ইসলামে ছোঁয়াচে কোন রোগ নেই – নবী মোহাম্মাদ (সঃ) কে নিয়ে মিথ্যাচার

safe_image (2)

ইদানীং একটি খবর এসেছে দৈনিক ইত্তেফাক, ইনকিলাব সহ আরও কিছু পত্রিকায়, যে কোয়ারেন্টাইনের আবিষ্কারক হযরত মুহাম্মদ (সঃ) সেটা যে ভুয়া এবং হাস্যকর, তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। অথচ যারা সত্যিকার ইসলাম জানেনা তারা এগুলো পড়ে বাহবা দেয়, অথচ এই সব খবর যে ইসলাম কে বিকৃত করছে সেদিকে কোন খেয়াল নেই।

তবে হ্যাঁ, নবী মোহাম্মাদ (সঃ) কপি পেস্টের জনক, এটা আমরা স্বীকার করি। ইসলাম ধর্মের অনেক কিছুই ইহুদি এবং পৌত্তলিক ধর্ম থেকে কপি পেস্ট করা। যেমন আজান দেওয়া। কোরানের অনেক অংশ তাওরাত এবং ইঞ্জিল থেকে কপি করা।

দেশের দৈনিক পত্রিকা গুলো আসলে ওয়াজিদের মতোই, crowd -pleaser, অর্থাৎ এরা সত্য মিথ্যার ধার ধারেনা, এরা মানুষ যা চায় তাই বলে তাদের ব্যবসার খাতিরে।

এখন কোন মোডারেট মুসলিম কে যদি বলেন যে ইসলামে বউ পেটানো জায়েজ বা কাফের হত্যা করা জায়েজ তখন তারা বলবে – না না না না না , আপনাকে প্রেক্ষাপট জানতে হবে, আপনাকে সানে নুযূল জানতে হবে, কোরানের অর্থ বোঝা আসলে সহজ নয়, যেখানে কতল কর বা প্রহার কর বলা হয়েছে, সেটা সঠিক “Context” এ আদর কর হয়ে যায়।
.
কিন্তু আপনি যদি বলেন যে কোয়ারেন্টাইনের আবিষ্কারক হযরত মুহাম্মদ (সঃ), তখন তারা এক কথায় বিশ্বাস করবে, কোন প্রেক্ষাপট বা ব্যাখ্যা চাইবে না।

এখন আসলে দেখুন রোগ নিয়ে ইসলামে কি বলে এবং নবী কি বলেছেন। হাদিস থেকে পাওয়া যায় রোগ শোক দিয়ে আল্লাহ্‌ মানুষকে পরীক্ষা করে অথবা আল্লাহ্‌র গজব পড়ে। নবীর কোন ধারনাই ছিল না যে জীবাণু রোগ ঘটায়। তাই কোয়ারেন্টাইনের আবিষ্কারক হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

দৈনিক ইত্তেফাক আবার মার্কিন এক বিজ্ঞানীর রেফারেন্স দিয়ে বলেছে – সর্বপ্রথম কোয়ারেন্টাইন উদ্ভাবন করেন মোহাম্মদ (সা.): এখানে মার্কিন গবেষক ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন এর একটি আর্টিকেলের রেফারেন্স দেওয়া হয়েছে।

https://www.youtube.com/watch?v=OAla-yrWTJ8&fbclid=IwAR3kgHRA7jIOj5ixCnLEHvH880BnuNrDDx_YHSzBFKKLXxfTyThAakavTKo

ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন একজন কট্টর খৃস্টান। তার লেখায় ধর্ম নিয়ে অনেক কিছু পাওয়া যায়। তিনি নবী মোহাম্মাদ (সঃ) কে প্রশংসা করে একটি লেখা লিখেছিলেন যে পরিষ্কার প্রিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয়তা এবং রোগ হলে মানুষের সেবা করা ইত্যাদি নিয়ে লিখেছেন। এটা তার একান্তই ব্যাক্তিগত মতামত। তবে তিনি ইসলাম সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন কি না সন্দেহ আছে।

এখন আমরা দেখি কোরানে এবং হাদিসে কি বলা হয়েছে। বুখারী শরীফে একটি হাদীস, হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি বলেন “সংক্রামক বা ছোঁয়াচে রোগ বলে কিছু নেই”।

আরেকটি হাদিস দেখুন ‘রোগ-ব্যধি (তার নিজস্ব ক্ষমতায়) একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে লেগে যায় না।’ (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৫৭৪২)

আবু হুরাইরা(রা) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসু্লুল্লাহ(ﷺ) বলেছেনঃ সংক্রামক রোগ বলতে কিছু নেই। কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই সফর মাসকেও অশুভ মনে করা যাবে না এবং পেঁচা সম্পর্কে যেসব কথা প্রচলিত রয়েছে(هَامَّةَ) তাও অবান্তর। তখন এক বেদুঈন বললো, হে আল্লাহর রাসুল! আমার উটের পাল অনেক সময় মরুভূমির চারণ ভূমিতে থাকে, মনে হয় যেন নাদুস-নুদুস জংলী হরিণ। অতঃপর সেখানে কোনো একটি চর্মরোগে আক্রান্ত উট এসে আমার সুস্থ উটগুলোর সাথে থেকে এদেরকেও চর্মরোগী বানিয়ে দেয়। তিনি বললেনঃ প্রথম উটটির রোগ সৃষ্টি করলো কে?

ইসলামে ছোঁয়াচে রোগ বলতে কিছুই নেই, সব আল্লার ইচ্ছায় হয়, এটাই বাস্তবতা

Leave a comment