মুসলিমরা জ্ঞান বিজ্ঞানে পিছিয়ে কেন?

মুমিনরা যখন মুসলিম বিজ্ঞানী নিয়ে বড়াই করে বা ইসলামের স্বর্ণযুগ নিয়ে কথা বলে তখন আমার হাসি পায়। মনে পড়ে সেই ফকিরের গল্প যে বহুদিন আগে মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছিল কিন্তু এখনো হাতের সেই গন্ধ শুকছে।

আসলে কোন মুলসিম কোন কৃতিত্বের কাজ করলে সমস্ত মুসলিম সম্প্রদায় সেটার ক্রেডিট নিতে চায়। আবার তারা এই অভিযোগ ও করে যে ইউরোপিয়ানরা এত খারাপ। অত্যাচারী জাতি, কিন্তু আমরা কেন তাদের দাসত্ব মেনে নিয়েছি? – ইত্যাদি।

তাদের উদ্দেশ্যে বলি – আপনারা আসলে ধর্মীয় হীনমন্যতায় ভোগেন, তাই আসলে উল্টাপাল্টা কিছু বানিয়ে জাহির করতে চান। ভাই বিজ্ঞানের সাথে ধর্ম না জড়ানোই ভালো। বিজ্ঞান কখনো বংশগত হয় না। আমরা নিউটন কে খৃষ্টান বিজ্ঞানী বলিনা বা আইনস্টাইন কে ইহুদি বিজ্ঞানী বলিনা । তবে বর্তমানে আপনি যদি পরিসংখ্যান দেখেন তো বিজ্ঞানে বেশীরভাগ নোবেল পেয়েছে ইহুদিরা। সেখানে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান খুবই কম।

আর আপনারা যাদেরকে নিয়ে বড়াই করেন, যেমন ইবনে সিনা, আল রাজি, ওমর খৈয়াম, এরা কেউ ই ধর্ম মানেনি। এরা ধর্ম থেকে বের হয়ে এসেই বিজ্ঞানের চর্চা করতে পেরেছে। ইবনে সিনাকে তো রিতিমত নাস্তিক খেতাব দেওয়া হয়েছিল । আর ওমর খৈয়াম মদ না খেলে কবিতা লিখতে পারতেন না বলে শুনা যায়।

নাম গুলো মুসলিম হলেও এনাদের অনেকই কিন্তু ইসলামকে ধারন করেন নাই। তৎকালিন খলিফারা গ্রীক বা ইউনানি শাস্ত্র অধ্যায়ন করার অনুমতি দেয়ার পর থেকে মুসলিমদের বিজ্ঞানে অগ্রযাত্রা শুরু। পরবর্তীতে ধর্মীয় ভাবে ইংরেজি শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করার পর থেকে মুসলিমরা আবারো পিছিয়ে যাওয়া শুরু করেছিল।

যদিও এক সময় ইসলামের স্বর্ণযুগ ছিল। কিন্তু সেটা ধ্বংস হওয়ার পিছনে কাজ করেছে ধর্ম। ইমাম গাজ্জালি সমস্ত বিজ্ঞান শিক্ষা বন্ধ করে মুসলিম দর্শন, ফিকাহ, ইলমুল কালাম (ধর্মতত্ত্ব) বিষয়ে শিক্ষা এবং গ্রিক দর্শনকে বাদ দিয়ে ইসলামের শিক্ষার উপর জোর দেওয়ায় মুসলিম বিশ্ব জ্ঞান বিজ্ঞান থেকে পিছিয়ে পড়ে।

ইউরোপ আমেরিকা অনেক আগেই “ব্রেইন ড্রেইন” শুরু করে অর্থাৎ সমস্ত বিশ্বের মেধাবী, বুদ্ধিমান মানুষদের তারা টেনে নেয় সুযোগ সুবিধা দিয়ে। তারা হয় স্কলারশিপ দেয় না হয় কাজ করার সুযোগ করে দেয়, এবং নাগরিকত্ব ও দিয়ে দেয়।

ইউরোপিয়ানদের লুট পাটের ইতিহাসও আছে। সেটা অস্বীকার করছি না । কিন্তু সেটা অনেক বছর আগেই শেষ হয়ে গেছে। এখন বর্তমান যুগে সেই পুরানো ইতিহাস নিয়ে পড়ে থেকে কি লাভ? আপনি কি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে চান? সেটা হাস্যকর হবে কারন ইসরাইল আর প্যালেস্টিনের অবস্থাই দেখুন।

আমি এখানে কোন দেশের পতাকা উত্তোলন করতে আসিনি। যা ঘটে গেছে তা তো আর পরিবর্তন করা যাবে না। আর আমরা ইউরোপ আমেরিকার দাসত্ব করি না। আমরা আমাদের মতো কাজ করি এবং আমাদের ন্যাজ্য পাওয়া চুকিয়ে নেই।

বিজ্ঞানীদের স্রষ্টাকে বাদ দিয়ে বৈজ্ঞানিক কর্মকান্ড নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হয় ও পরিচালনা করতে হয় স্রষ্টাকে নিয়ে নয় । “সব কিছু স্রষ্টাই করেন” এই মনোভাব নিয়ে বৈজ্ঞানিক কাজের চিন্তাভাবনাও করা যায় না আর পরিচালনাও করা যায় না, ফলে বিজ্ঞানীও হওয়া যায় না। অতএব বিজ্ঞান স্রষ্টাকে গুরুত্ব দিয়ে বৈজ্ঞানিক কাজ পরিচালনা করে না। বিজ্ঞানের কাছে স্রষ্টা মূল্যহীন ।

আপনি যখন মনে করবেন যে সমস্ত প্রশ্নের উত্তরে ১৪০০ বছর আগের লেখা একটি কিতাব আছে, এবং বলবেন সব প্রশ্নের উত্তর হল “আল্লাহ,” তখন আপনার জ্ঞান বিজ্ঞান সেখানেই থেমে যাবে।

এ জিনিসটিই ইউরোপকে নাস্তিক্যবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যে কারনে ইউরোপ বিজ্ঞানে এগিয়ে গেছে। এ বিষয়টাও সঠিক যে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা করতে হলে বর্তমানে প্রচুর অর্থ লাগে, সময় লাগে, ধৈর্য লাগে, যেটা সাধারন মুমিনদের মধ্যে নেই। বিজ্ঞান শিক্ষার চেয়ে অন্ধ ভাবে ধর্ম মেনে নেওয়াই বেশি সহজ ।

ইউরোপ আমেরিকা বিজ্ঞান শিক্ষা এবং রিসার্চের পিছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। অর্থ আসে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে । যেমন করেছে চীন ও জাপানের মতো এশিয়ার দেশ গুলো। ইউরোপের দেশ গুলো টেকনলজিতে আগের থেকেই এগিয়ে। তাদের সব কিছুই উন্নত সেই সাথে মানুষ গুলোও ।

আমি এম্বি খরচ করে পড়ালেখা করি । আমি কক্ষনো মনে করি না যে সকল প্রশ্নের উত্তর কোরানে আছে বা সকল কিছুর উত্তর হল “আল্লাহ ভালো জানেন।” কারন আমরা মানুষ হিসাবে ১৪০০ বছর আগের থেকে অনেক উন্নত ।

অথ্য সুত্রঃ –

ইবনে সিনা কী মুসলিম ছিলেন?

Leave a comment