একজন মুসলিম হিসেবে আমি গর্বিত!

maxresdefault (25)

“একজন মুসলিম হিসেবে আমি গর্বিত!” – এরকম হরহামেশাই শুনি। মুসলিম পরিচয়টা কি কি কারনে কারো গর্বের কারন হতে পারে, চলুন দেখা যাক –

এই গর্বিত মুসলিম প্রজাতির প্রায় সবাই উত্তরাধিকার সূত্রে অনেকটা বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ধর্মীয় পরিচয়টা পেয়েছে। তাদের বোধবুদ্ধি হওয়ার আগেই এ পরিচয়টা গ্রহন করতে বাধ্য করা হয়েছে। নিজস্ব ইচ্ছা-অনিচ্ছা, পছন্দ-অপছন্দবোধ কাজে লাগিয়ে বা যাচাই-বাছাই করে এই পরিচায়টা বেছে নেয়ার অনেক আগেই এদের খৎনা করিয়ে শারিরীকভাবে মুসলিম বানানো হয়েছে। একটা পাঠাকে খাসি করানোর পর সে যদি বলতে শুরু করে, “আমি একজন গর্বিত খাসি” কিংবা লেজ কাটা যাওয়ার পর গল্পের শেয়াল যখন সাবাইকে বলে, “দেখ! লেজ কাটার পর আমাকে কত স্মার্ট লাগছে!” তাহলে যা মনে হবে, “আমি একজন গর্বিত মুসলিম!” – ঘোষণাটি শুনলে আমার সেরকমই লাগে।

নইলে আর কি কারনে একজন মুসলিম তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে গর্বিত হতে পারে? সবচেয়ে বেশী আজগুবি রূপকথাকে সত্য ঘটনা হিসাবে বিশ্বাস করার ক্ষমতা? হতে পারে। হিন্দুদের হনুমান দেবতা শুধু নিজে উড়তে পারে! আর মুসলিমদের ঘোড়া শুধু ওড়েই না, পিঠে করে একজন মানুষকে নিয়ে সাত আসমান পাড়ি দিতে পারে। কোনটা বিশ্বাস করা বেশী কঠিন?

কোন ধর্মে ধর্ম প্রতিষ্ঠা, রক্ষা বা বিস্তারের জন্য সবচেয়ে বেশী যুদ্ধের আহবান করা হয়েছে? কোন ধর্মে বিধর্মীদের প্রতি সবচেয়ে বেশী ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে? কোন ধর্মে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান সবচেয়ে বেশী? কোন ধর্মের স্বর্গ সবচেয়ে বেশী লোভনীয় এবং নরক সবচেয়ে বেশী ভয়ংকর? কোন ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশী রাখঢাক এবং মিথ্যাচার করতে হয়? কোন ধর্মে ধর্মে অবিশ্বাস এবং ধর্মত্যাগের শাস্তি সর্বোচ্চ? কোন ধর্মের ব্যখ্যাবিশ্লেষন করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশী তর্ক-বিতর্ক, মতভেদ আর আভ্যন্তরীন কোন্দল হয়? কোন ধর্মে সত্যমিথ্যা আর নানান ধরনের ব্যখ্যার উপর ভিত্তি করে সবচেয়ে বেশী শাখাপ্রশাখায় বিভক্ত? কোন ধর্মের মানুষ শিক্ষা-দীক্ষা আর জ্ঞানবিজ্ঞানে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও সবচেয়ে বেশী সবজান্তা ভাব দেখায়? কোন ধর্মের অনুসারীরা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সবচেয়ে বেশী অনিচ্ছুক?

জ্বী হ্যাঁ, এতদিক দিয়ে অনন্য একটি ধর্মের অনুসারী হিসেবে আপনি গর্ববোধ করতেই পারেন। কথা হলো, ধর্ম অনেকটা আপনার পুরুষাঙ্গের মতই। একটা থাকা ভাল। আকার আকৃতি ভালো হলে আরো ভাল। কর্মক্ষমতার বিচারে এটিকে নিয়ে ভিতরে ভিতরে আপনার অহংকার থাকতেই পারে। তাই বলে এটিকে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করে, অন্যদেরটির আকার-আকৃতি-সক্ষমতা নিয়ে উপহাস করতে করতে এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে ঘোষণা দিয়ে এর প্রচার প্রচারণা চালানোটা যেমন অসভ্যতা, তেমনি আপনি গর্বিত মুসলিম নাকি কোন মেষপালকের অনুসারী এবং বিশেষ জাতের মামদো ভুতের পূজারী – এসব নিজের মধ্যেই রাখুন। অন্য কারো সামনে প্রদর্শন করতে গেলে পরীক্ষার মুখে আপনার যন্ত্রপাতি কাজ না করার সম্ভাবনা প্রবল। আর সেই বেইজ্জতির দায়ভার আপনারই।


পুনশ্চঃ  মুসলিম হিসেবে মুমিনরা গর্বিত কারণ জাকির নাইক, কাজী ইব্রাহীম, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফের মতো অসভ্য, ভন্ড, মূর্খ রা ইসলামের ধারক, বাহক, ও প্রচারক। এরা বিশাল বিশাল সমাবেশে যা খুশি তাই বয়ান দিয়ে যায়, কেউ প্রতিবাদ করে না। তারা কথায় কথায় গালা গালি করে।  এরা প্রকাশ্যে জিহাদের আহবান করে। অন্য সব ধর্ম কে গালি দিতে পারে। কিন্তু তাতে ধর্মের অবমাননা করা হয় না। এতে বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া হয় না। এরা গর্বিত কারণ ধর্মানুনুভুতি শুধু মুমিনদেরই আছে।

মুমিনরা গর্বিত কারণ তারা ওয়াজ মেহফিল, এবং জামাত করে করোনার মতো মহামারি ছড়াচ্ছে। তারা গর্বিত কারণ তারা আল্লাহ্‌র ইবাদতের জন্য মসজিদে জুম্মার নামাজে গিয়ে সবার মাঝে ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছে। তার পর কেউ মারা গেলে সে শহীদ আর কেউ বেঁচে থাকলে সেটার জন্য কোন ডাক্তার কে ধন্যবাদ না দিয়ে বলবে এটা আল্লাহ্‌র রহমত।

আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানে ইসলামের কোন অবদান না থাকলেও এবং মুসলমান রা পৃথিবীর সব থেকে মূর্খ সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও তারা দাবি করে কোরান বিজ্ঞানে ভর্তি ।  যদিও তারা বিজ্ঞান কাকে বলে বুঝে না। তারা দাবি করে বিজ্ঞান যা যা  আবিষ্কার করেছে তা কোরানে আছে । এবং বিজ্ঞান যা যা আবিষ্কার করতে পারেনি তা ও কোরানে আছে । অথচ তাদের জিজ্ঞাসা করেন বিজ্ঞান কাকে বলে? হা করে থাকবে। যদি বলেন যে কোরান তো বিজ্ঞানের বিপক্ষে যায়। তখন বলবে বিজ্ঞান তো মানুষের সৃষ্টি। এটা তো পরিবর্তন হতে পারে। বিজ্ঞানের চেয়ে কোরান অনেক উন্নত ইত্যাদি ইত্যাদি।

এসব চরম মূর্খতার মাঝে ডুবে থাকার জন্যই মুসলিম সম্প্রদায় আজ গর্বিত। মূর্খ মানুষরাই আসলে প্রকৃত সুখী হয় । কথায় আছে  “ignorance is bliss.” – তারা গর্বিত কারন তারা মূর্খ থাকতে চায় এবং তাদের মূর্খতা নিয়ে তাদের গর্ব  ।

Courtesy: Abantika Roy

Leave a comment