হলিউড সুপারস্টারদের ইসলাম গ্রহন নিয়ে নিউজ

আজকাল বেশ কিছু হলিউড সুপারস্টারদের নিয়ে নিউজ করা হচ্ছে যে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কিছুদিন আগে সময় নিউজ একটা প্রতিবেদন পাব্লিশ করেছে যে জার্মানির এক তরুণী ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং সে প্রথমবারের মতো রোজা রেখেছে। এছাড়াও বেস কিছু সেলিব্রেটির ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে তারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে আমেরিকার রেপার ও সংগীত প্রযোজক লিল জন । একটি পোস্টে দেখলাম বিখ্যাত পর্ণ তারকা জনি সিন্স ও মুসলমান হয়ে গেছেন। তবে তাদের লাইফ-স্টাইল নিয়ে কিছু বলার নেই। কারণ সবাই জানেন যে তারা ইসলাম গ্রহণ করলেও কিছু যায় আসে না। কিন্তু মুসলমানরা দেখলাম গর্বে গর্ভবতী। সব খানে তুমুল আলহামদুল্লিলাহ, সুভান আল্লাহর ঝড় এবং সেই সাথে আছে লাইক শেয়ার । কিন্তু এর মাঝে ভালো ভিউ এবং রিচ হাসিল করে নিচ্ছে নিউজ পোর্টাল গুলি । তারা ট্রোজান হর্সের মতো ইসলাম কে ব্যাবহার করে পাচ্ছে তুমুল জনপ্রিয়তা ।

আমাদের দেশ এমন একটি দেশ সেখানে আপনি ভাইরাল হতে চাইলে নিউজ হেডলাইন দিন “১৪০০ আগের কোরআরনের ভবিষ্যৎ বানী প্রমাণ হয়েছে” অথবা চাঁদে আজান শুনে নীল আর্মস্ট্রং মুসলমান হয়ে গেছে। আর আপনার পাব্লিকেশনের সার্কুলেশন কয়েকশ গুন বেড়ে যাবে।

আমাদের দেশের সাংবাদিকতা নিয়ে আমি যথেষ্ট চিন্তিত। আমাদের দেশে কেউ সত্য মিথ্যা কেয়ার করেনা, বরং ভাইরাল হওয়াই তাদের উদ্দেশ্য। ব্যবসার কাছে নীতিকে তারা বিসর্জন দিয়েছে।

বর্তমানে উইল স্মিথ কে নিয়ে যে নিউজ হয়েছে যে, “কোরআন পড়ে মুগ্ধ হয়েছেন উইল স্মিথ” সেখানে কি এক বারের জন্য ও প্রশ্ন করেছেন যে তিনি আরবি পারেন কি না? অনুবাদ কে করে দিয়েছে? তিনি তাফসির পড়েছেন কি না? শানে নুজুল জানেন কি না? প্রেক্ষাপট জানেন কি না? না এসব আপনারা প্রশ্ন করেন না। কিন্তু যদি কেউ কোরানের ভুল ধরতে আসে তখন এসব প্রয়োজন হয়। কিন্তু যখন আপনার পক্ষে যায় তখন আর এসব লাগে না। এমন দ্বিচারিতা কেন আপনাদের?

Leave a comment