কোরানে কি বলা আছে সূর্য আপন কক্ষপথে বিচরণ করে?

মুমিনরা প্রায়ই বলে কোরানে বলা হয়েছে সূর্যের নিজস্ব কক্ষপথ রয়েছে যেটা বিজ্ঞান কিছুদিন আগে আবিষ্কার করেছে। যেটা ১৪০০ বছর আগেই কোরানে ছিল। বিষয়টা কি আশ্চর্যের নয়? হ্যাঁ বিষয়টা আশ্চর্যের মনে হবে যদি আপনি আসল ব্যাপারতা বুঝতে না পারেন।

কোরানের যে আয়াতটা উদ্ধৃতি তারা দেয় সেটা হচ্ছে ঃ

“তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্র। সবাই আপন আপন কক্ষপথে বিচরণ করে।” [কোরান 21:33]

swim along

swim along,

এটা মোহাম্মাদ কিভাবে জানলো যদি এটা আল্লাহ্‌ না লিখে পাঠায় তাই না?

আমরা এখন দেখি কোরানে আসলে কি বলা হচ্ছে।

আমরা প্রতিদিন দেখি  সকালে সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে, আর সন্ধ্যা হলে পশ্চিম দিকে অন্ত যায়। এটা তো খালি চোখেই দেখা যায়। কোরানে কোথাও বলা হয় নি যে পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে। বরং বলা আছে পৃথিবী সমতল এবং স্থির । এবং সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে।

কুরআন প্রচারের সময় সপ্তম শতাব্দীতে টলেমির ভূ-কেন্দ্রিক মতবাদ প্রচলিত ছিল। বাস্তব চোখেও এটাই প্রতীয়মান হয় যে, পৃথিবীর চারিদিকে সূর্য ঘোরে, এবং পৃথিবী নিজে স্থির। তাই, মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থে কুরআনে চন্দ্র ও সূর্য গতিশীল এ কথা বারংবার বলা হলেও পৃথিবী যে গতিশীল তার উল্লেখ পাওয়া যায় না।

তাদের জন্যে এক নিদর্শন রাত্রি, আমি তা থেকে দিনকে অপসারিত করি, তখনই তারা অন্ধকারে থেকে যায়। সূর্য তার নির্ধারিত অবস্থানের দিকে সন্তরণ করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ, আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ। চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। সূর্য নাগাল পেতে পারে না চন্দ্রের এবং রাত্রি অগ্রে চলে না দিনের প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সন্তরণ করে। (কুরআন, ৩৬ঃ ৩৭-৪০)

সকালে সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে, আর সন্ধ্যা হলে পশ্চিম দিকে অন্ত যায়। এটা তো খালি চোখে দেখা যায়।পুরানো গ্রীক বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল যে পৃথিবী স্থির। চাঁদ আর সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে। এই কথাই কোরানে বলা আছে।

আর হাদিসে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা আছে সূর্য আল্লাহ্‌র আরসের নিচে অন্ত যায় এবং পরের দিন উঠার জন্য অনুমতি চায়। তাহলে কক্ষপথ টা কোথায়?

আপনি এটাকে মিরাকেল দাবি করতে পারতেন যদি কোরানের আগে কেউ কোথাও একথা না বলে থাকতো যে চাঁদ সূর্য নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে । কোরানে তো নির্দিষ্ট করে বলাও নেই যে এই কক্ষপথ টা কি। কোরানে যদি এটাও বলা থাকতো যে পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে, তবুও কিছুটা মানা যেত। কোরানের প্রতিটি আয়াতই এমন অস্পষ্ট যে সেটা যে কোন ভাবে ব্যাখ্যা করা যায় এবং আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে মেলানো যায়।

কিন্তু কোরানের আগেই গ্রীক বিজ্ঞানীরা এটা বলে গেছে যে চাঁদ এবং সূর্য একটি কক্ষপথে ঘুরে। এবং তাদের ধারণা ছিল পৃথিবী স্থির এবং সূর্য এবং চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে। নিচের ছবিটা দেখুন। কোরানে এটাই বলা আছে যে পৃথিবী স্থির। এবং সমতল।

19748913_248288229018933_6233464704134487526_n

আপনি কোরানে যদি কোথাও লেখা দেখাতে পারেন যে পৃথিবী গোলাকার এবং সূর্যের চারিদিকে ঘুরে, তাহলে কিছুটা মিরাক্কেল মানা যায়।

কিন্তু যদি ধরেও নেই যে কোরানে যা আছে সেটা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে হুবহু মিলে যায়, তবুও কিন্তু এটা তে এটা প্রমাণ হয় না যে কোরান আল্লাহ্‌র লেখা। এটা শুধু প্রমাণ করে যে কোরানের সাথে আধুনিক বিজ্ঞান মেলানো সম্ভব এবং সেটা কিভাবে কোরানে লেখা হল, সেটা একটি রহস্য মাত্র।

আমরা যদি কোন কিছুর সন্ধান পাই যেটা আমাদের আপাত দৃষ্টিতে কোন ব্যাখ্যা নেই, তাহলেও আমরা অতি প্রাকৃতিক কোন ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারিনা এই কারণে যে আমরা এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে যত গুলো রহস্য পেয়েছি তার সব গুলোরই কোন না কোন প্রাকৃতিক ব্যাখ্যা আছে। আমরা যতবার অতি প্রাকৃতিক কোন কিছু ব্যাখ্যা হিসাবে ধরে নিয়েছি, ততবার আমাদের ভুল হয়েছে।

Leave a comment