একটা জিনিষ খেয়াল করলাম। মুমিনরা কন্সপিরেসি থিওরি খুব ভালো খায়। তারা যে কোন গুজব কোন যাচাই না করেই বিশ্বাস করে এবং সেটা যদি তাদের বিশ্বাসের সাথে মিলে যায় বা তাদের শত্রু (ইহুদি নাসারা কাফের) দের বিরুদ্ধে যায় তবে তো কথাই নেই।
কেউ যদি বলেন যে অন্ধ বিশ্বাস কখনো কোন ক্ষতির কারণ হতে পারেনা, তারা অবশ্যই এই লেখা টা পড়ে কিছু বুঝার চেষ্টা করুন।
মুমিনরা কেন কন্সপিরেসি থিওরিতে বিশ্বাসী?
এটা আসলে তাদের thought process এর কারণেই হয়েছে। কারণ ধর্ম তাদেরকে এটা শিক্ষা দেয়। যে মানুষদের চিন্তা এবং Reasoning এবং বিশ্বাসের মূল ভিত্তি হচ্ছে ঈমান বা অন্ধ বিশ্বাস, তাদের পক্ষে গুজবে বিশ্বস করা অনেক সহজ ।
উদাহরণ সরূপ আপনি যদি বলেন যে অমুক বিজ্ঞানী কোরান গবেষণা করতে গিয়ে মুসলমান হয়ে গেছে। তারা সাথে সাথে এক লাফে বিশ্বাস করবে।
এই ধরণের কন্সপিরেসি থিওরির কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হল
১. নীল আর্মস্ট্রং মুসলমান হয়েছে।
২. সুনিতা উইলিয়ামস (দ্বিতীয় নারী ভারতীয় নভোচারী ) মুসলমান হয়ে গেছে
৩. নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে যায় নি, এটা হলিউডে তৈরি ফুটেজ।
৪. মাইকেল জ্যাক্সন মুসলমান হয়েছে।
৫. ৯/১১ আমেরিকার চাল।
৬. ডঃ কিথ মুর মুসলমান হয়ে গেছে
৭. এবং বর্তমানে এটার সাথে যুক্ত হয়েছে করোনা ভাইরাস।
প্রথমদিকে যখন করোনা ভাইরাস চীন এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন মুমিনরা বলাবলি করত যে এটা আল্লাহ্র গজব।
প্রথমে যে সব মুমিনরা দাবি করতো যে করোনা আল্লাহ্র সৈনিক, খাঁটি মুমিনদের করোনা হবে না, ইত্যাদি ইত্যাদি, আজ তারা চুপ হয়ে গেছে, কিন্তু এক শ্রেণীর ধর্মান্ধ মডারেট মুসলিমরা নতুন এক গুজব শুরু করেছে, এবং তা হল করোনা ভাইরাস চীনের ষড়যন্ত্র। যদিও নতুন তথ্য এবং প্রমাণের উপর ভিত্তি করে করোনা ভাইরাস যে কোন ল্যাবে তৈরি হয়েছে বা প্রাকৃতিক ভাবে আসেনি, এমন কোন প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।
এই ভাইরাসটা বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এসেছে। কিন্তু মুমিনরা হয়তো এটা জানেনা যে ২০১২ সালে মার্স (MERS-CoV) নামক একটি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছিল সৌদি আরব থেকে, যেটা এসেছিল উটের মাধ্যমে।
এই অন্ধবিশ্বসের কারণেই লকডাউন উপেক্ষা করে লক্ষাধিক মানুষকে জানাজায় সামিল হতে দেখা যায় ।
এখন পর্যন্ত যে কয়টা ভাইরাস পৃথিবীতে এসেছে, তারমধ্যে সব থেকে ভয়ংকর হল বিশ্বাসের ভাইরাস কারণ এটা মানুষের বোধ শক্তি নষ্ট করে দেয়।
ড়েফারেন্সঃ Coronavirus: Is there any evidence for lab release theory?


