রোজার মাস আসলেই মুসলিমরা গর্ব করে রোজার নানা ফজিলত ব্যক্ত করে। তারা ফাস্টিং এবং অটোফেজির যে বিষয় গুলো নিয়ে আসে, সেটার সাথে আসলে রোজার কোন সম্পর্ক নেই। রোজা আর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংকে তারা এক করে ফেলে।
চারিদিকে রোজার উপকারিতা নিয়ে মহা ধুমধামে প্রচারণা চললেও এই কথাটা বুঝিয়ে বলার কেউ নেই যে রোজা আর ফাস্টিং আসলে এক নয়। এবং ইদানীং এর সাথে যোগ হয়েছে অটোফেজি, যার কারণে মুমিনরা আরও বেশি রোজা নিয়ে গর্ব করছে।
ফাস্টিং আসলে ইসলামে প্রথম নয়। পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতায় ফাস্টিং প্রচলিত আছে। মুসলিমরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ’সিয়াম’। খ্রিস্টানরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ’ফাস্টিং’। হিন্দু বা বৌদ্ধরা রোজা রাখলে তাকে বলা হয় ’উপবাস’। মেডিক্যাল সাইন্সে রোজা রাখকে বলা হয় ’অটোফেজি’।
’অটোফেজি’ তে গবেষণা করে বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওহশোমি নোবেল পুরষ্কার পেয়েছিল। এ টি ওজন কমানো এবং শরীরের টক্সিক উপাদান গুলো বের করে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু মুসলিমদের রোজা এই বিষয়ে সামান্য ভিন্ন।
এই লেখায় আমি প্রতিটি বিষয় কি এবং এর পার্থক্যগুলো নিয়ে আলোচনা করবো।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা অটোফেজি কি?
“অটোফেজি“ আক্ষরিক অর্থ হল নিজেকে খাওয়া। আমরা যখন না খেয়ে থাকি তখন আমাদের শরীরের কোষ গুলো বেকার হয়ে যায়। কিন্তু তারা নিষ্ক্রিয় বসে না থেকে শরীরের আবর্জনা গুলো পরিষ্কার করতে থাকে। আমরা যখন দীর্ঘ সময় খাওয়া থেকে বিরত থাকি, তখন আমাদের শরীরের কোষ গুলো বাইরে থেকে খাওয়া না পেয়ে নিজেই নিজেকে খাওয়া শুরু করে। এ সময়ে আমাদের শরীরের যেমন অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে, তেমনি আমাদের শরীরের টক্সিক জিনিষ গুলো Detox and Flush Out হয়ে যায়।
আমারদের শরীরে কোষ গুলো অনেক কাজ করে ফলে তারা কোষের ময়লা আবর্জনা গুলো ভালো ভাবে বের করে দিতে পারে না। আমরা যদি খাওয়া বন্ধ করে দেই তাহলে শরীরের কোষ গুলো এই আবর্জনা বের করে দিতে সময় পায় এবং এই Flush করার জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং হল খাওয়া এবং খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকার একটি সাইকেল। যেখানে আপনি দিনের মধ্যে একটা সময়ে খাদ্য খাবেন এবং কিছু সময় খাদ্য না খেয়ে শুধু পানি বা Liquid খেয়ে থাকবেন।
ফাস্টিং কিভাবে করতে হয়?
অটোফেজির খাওয়া এবং ফাস্টিং করার সাইকেল বিভিন্ন ভাবে প্রাকটিস করা যায়। যেমন আপনি 6 Popular Ways to Do Intermittent Fasting এই আর্টিকেল টি তে পড়ে দেখতে পারেন। ফাস্টিং এর সময় আপনি কোন ধরণের সলিড খাবার খেতে পারবেন না। তবে আপনি কি খাবেন সেটার উপর কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি কখন খাবেন সে বিষয় টা হল জরুরী । আপনি দিনে ঘড়ি ধরে চাহিদা অনুযায়ী ১৩ থেকে ২৪ ঘণ্টা খাওয়া দাওয়া ছাড়া থাকবেন। এবং এটা করবেন সপ্তাহে দুইবার। তবে অবশ্যই আপনাকে ফাস্টিং অবস্থায় প্রচুর পরিমাণ পানি খেতে হবে।
ফাস্টিং এ কি কি খাওয়া যাবে?
অনেকেই প্রশ্ন করে যে ফাস্টিং করলে কি কি খাওয়া যাবে বা যাবেনা। এখানে Intermittent Fasting 101 — The Ultimate Beginner’s Guide আর্টিকেল অনুযায়ী, ফাস্টিং অবস্থায় আপনি আপনার খুশি মতো যে কোন ধরনের লো ক্যালোরি লিকুইড খেতে পারবেন। যেমন গ্রিন টি, কফি, জুস ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং ডাক্তাররা বেশি বেশি পানি এবং জুস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
রোজা কি ফাস্টিং? রোজার সাথে অটোফেজির পার্থক্য কি?



Pingback: কোরান ও হাদিস মতে পৃথিবী সমতল তার ১২ টি প্রমানঃ | সত্যের সন্ধানী