয়োজনীয়/তুচ্ছ/অমানবিক আয়াতে ভরপুর পুরো কোরান। যেমনঃ কোরান জুড়ে ৩০০ টি আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহকে ভয় করতে, ৫০০ টি আয়াতে দোজখের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, ৪০০ টি আয়াতে ইহুদি কাফেরদের ঘৃণা করতে বলা হয়েছে, ১৬৪ টি আয়াতে ইসলামী জিহাদের ডাক দেয়া হয়েছে!
কোরান নবি মুহাম্মদ ও তার কতক হেল্পার সাহাবী কর্তৃক লিখিত বলেই কুরানে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নবি মুহাম্মদ ও আরবের সমসাময়িক লোকজন যা জানতো না, মুহাম্মদের আল্লাহও তা জানতো না। কুরানে অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখিত হয়নি, অথচ তুলনামুলক কম গুরুত্বপূর্ণ বা তুচ্ছ বিষয় আলোচিত হয়েছে বেশী; অনেক বিষয় একাধিক আয়াতে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। কুরানের অধিকাংশটাই ব্যয় করা হয়েছে নবীর ব্যক্তিগত জীবন, যুদ্ধবিগ্রহ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কিচ্ছা কাহিনী আলোচনা করে। নবীর জীবদ্দশার সময়কাল ও আরব অঞ্চলটাই প্রাধান্য পেয়েছে; তাই কোরান সর্বকালের জন্যে নয়, সকল মানবজাতির জন্যে নয়। নবি মুহাম্মদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা যতটুকু জানতো, কোরানে ততটুকুই রয়েছে। তো চলুন কিছু উদাহরন দেখে আসি।
২-
Global Warming বা বিশ্ব উষ্ণায়ন বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিন দিন বাড়ছেই; ইতোমধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে ঢাকা, কলকাতা, মালে, সিডনি, লন্ডন, নিউইয়র্কসহ বিশ্বের বড় বড় সব শহর। একসময় হয়ত মানুষের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পরবে। কিন্তু, মজার ব্যাপার হলো কোরানে বিশ্ব উষ্ণায়নের মতো একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে কিছুই বলা নেই।
বিশ্ব উষ্ণায়নের কথা না থাকলেও দোজখের উষ্ণতার কথা উল্লেখ করতে ভুল হয়নি।
কোরানে মেরু অঞ্চলের কোন উল্লেখ নেই! কানাডা, নরওয়ে, রাশিয়ার বেশ কিছু শহরে একটানা কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হয় দিন রাত। ওসব অঞ্চলে নামাজ রোযার নিয়ম কি? সময় আন্দাজ করে নিতে হবে, তাই তো? কিন্তু এটা তো মানুষের সমাধান, কোরানে এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ নেই কেন?
কারন নবি জানতো না যে পৃথিবীতে এমন স্থানও থাকতে পারে যেখানে একটি দিন ছয় মাস পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে! আরব অঞ্চলে থেকে এমন কথা চিন্তাও করা যায় না। মুহাম্মদ মেরু অঞ্চলের বিষয়টা জানলে নিশ্চয়ই ওহী লেখকদের বলতেন, “ইন্টারেস্টিং বিষয়! এটাও লিখে ফেল”
কোরানে মেরু অঞ্চলের মত গুরুত্বপুর্ন বিষয় উল্লেখ না থাকলেও আরবের মরুভুমির কথা উল্লেখ আছে বহু আয়াতে।
কুরান লিখিত হয়েছে আরবি ভাষায়। পৃথিবীর মাত্র ৪ শতাংশ মানুষের ভাষা আরবি। বাকি ৯৬ শতাংশ মানুষ আরবি বুঝে না; সুতরাং এই ৯৬ শতাংশ মানুষ কুরান থেকে সরাসরি উপদেশ নিতে পারছে না। নির্ভর করতে হচ্ছে অনুবাদের উপর।
কুরান আন্তর্জাতিক ভাষা ইংলিশে লিখিত হলে তা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী সংখ্যক মানুষের বোধগম্য হতো। কিংবা, আল্লাহ আরবিকেই আন্তর্জাতিক অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে দিতে পারতো।
কুরান কোন সবজান্তা সৃষ্টিকর্তার বাণী নয়। মুহাম্মদ ও তার সাঙ্গপাঙ্গ কর্তৃক নিজেদের মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষায় কুরান লিখা অসম্ভব ছিল। তাছাড়া, মুহাম্মদ তখন জানতোই না যে, ভবিষ্যতে কোন একটি ভাষা আন্তর্জাতিক অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। কুরান কোন সবজান্তা ঈশ্বর থেকে প্রেরিত হলে তিনি কুরানকে আন্তর্জাতিক ভাষা অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি মানুষের বোধগম্য ভাষায় লিখিত করার ব্যবস্থা করতেন।
৩-
পৃথিবী ও জীবজগতের ইতিহাসে ডায়নোসর একটি গুরুত্বপুর্ন অধ্যায়। এখন যেমন মানুষ পুরো পৃথিবীতে রাজত্ব করছে, তেমনি একসময় ডায়নোসররা পৃথিবীজুড়ে রাজত্ব করতো। অথচ কুরানে ডায়নোসর সম্পর্কে কিছুই বলা নেই।
জীবাশ্ম পরীক্ষা করে অতীতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কোন প্রাণীর সম্পর্কে ধারনা লাভ করা সম্ভব ছিল না মুহাম্মদের পক্ষে। তাই, ডায়নোসর সম্পর্কে কোরানে উল্লেখ থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক।
কোরানে একটি আয়াতেও ডায়নোসরের কথা বলা হয়নি, কিন্তু উটের কথা বলা হয়েছে ১৯ টি আয়াতে! সুবহানাল্লাহ!
হিজড়াদের (Transgender) সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ নেই কোরান নামক পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানে! উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে কারও ছেলে সন্তান পাবে মেয়ে সন্তানের দ্বিগুন! আবার, কোন ঘটনার সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে পুরুষ হলে একজন আর নারী হলে দুজন সাক্ষী লাগবে। তো, এসব ক্ষেত্রে হিজড়াদের কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে? সম্পত্তির কতটুকু পাবে একটা হিজড়া সন্তান? কয়টা হিজড়া সাক্ষ্য দিলে তা সহিহ হবে?
আল্লাহ পৃথিবীতে প্রায় লক্ষাধিক নবী রাসুল প্রেরন করেছেন। কোরানে ২৫ জন নবী রাসুলের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে, তারা সবাই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের। যদিও আল্লাহ কোরানে বলেছেন যে তিনি সকল জাতির জন্যেই নবী পাঠিয়েছেন, কিন্তু এটি একটি দায়সারা বাণী। কোরানে উল্লেখিত সব নবী রাসুলই কেন মধ্যপ্রাচ্যের হবে? আল্লাহ কেন পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের একটি নবীর নামও উল্লেখ করলেন না? আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, চীন, জাপান ও ভারতীয় অঞ্চল এর কুখ্যাত সব কাফের ইহুদি নাসারাদের মানুষ করার জন্যে কি কোন নবীর দরকার ছিল না?
আমাদের মহাবিশ্ব ঠিক কতটা বড়, সে সম্পর্কে কি কোন ধারনা আছে? পৃথিবী নামক গ্রহটা কতখানি বড় তা আমরা কিছুটা হলেও ধারনা রাখি। এই পৃথিবী থেকে ১৩ লক্ষ গুন বড় সুর্য। সুর্য ও তাকে কেন্দ্র করে ঘুর্নয়মান কমপক্ষে ৮ টি গ্রহ নিয়ে আমাদের সৌরজগৎ। এমন প্রায় ৪০০ বিলিয়ন সৌরজগৎ নিয়ে আমাদের গ্যালাক্সি গঠিত যার নাম মিল্কি ওয়ে। আলোর গতিতে ছুটলেও ১ লক্ষ বছর লেগে যাবে মিল্কি ওয়ে নামক গ্যালাক্সির প্রান্তে পৌছতে! আর, এরকম বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি নিয়ে আমাদের এই ইউনিভার্স গঠিত! আরও সামনে আগাতে থাকলে ত পুরা থ হয়ে যাবেন। এমন ইউনিভার্স আছে বিলিয়ন বিলিয়ন যা সামগ্রিকভাবে মাল্টিভার্স নামে পরিচিত! যাহোক, বিশাল সমুদ্রের মধ্যে একফোটা পানি কিংবা তার চেয়ে ছোট আমাদের পৃথিবী!
এবার মুল কথায় আসি। কোরানে এই বিশাল মহাবিশ্ব সম্পর্কে কোন স্পষ্ট ধারনা দেয়া নেই কেনো? বিশাল সমুদ্রের সৃষ্টিকর্তা একফোটা পানির মধ্যেই তার আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখলেন! বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহ নক্ষত্রের কথা কিছুই বললেন না, বললেন শুধু পৃথিবী, চন্দ্র আর সুর্যের কথা! তাও পৃথিবীর পুরো অংশ নয়, প্রাধান্য পেয়েছে আরব অঞ্চলটাই। আমাদের দিলের নবী যতটুকু জানতেন, আল্লাহও কি ঠিক ততটুকুই জানেন? এর বেশি নয় কেন?
৪-
সর্বকালের সকল মানব জাতির জন্যে রচিত গ্রন্থ কোরানে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি বৃহৎ ধর্ম সম্পর্কে কোন কিছু বলা হয়নি। যেমনঃ হিন্দু ধর্ম, চৈনিক ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম ইত্যাদি সম্পর্কে কোরানের একটা আয়াতেও উল্লেখ নেই। অপরপক্ষে, আরবের এক বিলুপ্ত ধর্ম সাবিয়ান সম্পর্কে বলা হয়েছে ৩ টি আয়াতে। কেন এমনটি হলো? কারন একটাই, নবীজির সময়ে আরবে যেসকল ধর্ম বিদ্যমান ছিল সেগুলোই কোরানে উল্লেখ করেছেন। পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ কে কি ধর্ম পালন করছে, তা নবী মুহাম্মদের জানা ছিল না। জানলে নির্দিষ্টভাবে ধর্মের নাম উল্লেখ করে হিন্দু বৌদ্ধদেরও জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে রাখতেন।
কোরানে যতগুলো জাতিগোষ্ঠী/সম্প্রদায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে তার সবগুলোই আরব অঞ্চলের। পৃথিবীর অন্য সব জাতি সম্পর্কে কি আল্লাহ অবগত ছিলেন না? তাছাড়া, বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলো সম্পর্কে কিছু বলা নেই কেন? কোরানে কেন বলা হলো না যে ব্রিটিশরা পুরো পৃথিবী শাসন করবে? কেন বলা নেই যে যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীজুড়ে মাতাব্বরি করবে? তাহলে কি ভেবে নিবো যে কোরান ১৪০০ বছর আগের জন্যেই, বর্তমানের জন্যে নয়?
কোরানে কেনো নেই বিশ্বযুদ্ধের কথা? এটা কি মানবজাতির জন্যে কোন গুরুত্বপুর্ন ঘটনা নয়? বিশ্বযুদ্ধের কথা উল্লেখ না থাকলেও বদরের যুদ্ধ, কদরের যুদ্ধ… খন্দকের যুদ্ধ, গন্ধকের যুদ্ধের কথা তো ঠিকই আছে। কেনো? ঐ যুদ্ধগুলো নবী মুহাম্মদের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বলে? আর, বিশ্বযুদ্ধগুলো ভবিষ্যতে হবে, তাই আল্লাহর এটা জানা ছিল না, তাই তো?
আধুনিক প্রযুক্তি মানুষের জীবনটাই বদলে দিয়েছে। কোরানে কি কোন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে উল্লেখ আছে? কম্পিউটার, ইন্টারনেট, টেলিভিশন, রকেট, বিদ্যুৎ, নিউক্লিয়ার পাওয়ার, মোবাইল, টেস্ট টিউব বেবি? তাহলে আমরা কিভাবে দাবী করবো যে কোরান সর্বকালের? কোরানে রকেট সায়েন্স না থাকলেও উড়ন্ত গাধার কিচ্ছা কিন্তু ঠিকই আছে। আলহামদুলিল্লাহ…
৫-
আজকের তালিবান জঙ্গীরা প্রত্যেকে সাথে করে আড়াই লাখ টাকা দামের মেশিনগান আর পাঁচ লাখ টাকা দামের রকেট লাঞ্চার নিয়ে ঘোরে, অথচ পকেটে নেই একজোড়া জুতা কেনার টাকা! কিন্তু, কোরানে কি উল্লেখ আছে এসব আধুনিক অস্ত্রের কথা? ফাইটার জেট, সাবমেরিন, নিউক্লিয়ার বোম্ব, মিসাইল, জীবাণু অস্ত্র… এসব আধুনিক সব যুদ্ধাস্ত্র সম্পর্কে কেন কিছু বলা হয়নি? তলোয়ারের কথা বলতে তো ভুল করেন নি আল্লাহ।
আমাদের এই পৃথিবী গোলক আকৃতির। কোরানের এমন একটি আয়াতও কি দেখাতে পারবেন যেটা বলে পৃথিবী গোল? এমন একটি আয়াতও কি দেখাতে পারবেন যেটা বলে পৃথিবী ঘুরছে? পুরা কোরান তন্ন তন্ন করে খুজলেও পাবেন না, কেননা মুহাম্মদ জানতো না পৃথিবীর আকৃতি কিংবা গতি সম্পর্কে। বরং কোরান বলেছে পৃথিবী সমতল এবং এর বেশি কিছু কোরান থেকে আশা করা উচিত নয়।
কোরানে পিপড়া, মৌমাছি, উট, গরু কুকুর, সাপ, ঘোড়া, গাধাসহ সর্বমোট ৩৫ টি প্রানীর কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, এদের সবাইকে আরব অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায় । আরব দেশে বাসস্থান নয় এমন কোন প্রানীর উল্লেখ কোরানে নেই। থাকবেই বা কিভাবে? সাত সমুদ্র তের নদী পেরিয়ে অষ্ট্রেলিয়াতে গিয়ে ক্যাঙ্গারু, সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার কিংবা এন্টার্কটিকাতে গিয়ে পেঙ্গুইন দেখে আসা তো সম্ভব ছিল না। আর হ্যা, সমুদ্রের নীচে যে লক্ষ লক্ষ জীব প্রজাতি বাস করে, তাদের নাম কোরানে আশা করা নিশ্চয়ই বোকামি হবে?

All reactions:
49জান্নাতী হুর, Mukto Mona Lalon and 47 others
