ডাক্তার বড় না পুলিশ বড়? হায়রে বাংলার মানুষ!!

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেটা নিয়ে এত মাতামাতি করার কি আছে সেটা আমি বুঝলাম না। ভিডিওটি এমন যে একজন মহিলা ডাক্তারের গাড়ী পুলিশ থামিয়ে সেই ডাক্তারের আইডি চাওয়াতে ডাক্তার প্রচণ্ড ক্ষেপে যায় এবং ম্যাজিস্ট্রেট সহ সকল পুলিশদের তুই তুকারি এবং গালাগালি করতে থাকে।

ভাইরাল ভিডিওর ডাক্তার মহিলাটি কি কারনে ক্ষিপ্ত তা বুঝা যায়নি। এই ভিডিও থেকে যতদূর বুঝা যাচ্ছে যে পুলিশ খুব ভদ্র ভাবেই মহিলার আইডি চেয়েছিল । একজন দায়িত্বরত পুলিশ যে কোন কারণে আপনার পরিচয়পত্র চাইতে পারে। এ ব্যাপারে পুলিশের উপর সরকারের কড়া নির্দেশ আছে। যেখানে আইডি প্রয়োজন সেখানে অন্য কিছু, যেমন গাড়ীর স্টিকার, ডাক্তারের এপ্রন, ইত্যাদি দেখিয়ে লাভ নেই।

রোববার দুপুরে রাজধানীর এলিফেন্ট রোডে পুলিশ চেকপোস্টে এই ঘটনা ঘটে। ওই ডাক্তার নিজের পরিচয় প্রকাশ করে বলেন, তিনি বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত এক মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে সাঈদা শওকত সন্তান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সহযোগী অধ্যাপক । উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের এক পর্যায়ে তিনি পুলিশ এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে ‘তুই’ বলে সম্বোধন করলে তারাও ক্ষিপ্ত হন।

পুলিশের সঙ্গে ডাক্তারের এমন ব্যবহার করা কতটা সমীচীন ছিল? একজন ডাক্তার কি “কি করতেছে হারামজাদারা” – এমন ভাষা ব্যাবহার করতে পারে? তাও আবার ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে? একজন ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক এবং প্রশাসনের লোক। তার সাথে প্রকাশ্যে এমন ব্যাবহার কি কোন শিক্ষিত মানুষের মানায়? এখন প্রশ্ন আসে একজন ডাক্তার যদি পুলিশের সাথে এমন ব্যাবহার করতে পারে তাহলে তারা রুগীদের সাথে কি ব্যাবহার করে? তারা তো রুগীদের মানুষই মনে করে না।

ধরে নিলাম সে ডাক্তার এবং সে ভুল করে আইডি কার্ড আনে নাই। সে ক্ষেত্রে তার উচিত ছিল পুলিশের কাছে ক্ষমা চাওয়া। আমার মনে হয় না পুলিশকে বুঝিয়ে বললে ব্যাপারটা এত দূর গড়াতো। কিন্তু এই মহিলার আচরণে আমার মনে হয়েছে একে তো চুরি তার উপর সিনা জোরি । মহিলার এই আচরণে তাকে নেশা গ্রস্থ বা মানসিক বিকার গ্রস্থ মনে হয়েছে। অথবা সে কোন অপরাধে লিপ্ত ছিল । তা না হলে আইডি চাইলে এত ক্ষেপে যাওয়ার কারন কি?

মানুষ যে পেশায়ই থাকুক, সবাই মানুষ। তা সে ডাক্তার হোক বা পুলিশ হোক বা একজন রিক্সা ওয়ালা হোক। একজন ডাক্তার হয়ে গেলে তার মধ্যে যদি “কি যে হনু রে” ভাব চলে আসে, তবে সেটা খুব ই দুঃখ জনক ব্যাপার হবে। তার উপর কথায় বলে আমি অমুকের মেয়ে, আমি অমুক তমুক, তখন সন্দেহটা আরও প্রকট হয়। আপনার তো উচিত আইনের পক্ষে থাকা, আইনকে সাহাজ্য করা। আপনি যেই হন, আপনি আইনের উর্ধে নন। আপনি কি আসলেই আইনের পক্ষে নাকি কোন বেআইনি কাজে লিপ্ত? তা না হলে পরিচয় দিতে এত গাফিলতি কেন?

আজকাল যে কোন অপরাধ করে আন্দোলনের ভয় দেখানোটাও একটা স্টাইল হয়ে গেছে। যেমনটা আমরা দেখেছি মামুনুলের বেলায়ও। মানে যে কোন মানুষ, যে কোন অপরাধ করে আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে পার পেয়ে যেতে পারে, বিষয়টা কি এমন?

আমি মোটেও পুলিশের হয়রানির পক্ষে নই, কিন্তু আমি আইনের পক্ষে। এখানে দু পক্ষেরই দোষ আছে। আমাদের দেশের পুলিশ যেমন অন্যায় ভাবে মানুষের উপর জুলুম করে, তেমনি আমরা জাতি হিসাবে তেমনটা সভ্য হতে পারিনি, তাই দুঃখ – হায়রে বাংলার মানুষ!!

Leave a comment