পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে

“কে পৃথিবীকে করেছে আবাসযোগ্য এবং তার মধ্যে প্রবাহিত করেছেন নদী-নালা। আর তাতে স্থাপন করেছেন সৃদৃঢ় পর্বতমাল এবং দুই সাগরের মাঝখানে সৃষ্টি করেছেন অন্তরায় । আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না। (নামাল, ২৭ : ৬১)”
“তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেন, যারা পরস্পর মিলিত হয়। উভয়ের মাঝখানে রয়েছে এক আড়াল, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না। অতএব (হে মানব ও দানব) তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোনো নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?” (রহমান, ৫৫ : ১৯- ২১)
এই আয়াত দুটিতে পরিষ্কার ভাবে বলা হচ্ছে যে দুই দরিয়ার পানির মধ্যে একটি অদৃশ্য অন্তরায় বা দেয়াল রয়েছে যার কারণে দুই সমুদ্রের পানি (দুই দরিয়ার পানি) এক হয় না।
অনেক মুমিনরা উপরের ছবি আর কোরানের আয়াত দেখিয়ে বলে “এই দেখ, মহান আল্লাহপাক তোমাদের জন্য একদম স্পষ্ট নিদর্শন রেখে দিয়েছে, তার পরেও কি তোমরা এটা বিশ্বাস করবে না?”
আরও দেখুন সুরা ফুরকানের ৫৩ নং আয়াতেঃ
“তিনিই সমান্তরালে দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন, এটি মিষ্ট, তৃষ্ণা নিবারক ও এটি লোনা, বিস্বাদ; উভয়ের মাঝখানে রেখেছেন একটি অন্তরায়, একটি দুর্ভেদ্য আড়াল।” (২৫ঃ৫৩)

অর্থাৎ কোরানে আল্লাহ স্পষ্ট বলে দিচ্ছে যে মিষ্টি পানি আর লোনা পানির মধ্যেও একটি অদৃশ্য অন্তরায় রয়েছে, যার কারণে এই দুই পানি মিশেনা।
মুমিনদের দাবী, কুরআনের আয়াত ৫৫:১৯-২১ এবং ২৫:৫৩ প্রমাণ করে, কুরআন একটি ঐশ্বরিক গ্রন্থ।
“এসব সমুদ্রে উত্তাল তরঙ্গমালা, প্রবল স্রোত এবং জোয়ারভাটা থাকা সত্ত্বেও তাদের পানি একত্রিত হয় না এবং তাদের মধ্যকার অন্তরালকে অতিক্রম করে না।”
বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও এই অদৃশ্য দেয়াল খালি চোখে দেখা সম্ভব হয় নি। এটাই আল্লাহর হুকুম আর নিদর্শন।
এবার আমরা দেখি বিজ্ঞান কি বলে?
প্রথমে আসুন আমরা দেখি কি কারণে আমরা দুই দরিয়ার পানিকে দুইটি ভিন্ন রঙের দেখতে পাই? আপাত দৃষ্টিতে এই দুই দরিয়ার বা সাগরের পানি দুইটি ভিন্ন স্রোতে প্রবাহিত হচ্ছে বলে মনে হতে পারে । কিন্তু এটার কারণ হচ্ছে যেকোনো দুটি সমুদ্রের একত্রিত হওয়ার স্থানে তাদের পানি একে অপরের সাথে মিশে না তাদের ঘনত্ব, লবণাক্ততা এবং তাপমাত্রার ভিন্নতার কারণে। তবে এই না মেশার ঘটনাটি স্থায়ী নয়। ভিন্ন ঘনত্ব, লবণাক্ততা এবং তাপমাত্রার পানি এক সময় একে অপরের সাথে মিশে যায়।
কুরআন যেখানে বলে দুই সমুদ্রের পানি তাদের মধ্যকার অন্তরায় বা বাধা অতিক্রম করতে পারে না সেখানে প্রকৃতপক্ষে ঘনত্ব, লবণাক্ততা এবং তাপমাত্রার ভিন্নতার কারণে দুই সমুদ্রের পানি প্রথমে না মিশলেও, এবং তাদের দেখতে আলাদা মনে হলেও, একসময় তারা মিশে যায় আর এটি নিঃসন্দেহেই কুরআনের একটি ভুল।

নদীর পানি যখন সমুদ্রের পানির সাথে মিলিত হয় তখন তা সমুদ্রের পানির মধ্যে মিলিয়ে যায় বা একত্রিত হয়ে যায়। নদী এবং সমুদ্রের মিলিত হওয়ার স্থান বা মোহনায় যা ঘটে কুরআন পুরোপুরি তার বিপরীত তথ্য দেয়। মোহনায় যেখানে নদীর মিষ্টি হালকা পানি সমুদ্রের লবণাক্ত ভারী পানির সাথে মিশে যায় সেখানে কুরআন দাবি করে, নদী ও সমুদ্রের পানির মিলনস্থলে রয়েছে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল বা বাধা, যা ভেদ করে নদীর পানি সমুদ্রে মিশে যেতে পারে না বা সমুদ্রের পানি নদীতে মিশে যেতে পারে না। পরিষ্কারভাবেই কুরআন যা বলে তা মিরাকল নয় বরং, বৈজ্ঞানিক ভুল।

