কোরানের সংখ্যাতত্ত্ব মোজেজা । Mathematical Miracle in Quran Part 1

মুমিনদের দাবী কোরানের সংখ্যা তত্ত্বই প্রমাণ করে যে কোরান কোন মানুষের পক্ষে লেখা সম্ভব নয়। তারা আরও দাবী করেন যে কোরানের এই সংখ্যা তত্ত্ব মিরাকেলের কারণেই কোরানের মতো কোন সুরাও লেখা সম্ভব নয়। অর্থাৎ এটা আল্লাহ্‌ বানী প্রমাণিত। কিন্তু এই মিরাকেল গুলো আমরা কিভাবে পেলাম, সেটা আগে একটু দেখুন।

১. কোরানের সংখ্যা মিরাকেল দিন রাত গোঁজামিল

আপনি হয়তো এধরনের কোরানিক মিরাকেলের কথা আগেও শুনে থাকবেন যে দিন ইয়াম  (يوم ) শব্দ টি কোরানে ৩৬৫ বার রিপিট করা হয়েছে । এটা সম্পূর্ণ গোঁজামিল। এখানে একটু চালাকি করে মুমিনরা এটা বানিয়েছে। আমি নিজে কাউন্ট করে এটার কোন আগা মাথা পাই নি। কারণ কোরানে মূল শব্দটি আছে ৪৭৫ বার। এবং এটার সিঙ্গুলার বা এক বাচক অর্থে আছে ৪৪৫ বার। এর রুট শব্দটি, কোন প্রকার প্রত্যয় এবং উপসর্গ ছাড়া আছে ২১৭ বার। ৩৬৫ বারের গোঁজামিল দিতে হলে মুমিনদের বাদ দিতে হয় তিনটি দুই বাচন ফর্ম, ২৭ টি বহু বচন ফর্ম, এবং ৭০ বার যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ইয়ামা يومئذ , বা সেই দিন, সেগুলোও তারা বাদ দিয়ে দিয়েছেন।

২. সংখ্যা মিরাকেল নারী পুরুষ গোঁজামিল

দ্বিতীয় গোঁজামিল হল পুরুষ রাজুলুন (رجل ) শব্দ টি ২৪ বার আছে এবং নারী ইমরা (امرأة) শব্দটি আছে ২৪ বার অর্থাৎ “এটি একটি মিরাকেল” কারণ এটা দিয়ে পুরুষ এবং নারীকে সমান ধরা হয়েছে  – কিন্তু না। এটি একটি বোগাস যুক্তি । কারণ কোরান মতে নারী পুরুষের অর্ধেক। তা ছাড়া, নারী আর পুরুষকে ২৪ বার করে মেলানো হয়েছে আবারো গোঁজামিল দিয়েই।

কোরানের উল্লেখিত অনেক গুলো নারী এবং পুরুষ বাচক শব্দের মধ্যে শুধুমাত্র একটি পুরুষ বাচক এবং একটি নারী বাচক শব্দ নিয়ে এবং শুধু মাত্র তাদের সিঙ্গুলার ফর্ম শব্দ গুলিকে গণনায় এনে অসাধু মুমিনরা এই ভেলকি বাজিটা তৈরি করেছে।

তাছাড়া ৩৬৫ দিন গণনার সময় প্রত্যয় এবং উপসর্গ যুক্ত শব্দ গুলো গণনা করা হয়েছে, কিন্তু নারী পুরুষের বেলায় সেটা করা হয় নি।

এখন অনেক যায়গায় দেখলাম বলা হয়েছে যে পুরুষ এবং নারী শব্দটা ২৩ বার এসেছে। এবং এটা মিরাকেল কারণ নারী পুরুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। কি চমৎকার, তাই না? কিন্তু এই সব অসাধু মিথ্যাবাদীরা কিভাবে ২৩ এবং ২৪ বানিয়েছে সেটা দেখুন।

যারা বলে পুরুষ ২৪ বার আছে, তারা সব রাজুল শব্দ গুলোর সিঙ্গুলার ফর্ম নিয়েছে। কিন্তু এক যায়গায় বলা আছে “৭০ জন মানুষ” [7:155] যেটা এক বাচক শব্দ, কিন্তু এখানে ৭০ জন মানুষের কথা বলা হচ্ছে, সেটাও তারা সিঙ্গুলার ধরে ২৪ বার পুরুষ ধরেছে। আর যারা ২৩ বলে তারা এই শব্দটা বাদ দিয়ে গণনা করে ২৩ বলেছে। কিন্তু নারীর সংখ্যা কোন মতেই ২৩ হয় না। যদি “৭০ জন মানুষ “সিঙ্গুলার হয়, তবে যেখানে বলা আছে দুই জন নারী, সেটা কেন dual ধরে বাদ দেওয়া হচ্ছে?  সুতরাং এটা একটা ডাহা মিথ্যা কথা। তারা মনে করেছিল এটা লিখলে কেউ আর নিজে থেকে গুনে দেখবে না । আর যারা জানে তারাও চেপে যাবে ইসলামের প্রচারের স্বার্থে।

মোহাম্মাদ কি কোরানের সংখ্যাতত্ত্ব মোজেজার কথা উল্লেখ করে গেছে?

আল্লাহ বা মুহাম্মদ, এমনকি ইসলামের লক্ষ লক্ষ স্কলার, কেউই কোনদিন কোরআনের সংখ্যা তত্ত্বের এই মোজেজার কথা বলেন নি। আরবে কেন ৩৬৫ দিনের ক্যালেন্ডার চালু হল না? নারী পুরুষের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হল না? বা কেউ বলেনি কেন যে মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম আছে? যদি কোরানের মেসেজ টা নবীর কাছে দেওয়া হয় তাহলে প্রথমেই নবী বা তার সাহাবিদের এই কথা বুঝা উচিৎ ছিল । কিন্তু তারা কেউ এই কথা বোঝেনি । এটা কি আল্লাহ্‌র ব্যর্থতা যে ঠিক মতো নবীকে বুঝাতে পারেনি? নাকি নবীর ব্যর্থতা যে সে বুঝতে পারেনি? তবে কি রাশাদ খলিফা কোরআনকে  খোদ নবীর চাইতেও বেশি বুঝেছেন?

আরো পড়ুনঃ   কোরানের মোজেজা উনিশ | Mathematical Miracle 19 in Quran

তথ্য সুত্রঃ

“365 days miracle” in the Qur’an

Man and woman word count in the Qur’an

Leave a comment