ইসলাম ত্যাগকারী মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

যারা ইসলাম কে শান্তির ধর্ম বলেন এবং বলেন যে ইসলামে কোন বিদ্বেষ পূর্ণ কিছু নাই বা কোন জোর জবরদস্তি নাই, তারা ইসলামের ভয়ঙ্কর বিধান গুলো সম্পর্কে জানেন না। ইসলামে যদি জোর জবরদস্তি না থাকে তাহলে ইসলাম ত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কেন? শুধু মাত্র ধর্ম পালন না করার কারণে যে ধর্মে শিরচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের মতো বর্বর বিধান রয়েছে, সে ধর্ম আবার শান্তির ধর্ম হয় কিভাবে?

বাপ দাদার কাছ থেকে পাওয়া ধর্মীয় বিশ্বসে কেউ আঘাত করলে অবশ্যই মানুষের খারাপ লাগে। বিশেষ করে যখন মানুষ শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়ে যায় যে ইসলামে খারাপ কিছু নেই। শুধু শান্তি আর শান্তি। ইসলাম কাউকে জোর করে কিছু করতে বলেন না ইত্যাদি ইত্যাদি শুনে তারা বড় হয়। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন, আপনি যদি মুসলিম হন, এবং আপনি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তখন কি আপনি ইসলামের ভয়ঙ্কর বিধান গুলো সম্পর্কে জানতেন?

শান্তির ধর্ম বলে দাবি করলেও ইসলাম নিজেকে শান্তির ধর্ম বলে প্রমাণ করতে ব্যর্থ । ইসলাম সেই ধর্ম যে ধর্ম অনুযায়ী, একজন মানুষ যদি তার ধর্মের প্রতি আর বিশ্বাস রাখতে না পারে, এবং ধর্ম ত্যাগ করে, তাহলে তার কল্লা কেটে হত্যা করার বিধান রয়েছে।

এখন আমাদের কাছে যে ত্যানা গুলো আসে সেগুলো হল “আপনাকে প্রেক্ষাপট বুঝতে হবে,” “হাদিস বিকৃত হয়ে গেছে,” অথবা কেউ আপনাকে মারতে আসলে কি করবেন? ইত্যাদি। কিন্তু ইসলামে পরিষ্কার বলা আছে শুধু মাত্র ধর্ম ত্যাগ করার জন্য একজনকে হত্যা করার কথা। শুধু তাই নয়, এরকম অসংখ্য হাদিস আছে যেখানে বলা আছে মুরতাদকে কতল করার কথা।

নিচে কিছু হাদিস দেওয়া হলঃ

মুয়াত্তা মালিক ৩৬. বিচার সম্পর্কিত অধ্যায় (كتاب الأقضية) – 36/ Judgements

পরিচ্ছেদঃ ১৮. ইসলাম ত্যাগ করিলে তাহার ফয়সালা

সহীহ বুখারী (তাওহীদ) ৫৬/ জিহাদ ও যুদ্ধকালীন আচার ব্যবহার (كتاب الجهاد والسير) – 56/ Fighting for the Cause of Allah (Jihaad)

পরিচ্ছেদঃ ৫৬/১৪৯. আল্লাহ্ তা‘আলার শাস্তি দিয়ে কাউকে শাস্তি দেয়া যাবে না।

“নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আল্লাহর আযাব দ্বারা কাউকে আযাব দিবে না। বরং আমি তাদেরকে হত্যা করতাম। যেমন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক তার দ্বীন বদলে ফেলে, তাকে হত্যা করে ফেল।’” (৬৯২২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২৭৯৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২৮০৫) হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

ইসলাম কি অন্য ধর্মের সাথে সহ অবস্থানে বিশ্বসি?

সূরা কাফিরুন ৬ নম্বর আয়াত “লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়াদিন” (১০৯ঃ৬) অর্থাৎ তোমার বিশ্বাস তোমার আমার বিশ্বাস আমার। তোমার কর্মফল তুমি ভোগ করবে এবং আমার টা আমি ভোগ করবো। এটা কোন মতেই শান্তির বানী নয় । বরং এটা অন্য ধর্মের সাথে সহ-অবস্থানের প্রতি হুমকি ।

এবং এটা একটি বাতিল বা মানসূখ আয়াত। এই আয়াতের প্রেক্ষাপট হচ্ছে নবী যখন বিপদে পড়ে যায়। বিপদ থেকে বাঁচার জন্য পৌত্তলিক দের উদ্দেশ্যে এই আয়াত নাজিল করেন ।

এটার নাসখ আয়াত হলো সূরা তওবার ৫ নং আয়াত । “অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁৎ পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে, যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (৯ঃ৫)

অর্থাৎ মুশরিকরা যতদিন পর্যন্ত না তওবা করে মুসলমান হয়ে না যাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।

ইসলাম মতে আল্লাহ তাআলা মানুষের সৃষ্টিকর্তা। ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দ্বীন। মানুষের জন্য তিনি এই দ্বীন নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এ-ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন বা ধর্ম মানুষের কাছ থেকে তিনি গ্রহণ করবেন না।

“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীনের অনুসরণ করবে, তার পক্ষ থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” (আলে ইমরান ৩:৮৫)

নবীর নামে কটূক্তির বা শাতিমে রাসুলের শাস্তি

নবী কিংবা রাসুল সম্পর্কে গালি দেয়া, নোংরা কথা বলা, কটূক্তি করা মানুষ সে কাফির হোক কিংবা মুসলিম, সে তওবা করুক কিংবা না করুক, তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড । এ বিষয়ে ইসলামী শরীয়া এবং চার মাজহাবের চার প্রধান ইমাম সবাই একমত।

অনেকে “যে ব্যক্তি মানুষ হত্যা কিংবা যমীনে সন্ত্রাস সৃষ্টির কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করবে সে যেন তামাম মানুষকেই হত্যা করল। আর যে মানুষের প্রাণ বাঁচালো, সে যেন তামাম মানুষকে বাঁচালো।”  (কোরান ৫:৩২) এই আয়াতটি দিয়ে দাবী করেন যে ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম। কিন্তু আপনারা এর পরের আয়াতটি পড়লেই বুঝতে পারবেন ইসলাম কতোটা ভয়ংকর ধর্ম।

যারা নবিকে নিয়ে কটূক্তি করে তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী

“যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে সংগ্রাম করে এবং দেশে হাঙ্গামা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলীতে চড়ানো হবে অথবা তাদের হস্তপদসমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি।” (কোরান ৫:৩৩)

এই কারণে আল্লাহর রসুলকে নিয়ে কটূক্তি করলে তাকে হত্যা করা অয়াজেব

আরও দেখুনঃ কোরানে সন্ত্রাস সৃষ্টির আয়াত/ Hate Speech in Quran

পরিচ্ছেদঃ ১৮. ইসলাম ত্যাগ করিলে তাহার ফয়সালা

পরিচ্ছেদঃ ৫৬/১৪৯. আল্লাহ্ তা‘আলার শাস্তি দিয়ে কাউকে শাস্তি দেয়া যাবে না।

Leave a comment